বাজার আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করল ইইউ

- আপডেট সময় : ০৩:২৪:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সার্চ ইঞ্জিনের বাজারে নিজেদের একচেতিয়া প্রভাব খাটিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষতি করার অভিযোগে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলকে ১০০ কোটি ডলার জরিমানা করেছে ইউরোপীয় কমিশন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট (ডিএমএ) লঙ্ঘনের দায়ে এই বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজার আধিপত্য নিয়ন্ত্রণে ইইউর নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপের প্রতিযোগিতা নীতিকে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে এই জরিমানাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, মার্কিন পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ কিংবা ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান কোনো বাণিজ্য বিরোধের সঙ্গে এই জরিমানার কোনো সম্পর্ক নেই।
ইউরোপীয় কমিশনের অভিযোগ, গুগল তাদের সার্চ ইঞ্জিনের আধিপত্যকে অন্যায্যভাবে ব্যবহার করে নিজস্ব শপিং, ভ্রমণ ও গেমসের মতো বিভিন্ন সেবাকে সার্চ ফলাফলের ওপরের দিকে দেখিয়েছে। এর ফলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবা নিচে চলে গেছে এবং ব্যবহারকারীদের কাছে সেগুলোর দৃশ্যমানতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এছাড়া গুগলের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় অভিযোগ হলো, তারা প্লে স্টোরের অ্যাপ নির্মাতাদের বিকল্প পেমেন্ট বা অর্থপ্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের জানাতে বাধা দিয়েছে। এতে অ্যাপ নির্মাতারা গুগলের অতিরিক্ত কমিশন এড়াতে কম খরচে বিকল্প উপায়ে সেবা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন。
কমিশন তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া ডিএমএ-এর অধীনে ‘গেটকিপার’ হিসেবে চিহ্নিত বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সেবাকে তৃতীয় পক্ষের তুলনায় অতিরিক্ত বা বিশেষ সুবিধা দিতে পারবে না। সার্চ র্যাংকিং ও তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং বৈষম্যহীন নীতি মেনে চলতে হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রতিযোগিতা নীতি বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা এ বিষয়ে বলেন, ‘কোনো পণ্য বা সেবা শুধু একটি সার্চ ইঞ্জিন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন হওয়ার কারণে নয়, বরং প্রকৃতপক্ষে উন্নত হওয়ার কারণেই সফল হওয়া উচিত। ডিজিটাল বাজারে ইউরোপীয় নাগরিকদের জন্য ন্যায্যতা, পছন্দের স্বাধীনতা এবং উদ্ভাবন নিশ্চিত করাই ডিএমএ-এর মূল লক্ষ্য।’
কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, গুগলকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এই সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের বৈশ্বিক বার্ষিক আয়ের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।
তবে ইউরোপীয় কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আইনি পরামর্শক কেন্ট ওয়াকার দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে না, বরং সেবার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, ‘এটি ন্যায্য প্রতিযোগিতার বিষয় নয়; বরং ভালো সেবাকে দুর্বল করার চেষ্টা। নিয়ন্ত্রকদের কাজ হওয়া উচিত পণ্যের মান উন্নত করা, কমিয়ে দেওয়া নয়।’
সম্প্রতি প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ প্রান্তিকে গুগলের মুনাফা হয়েছে ১১ হাজার ২১০ কোটি ডলার। সেই তুলনায় ইউরোপীয় কমিশনের ১০০ কোটি ডলারের এই জরিমানা গুগলের ত্রৈমাসিক মুনাফার ১ শতাংশেরও কম।
উল্লেখ্য, গুগলের বিরুদ্ধে ইইউর এমন বড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৮ সালে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের দায়ে গুগলকে ৪৭০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছিল, যার বিরুদ্ধে করা চূড়ান্ত আপিলেও চলতি মাসের শুরুতে হেরে যায় প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ২০১৭ সালে অনলাইন শপিং সার্চে একচেতিয়া আধিপত্যের অপব্যবহারের অভিযোগে গুগলকে আরও ২৮০ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়, যা ২০২৪ সালে আপিলের পরও বহাল থাকে।




























