ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো প্রিয়াঙ্কা-নিকের প্রথম বার্তার স্ক্রিনশট, প্রেমের শুরু যেভাবে নেত্রকোনায় ট্রেনের ধাক্কায় পোশাককর্মীর মৃত্যু লামিন ইয়ামালের প্রেমিকা ইনেস গার্সিয়া কে, জানুন বিস্তারিত নীলফামারীর চিলাহাটিতে গড়ে উঠেছে পাখির অভয়ারণ্য ইরানের বিভিন্ন শহরে মার্কিন হামলা, নিহত ৮ ও ক্ষতিগ্রস্ত ৫ সেতু বিশ্বকাপ বিজয়ীদের জন্য ফিফা চালু করছে বিশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ রিং সিরিয়ায় মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের আকস্মিক হামলা মার্কিন হামলার পাল্টা জবাব দিল ইরান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ বন্যায় ঘরহারা দুই বৃদ্ধার আশ্রয় নিয়ে দুশ্চিন্তা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন মালিক-চালক ও যাত্রীর সম্মিলিত সচেতনতা

নীলফামারীর চিলাহাটিতে গড়ে উঠেছে পাখির অভয়ারণ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন আর কেবল একটি সাধারণ গ্রাম নয়, এটি সবার কাছে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় সাড়ে ৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল বাঁশঝাড়ে সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু ও শালিকসহ নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই পাখিরা এখানে নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে। সবুজে ঘেরা বাঁশঝাড়ের প্রতিটি ডালপালায় পাখিদের বিচরণ চলে দিনভর। ভোরের কিচিরমিচির আর সন্ধ্যায় হাজার হাজার পাখির ডানার শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বাঁশঝাড়ের মালিক মাজেদুল ইসলাম জানান, তাদের পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম ধরে এই পাখিদের আশ্রয়স্থলটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তার দাদার সময় থেকেই তারা এই পাখিগুলোকে দেখে আসছেন এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন যেন কেউ পাখিদের ক্ষতি করতে না পারে। তবে বর্তমানে অসাধু শিকারিদের তৎপরতা ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি এলাকাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে, তবে পাখি নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনতাজ আলী জানান, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা এই অভয়ারণ্য দেখতে ভিড় করেন। গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে পাখিগুলোকে বিরক্ত না করার বিষয়ে সচেষ্ট থাকেন। দর্শনার্থী আলম হোসেনের মতে, এখানে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক দর্শনার্থী দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারেন না। সরকারি উদ্যোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে এটি দেশের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির অভয়ারণ্যটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সেখানে পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে এলাকাটিকে আরও পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করার বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

নীলফামারীর চিলাহাটিতে গড়ে উঠেছে পাখির অভয়ারণ্য

আপডেট সময় : ০২:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
print news

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন আর কেবল একটি সাধারণ গ্রাম নয়, এটি সবার কাছে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় সাড়ে ৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল বাঁশঝাড়ে সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু ও শালিকসহ নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই পাখিরা এখানে নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে। সবুজে ঘেরা বাঁশঝাড়ের প্রতিটি ডালপালায় পাখিদের বিচরণ চলে দিনভর। ভোরের কিচিরমিচির আর সন্ধ্যায় হাজার হাজার পাখির ডানার শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বাঁশঝাড়ের মালিক মাজেদুল ইসলাম জানান, তাদের পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম ধরে এই পাখিদের আশ্রয়স্থলটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তার দাদার সময় থেকেই তারা এই পাখিগুলোকে দেখে আসছেন এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন যেন কেউ পাখিদের ক্ষতি করতে না পারে। তবে বর্তমানে অসাধু শিকারিদের তৎপরতা ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি এলাকাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে, তবে পাখি নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনতাজ আলী জানান, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা এই অভয়ারণ্য দেখতে ভিড় করেন। গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে পাখিগুলোকে বিরক্ত না করার বিষয়ে সচেষ্ট থাকেন। দর্শনার্থী আলম হোসেনের মতে, এখানে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক দর্শনার্থী দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারেন না। সরকারি উদ্যোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে এটি দেশের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির অভয়ারণ্যটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সেখানে পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে এলাকাটিকে আরও পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করার বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy