দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে বিলীন বেড়িবাঁধ, আতঙ্কে স্থানীয়রা
- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

খুলনার দাকোপ উপজেলায় ঢাকী নদীর ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীভাঙনের কবলে পড়ে ওয়াপদার বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে বড় ধরনের ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গত ১১ অক্টোবর, রোববার বটবুনিয়ার মোল্লাবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৪০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত তিন দশক ধরে তারা এই ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছেন। দীর্ঘ এই সময়ে ভাঙনের ফলে অনেকের বসতবাড়ি এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ জানান, প্রতি বছরই বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকার ঘটনা ঘটে। পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবুর তথ্যমতে, গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লাবাড়ির সামনে বাঁধে ফাটল দেখা দেয় এবং এরই মধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে তলিয়ে গেছে।
ভাঙনের তীব্রতা দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এছাড়াও জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের সময় বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে গিয়েছিল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণে বারবার বাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটছে। তারা পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয়দের দাবি, কেবল জরুরি সংস্কার নয়, নদীভাঙন ঠেকাতে টেকসই পদক্ষেপ প্রয়োজন। এ বিষয়ে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু জানিয়েছেন, পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খুলনা পাউবোর বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে এবং শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু করা হবে।



























