ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে নিয়োগ বঞ্চিতদের আমরণ অনশন দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে বিলীন বেড়িবাঁধ, আতঙ্কে স্থানীয়রা ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ৩০০ ছাড়াল, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২১৯৩ জন ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সোমবার বৈঠকে বসছে ইসি কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যায় সিএনজিচালক গ্রেপ্তার, রয়ে গেছে নানা প্রশ্ন জিবুতি উপকূলে নৌকাডুবি: ১৫ শিশুসহ ১০৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু জয়পুরহাটে বিজিবির অভিযানে ৭৬৮ বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার চার মূল্যস্তরে ১২ দামে ৫৩ ব্র্যান্ডের সিগারেট, করের প্রভাব কমার শঙ্কা শেরেবাংলা নগরে সরবে সচিবালয়, চূড়ান্ত হলো নতুন নকশা শিক্ষার্থীদের অর্জনের পেছনে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প: মাহদী আমিন

চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোয় কিছুটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে, তবে তা পূরণ করা সম্ভব বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ কৃষি খাতে যায়, যা তুলনামূলকভাবে কম। নতুন এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে কৃষি ঋণের হার মোট ঋণের ৪ শতাংশে উন্নীত হবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ও বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বিতরণ করবে। ব্যাংকগুলোকে তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রার অন্তত ৫০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে এবং বাকিটা তৃতীয় কোনো লিংকেজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেওয়া যাবে।

কৃষি ঋণ নীতিমালায় বেশ কিছু নতুন সুবিধা ও খাত যুক্ত করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং আড়াই একর জমিতে লবণ চাষের ঋণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ডকুমেন্টেশন বা সেবা ফি নেওয়া যাবে না। এছাড়া ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে কোনো জামানতের প্রয়োজন হবে না। নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে সামাজিক ও দলগত জামানতের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার আওতায় শিমুল মূল, অশ্বগন্ধা, মিশ্রি দানা, রোজেলা, শতমূল, গাছ আলু, ব্লু বেরি ও ডিমের খোসা থেকে জৈব সার উৎপাদন এবং হ্যাচারিতে হাঁস-মুরগি ও মাছের বাচ্চা উৎপাদন ও উট পালনকেও ঋণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি ছিল। ওই বছর লক্ষ্যমাত্রার ১০৯.৮৩ শতাংশ অর্থাৎ ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয় এবং ৩৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৩ জন কৃষক এই ঋণের সুবিধা পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও কৃষি ঋণ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

চলতি অর্থবছরে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ বেশি। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোয় কিছুটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে, তবে তা পূরণ করা সম্ভব বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ কৃষি খাতে যায়, যা তুলনামূলকভাবে কম। নতুন এই লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়িত হলে কৃষি ঋণের হার মোট ঋণের ৪ শতাংশে উন্নীত হবে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ও বিশেষায়িত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলো ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা বিতরণ করবে। ব্যাংকগুলোকে তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রার অন্তত ৫০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে এবং বাকিটা তৃতীয় কোনো লিংকেজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেওয়া যাবে।

কৃষি ঋণ নীতিমালায় বেশ কিছু নতুন সুবিধা ও খাত যুক্ত করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং আড়াই একর জমিতে লবণ চাষের ঋণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ডকুমেন্টেশন বা সেবা ফি নেওয়া যাবে না। এছাড়া ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে কোনো জামানতের প্রয়োজন হবে না। নারী ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য জমি বা স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে সামাজিক ও দলগত জামানতের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নতুন নীতিমালার আওতায় শিমুল মূল, অশ্বগন্ধা, মিশ্রি দানা, রোজেলা, শতমূল, গাছ আলু, ব্লু বেরি ও ডিমের খোসা থেকে জৈব সার উৎপাদন এবং হ্যাচারিতে হাঁস-মুরগি ও মাছের বাচ্চা উৎপাদন ও উট পালনকেও ঋণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত কৃষক যাচাইয়ের ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি ছিল। ওই বছর লক্ষ্যমাত্রার ১০৯.৮৩ শতাংশ অর্থাৎ ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা বিতরণ করা হয় এবং ৩৭ লাখ ৭৭ হাজার ২৩৩ জন কৃষক এই ঋণের সুবিধা পেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও কৃষি ঋণ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin