ঢাকা ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সীমান্তে পালানোর পথে খুলনায় ‘বি’ কোম্পানির সন্ত্রাসী মিঠু গ্রেপ্তার ওসমানীনগরে প্রাইভেটকার ও এম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৫ জ্বালানি সংকট নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী তালেবানের পাঁচ বছর: অর্জন, ব্যর্থতা ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিল সরকার সুরিয়ার নতুন রেকর্ড: দুই দিনেই ১০০ কোটির ঘরে ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সনস’ পায়রা নদীতে নিখোঁজের ৩৩ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার গ্রিন ইয়ার্ডের আড়ালে সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে ঝুঁকি ও প্রাণহানি মোংলা বন্দরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে অর্থনৈতিক হাব গড়ার পরিকল্পনা সরকারের শরীয়তপুরে ভুয়া চক্ষু চিকিৎসককে তিন মাসের কারাদণ্ড

সাভারের এসআই নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, তদন্তের নির্দেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রবিবার ভুক্তভোগী মোসা. সুরাইয়া বেগম এই মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির এবং সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়া বেগমের ছেলে শামীম রেজার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ২২ মে তারা শামীমের রিকশার গ্যারেজে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না করায় তারা গ্যারেজ ভাঙচুর করে ১২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা ও ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যান। পরবর্তীতে একটি মামলায় শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে এলে এসআই নিয়ামত উল্লাহ তাকে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শামীম রেজাকে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে নিয়ামত উল্লাহ বিভিন্ন সময় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শামীমের পরিবার দুই দফায় তাকে সাড়ে চার লাখ টাকা প্রদান করে। গত ১০ জুন শামীমকে গ্রেপ্তার করার পর রিমান্ডে নিয়ে এসআই নিয়ামত তার স্ত্রীর কাছে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এছাড়া শামীমকে শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষা করার প্রলোভন দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের দুটি আইফোন হাতিয়ে নেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে নিয়ামত উল্লাহ পছন্দ না হওয়ায় ফোন পরিবর্তন করে নিজের নামে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স নিয়ে নেন।

কারাগারে ছেলের সাথে দেখা করার সময় সুরাইয়া বেগম জানতে পারেন, এসআই নিয়ামত উল্লাহ শামীমের ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোন, ৪২ হাজার টাকা মূল্যের একটি আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নিয়ামত উল্লাহ মোবাইল ফোনগুলো ফেরত দিলেও টাকা ও আংটি রেখে দেন। পাশাপাশি শামীমের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ভয় দেখিয়ে আরও ৭৩ হাজার টাকা আদায় করেন তিনি। গত ২৬ জুন অপর দুই আসামি পুনরায় শামীমের বাড়িতে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভার মডেল থানার এসআই নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

সাভারের এসআই নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা, তদন্তের নির্দেশ

আপডেট সময় : ১১:৫৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রবিবার ভুক্তভোগী মোসা. সুরাইয়া বেগম এই মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে পুরো বিষয়টি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির এবং সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়া বেগমের ছেলে শামীম রেজার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ২২ মে তারা শামীমের রিকশার গ্যারেজে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না করায় তারা গ্যারেজ ভাঙচুর করে ১২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন এবং নগদ ৯০ হাজার টাকা ও ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল নিয়ে যান। পরবর্তীতে একটি মামলায় শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে এলে এসআই নিয়ামত উল্লাহ তাকে রিমান্ডে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শামীম রেজাকে মামলা ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে নিয়ামত উল্লাহ বিভিন্ন সময় টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শামীমের পরিবার দুই দফায় তাকে সাড়ে চার লাখ টাকা প্রদান করে। গত ১০ জুন শামীমকে গ্রেপ্তার করার পর রিমান্ডে নিয়ে এসআই নিয়ামত তার স্ত্রীর কাছে আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এছাড়া শামীমকে শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষা করার প্রলোভন দেখিয়ে তার পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের দুটি আইফোন হাতিয়ে নেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে নিয়ামত উল্লাহ পছন্দ না হওয়ায় ফোন পরিবর্তন করে নিজের নামে আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স নিয়ে নেন।

কারাগারে ছেলের সাথে দেখা করার সময় সুরাইয়া বেগম জানতে পারেন, এসআই নিয়ামত উল্লাহ শামীমের ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোন, ৪২ হাজার টাকা মূল্যের একটি আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নিয়ামত উল্লাহ মোবাইল ফোনগুলো ফেরত দিলেও টাকা ও আংটি রেখে দেন। পাশাপাশি শামীমের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ভয় দেখিয়ে আরও ৭৩ হাজার টাকা আদায় করেন তিনি। গত ২৬ জুন অপর দুই আসামি পুনরায় শামীমের বাড়িতে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভার মডেল থানার এসআই নিয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের একাধিক অভিযোগ গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy