ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারত-জাপান ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন তৈরি হলো বিতর্ক জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ২০ টাকা বাড়ানোর বিকল্প যেখানে ছিল মহেশখালীতে ঘুরতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী যুবক নিহত গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকে কীভাবে: প্রশ্ন টিআইবির ভিয়েতনামি কালো ধানে বোচাগঞ্জে নতুন স্বপ্নের পথে রকিবুল বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তুলে ধরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানিতে এখনো পিছিয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে এশিয়ান গেমসে আবারও সোনা জিতল ভারতের মেয়েরা রেফারি মন্তব্যে শাস্তি থেকে বাঁচলেন রিয়াল কোচ মরিনিও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নিলে রুট পারমিট বাতিল হবে: সড়কমন্ত্রী

নীলফামারীর চিলাহাটিতে গড়ে উঠেছে পাখির অভয়ারণ্য

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন আর কেবল একটি সাধারণ গ্রাম নয়, এটি সবার কাছে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় সাড়ে ৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল বাঁশঝাড়ে সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু ও শালিকসহ নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই পাখিরা এখানে নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে। সবুজে ঘেরা বাঁশঝাড়ের প্রতিটি ডালপালায় পাখিদের বিচরণ চলে দিনভর। ভোরের কিচিরমিচির আর সন্ধ্যায় হাজার হাজার পাখির ডানার শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বাঁশঝাড়ের মালিক মাজেদুল ইসলাম জানান, তাদের পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম ধরে এই পাখিদের আশ্রয়স্থলটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তার দাদার সময় থেকেই তারা এই পাখিগুলোকে দেখে আসছেন এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন যেন কেউ পাখিদের ক্ষতি করতে না পারে। তবে বর্তমানে অসাধু শিকারিদের তৎপরতা ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি এলাকাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে, তবে পাখি নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনতাজ আলী জানান, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা এই অভয়ারণ্য দেখতে ভিড় করেন। গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে পাখিগুলোকে বিরক্ত না করার বিষয়ে সচেষ্ট থাকেন। দর্শনার্থী আলম হোসেনের মতে, এখানে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক দর্শনার্থী দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারেন না। সরকারি উদ্যোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে এটি দেশের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির অভয়ারণ্যটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সেখানে পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে এলাকাটিকে আরও পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করার বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

নীলফামারীর চিলাহাটিতে গড়ে উঠেছে পাখির অভয়ারণ্য

আপডেট সময় : ০২:৩০:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটির পশ্চিম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামটি এখন আর কেবল একটি সাধারণ গ্রাম নয়, এটি সবার কাছে ‘পাখির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রায় সাড়ে ৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল বাঁশঝাড়ে সাদা বক, পানকৌড়ি, রাতচরা, ঘুঘু ও শালিকসহ নানা প্রজাতির পাখির নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই পাখিরা এখানে নির্বিঘ্নে বসবাস করে আসছে। সবুজে ঘেরা বাঁশঝাড়ের প্রতিটি ডালপালায় পাখিদের বিচরণ চলে দিনভর। ভোরের কিচিরমিচির আর সন্ধ্যায় হাজার হাজার পাখির ডানার শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বাঁশঝাড়ের মালিক মাজেদুল ইসলাম জানান, তাদের পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম ধরে এই পাখিদের আশ্রয়স্থলটি সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তার দাদার সময় থেকেই তারা এই পাখিগুলোকে দেখে আসছেন এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন যেন কেউ পাখিদের ক্ষতি করতে না পারে। তবে বর্তমানে অসাধু শিকারিদের তৎপরতা ও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে পাখির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকার যদি এলাকাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে, তবে পাখি নিধন পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হতো।

স্থানীয় বাসিন্দা মোনতাজ আলী জানান, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা এই অভয়ারণ্য দেখতে ভিড় করেন। গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে পাখিগুলোকে বিরক্ত না করার বিষয়ে সচেষ্ট থাকেন। দর্শনার্থী আলম হোসেনের মতে, এখানে বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক দর্শনার্থী দীর্ঘক্ষণ থাকতে পারেন না। সরকারি উদ্যোগে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে এটি দেশের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, চিলাহাটির এই পাখির অভয়ারণ্যটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সেখানে পুকুর খননসহ কিছু সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বনবিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাথে সমন্বয় করে এলাকাটিকে আরও পর্যটনবান্ধব ও নিরাপদ করার বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy