ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওমরাহ ভিসায় সৌদিতে প্রবেশের নতুন নিয়ম ও শর্তাবলী জারি অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে ব্রডের মজা, ওয়ার্নারের পাল্টা বার্তা ‘বাংলাদেশকে ছোট কোরো না’ হবিগঞ্জে বিক্ষোভের প্রস্তুতিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিবসহ আটক ৩ ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গাজীপুরের দুই বন্ধুর মৃত্যু গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে গণমাধ্যমের কাঠামোগত রূপান্তর জরুরি: তথ্যমন্ত্রী কাপ্তাই প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি, সভাপতি কবির সম্পাদক ঝুলন সরকারি দপ্তরে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালুর ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর সরকারি নথিতে প্রথমবারের মতো নবম পে স্কেলের বিস্তারিত তথ্য ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সুনামগঞ্জের ৮ যুবক, পরিবারে চলছে শোকের মাতম উপসচিব পদে ২৭৭ কর্মকর্তার পদোন্নতি

রংপুরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫ ২৭০ বার পড়া হয়েছে

রংপুরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

রংপুর জেলায় ১৩ লাখ গরু রয়েছে। গরু থেকে মানবদেহে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এখনো ১০ লাখের বেশি গরু ভ্যাকসিনের আওতার বাইরে রয়েছে। অ্যানথ্রাক্সে যে পরিমাণ গরু মারা গেছে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করায়। অসুস্থ গরুর মাংস থেকে রংপুরে এ পর্যন্ত অর্ধশত মানুষের দেহে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে কয়েক শতাধিক গরুর দেহেও অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু পাওয়া গেছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের দাবি, অ্যানথ্রাক্সে ৮-১০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কমপক্ষে শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের সূত্রমতে, রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় প্রতিদিন ২৫০টি গরু জবাই করা হয়। অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে অনেকে তাদের পশু অসুস্থ হলেই জবাই করে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।

জবাই করা গরুর মাংস খেয়ে রংপুরের ৩ উপজেলায় পশুবাহিত রোগ অ্যানথ্রাক্স মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছে। পীরগাছা, মিঠাপুকুর ও কাউনিয়া উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞরা জেলার পীরগাছার ৮ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছেন। কাউনিয়ায় ৩ জন, মিঠাপুকুরে ৪ জনের দেহে অ্যানথ্রাক্স শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা থেকে আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধিদল পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেছে। পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেনি, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছেন এরকম ২০ জন রোগীর তথ্য আছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগে।রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গাউসুল আজিম চৌধুরী জানিয়েছেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। নমুনা পরীক্ষা করে বেশ কয়েকজনের দেহে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. আবদুল হাই সরকার অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে জানান, যে পরিমাণ গরু অ্যানথ্রাক্সে মারা গেছে তার চেয়ে কয়েক গুণ গরু অসুস্থ অবস্থায় জবাই করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে রোগটি মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রংপুরে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স

আপডেট সময় : ১১:৪৯:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:

রংপুর জেলায় ১৩ লাখ গরু রয়েছে। গরু থেকে মানবদেহে অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ায় নড়েচড়ে বসেছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও স্বাস্থ্য বিভাগ। অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭০ হাজার গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এখনো ১০ লাখের বেশি গরু ভ্যাকসিনের আওতার বাইরে রয়েছে। অ্যানথ্রাক্সে যে পরিমাণ গরু মারা গেছে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করায়। অসুস্থ গরুর মাংস থেকে রংপুরে এ পর্যন্ত অর্ধশত মানুষের দেহে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে কয়েক শতাধিক গরুর দেহেও অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু পাওয়া গেছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের দাবি, অ্যানথ্রাক্সে ৮-১০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কমপক্ষে শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগের সূত্রমতে, রংপুর জেলার ৮ উপজেলায় প্রতিদিন ২৫০টি গরু জবাই করা হয়। অ্যানথ্রাক্স আতঙ্কে অনেকে তাদের পশু অসুস্থ হলেই জবাই করে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।

জবাই করা গরুর মাংস খেয়ে রংপুরের ৩ উপজেলায় পশুবাহিত রোগ অ্যানথ্রাক্স মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছে। পীরগাছা, মিঠাপুকুর ও কাউনিয়া উপজেলায় অ্যানথ্রাক্স উপসর্গের রোগী পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞরা জেলার পীরগাছার ৮ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করেছেন। কাউনিয়ায় ৩ জন, মিঠাপুকুরে ৪ জনের দেহে অ্যানথ্রাক্স শনাক্তের খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা থেকে আইইডিসিআরের একটি প্রতিনিধিদল পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলায় উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করেছে। পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেনি, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছেন এরকম ২০ জন রোগীর তথ্য আছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগে।রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গাউসুল আজিম চৌধুরী জানিয়েছেন, অ্যানথ্রাক্স নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। নমুনা পরীক্ষা করে বেশ কয়েকজনের দেহে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. আবদুল হাই সরকার অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে জানান, যে পরিমাণ গরু অ্যানথ্রাক্সে মারা গেছে তার চেয়ে কয়েক গুণ গরু অসুস্থ অবস্থায় জবাই করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে রোগটি মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছে।