সুন্দরবন ভ্রমণে জাবি ছাত্রীদের যৌন হেনস্তা ও মারধর, গ্রেপ্তার ২
- আপডেট সময় : ০৯:১২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবন ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে বাগেরহাটের ফকিরহাটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হেনস্তা, মারধর ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীদের এক সহপাঠী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সুজন মোড়ল (৩৪) ও হুমায়ুন কবীর ওরফে কবীর ফরাজী (৫৭) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী মোড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী ও তাঁর স্বামীসহ সুন্দরবন ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ভ্রমণ শেষে মোংলা থেকে একটি মাহেন্দ্র গাড়িতে চড়ে তারা কাটাখালী মোড়ে পৌঁছান এবং সেখান থেকে যশোর যাওয়ার উদ্দেশ্যে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, এক নারী শিক্ষার্থীর কাছে পর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকায় তিনি তাঁর রুমমেটকে সঙ্গে নিয়ে কাটাখালী মোড়ের পুলিশ বক্সের পাশে দিগন্ত পরিবহনের কাউন্টারের সামনে যান বিকাশ থেকে টাকা তুলতে। সেখানে হুমায়ুন কবীর ওই ছাত্রীকে লক্ষ্য করে অশালীন মন্তব্য করেন এবং তাঁর পোশাক নিয়ে কটূক্তি করেন। এর প্রতিবাদ জানালে হুমায়ুন কবীর হাতে জুতো নিয়ে তাকে ভয় দেখান। এ সময় সুজন মোড়লও তাদের উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তদের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে চরম উত্তেজিত আচরণ করেন। একপর্যায়ে হুমায়ুন কবীর এক ছাত্রীর নাকে সজোরে ঘুসি মেরে রক্তাক্ত জখম করেন এবং অন্য এক ছাত্রীর স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে আহত করেন। এছাড়া সুজন মোড়ল চারুকলা বিভাগের এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের হুমকি দেন এবং গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
এ ঘটনায় রোববার রাত ১০টার দিকে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুজন মোড়ল ও হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

























