ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মার্কিন ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার অধিকার রাখে ইরান আ.লীগের ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্যোগের সময় মহান আল্লাহর আশ্রয় ও ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব তাকলামাকান মরুভূমিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তাইওয়ানের নকল বানিয়ে চীনের মহড়া মঙ্গলের অভিজ্ঞতা পেতে স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে নাসা নেত্রকোনায় লাইব্রেরির জমি থেকে আ.লীগের কার্যালয় উচ্ছেদ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে কেন প্রতিপক্ষ হিসেবে চান স্পেনের কোচ শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন সব সরকারি সুবিধা এক কার্ডে আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্ব দিয়ে বদলি

মঙ্গলের অভিজ্ঞতা পেতে স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে নাসা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা এমন একটি বিশেষ সিমুলেশন মিশন শুরু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে পৃথিবীতে বসেই মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণের বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে মানুষ যখন আরও দূরের গ্রহে পাড়ি দেবে, তখন তাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। নাসার এই নতুন মিশনের নাম ‘মুন অ্যান্ড মার্স এক্সপ্লোরেশন অ্যানালগ’, যা ২০২৭ সালের আগস্ট মাসে শুরু হবে। এই অভিযানের জন্য নাসা বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে।

হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে অবস্থিত গবেষণাগারে এই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি আবদ্ধ পরিবেশে থাকবেন। এই মিশনটি নাসার পূর্ববর্তী দুটি সফল প্রজেক্ট ‘হেরা’ (HERA) এবং ‘চাপিয়া’ (CHAPEA)-এর অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তৈরি। হেরা মিশনের মাধ্যমে মহাকাশে মানুষের মানসিক প্রভাব এবং চাপিয়া মিশনের মাধ্যমে কৃত্রিম মঙ্গলের পরিবেশে মানুষের টিকে থাকার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল।

মিশনে মঙ্গলের ভ্রমণের বিভিন্ন ধাপের অভিজ্ঞতার জন্য একাধিক কাঠামো ব্যবহার করা হবে। পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যাওয়ার সময় মহাকাশযানের ভেতরের পরিবেশ কেমন হবে, তা বোঝাতে ‘ট্রানজিট ভেহিকেল’ নামের একটি দ্বিতল বাসস্থান ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, মঙ্গলের মাটিতে বসবাসের অভিজ্ঞতার জন্য থ্রিডি-প্রিন্টারে তৈরি একটি একতলা ঘর থাকবে, যেখানে শোবার ঘর, রান্নাঘর, ফসল চাষের এলাকা ও চিকিৎসা কক্ষের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ভিনগ্রহের মাটিতে হাঁটার অভিজ্ঞতা দিতে বাইরের বালুঘেরা বিশেষ জায়গা এবং গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য রোভার মডিউলও থাকবে।

এই মিশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য নাসার হিউম্যান রিসার্চ প্রোগ্রামে ব্যবহৃত হবে, যা মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এছাড়া চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি ও ভবিষ্যতের আর্টেমিস অভিযানের জন্য এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইএফএল সায়েন্সের তথ্যমতে, ২০০ বছরের পুরোনো দেহাবশেষের মতো প্রাচীন গবেষণার প্রেক্ষাপটও মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

এই মিশনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং উচ্চতা ১.৯ মিটার বা ৭৪ ইঞ্চির বেশি হওয়া চলবে না। অংশগ্রহণকারীদের ইঞ্জিনিয়ারিং, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান বা গণিতে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে, তবে উচ্চতর ডিগ্রি বা মাস্টার্স করা থাকলে তারা অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, অ্যালার্জিহীন জীবনযাপন এবং ঘুমের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস না থাকার মতো কঠোর শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। বাছাইকৃত স্বেচ্ছাসেবকদের ১২ মাস এই কৃত্রিম পরিবেশে থাকার পাশাপাশি মিশনের আগে ও পরে দুই মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজে অংশ নিতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মঙ্গলের অভিজ্ঞতা পেতে স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে নাসা

আপডেট সময় : ১০:১৯:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
print news

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা এমন একটি বিশেষ সিমুলেশন মিশন শুরু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে পৃথিবীতে বসেই মঙ্গল গ্রহে ভ্রমণের বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে মানুষ যখন আরও দূরের গ্রহে পাড়ি দেবে, তখন তাদের সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। নাসার এই নতুন মিশনের নাম ‘মুন অ্যান্ড মার্স এক্সপ্লোরেশন অ্যানালগ’, যা ২০২৭ সালের আগস্ট মাসে শুরু হবে। এই অভিযানের জন্য নাসা বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে।

হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে অবস্থিত গবেষণাগারে এই পুরো কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা বাইরের জগত থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি আবদ্ধ পরিবেশে থাকবেন। এই মিশনটি নাসার পূর্ববর্তী দুটি সফল প্রজেক্ট ‘হেরা’ (HERA) এবং ‘চাপিয়া’ (CHAPEA)-এর অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তৈরি। হেরা মিশনের মাধ্যমে মহাকাশে মানুষের মানসিক প্রভাব এবং চাপিয়া মিশনের মাধ্যমে কৃত্রিম মঙ্গলের পরিবেশে মানুষের টিকে থাকার বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল।

মিশনে মঙ্গলের ভ্রমণের বিভিন্ন ধাপের অভিজ্ঞতার জন্য একাধিক কাঠামো ব্যবহার করা হবে। পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যাওয়ার সময় মহাকাশযানের ভেতরের পরিবেশ কেমন হবে, তা বোঝাতে ‘ট্রানজিট ভেহিকেল’ নামের একটি দ্বিতল বাসস্থান ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে, মঙ্গলের মাটিতে বসবাসের অভিজ্ঞতার জন্য থ্রিডি-প্রিন্টারে তৈরি একটি একতলা ঘর থাকবে, যেখানে শোবার ঘর, রান্নাঘর, ফসল চাষের এলাকা ও চিকিৎসা কক্ষের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ভিনগ্রহের মাটিতে হাঁটার অভিজ্ঞতা দিতে বাইরের বালুঘেরা বিশেষ জায়গা এবং গবেষণার কাজে ব্যবহারের জন্য রোভার মডিউলও থাকবে।

এই মিশনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য নাসার হিউম্যান রিসার্চ প্রোগ্রামে ব্যবহৃত হবে, যা মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। এছাড়া চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি ও ভবিষ্যতের আর্টেমিস অভিযানের জন্য এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইএফএল সায়েন্সের তথ্যমতে, ২০০ বছরের পুরোনো দেহাবশেষের মতো প্রাচীন গবেষণার প্রেক্ষাপটও মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করে।

এই মিশনে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হতে হবে। আবেদনকারীর বয়স ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং উচ্চতা ১.৯ মিটার বা ৭৪ ইঞ্চির বেশি হওয়া চলবে না। অংশগ্রহণকারীদের ইঞ্জিনিয়ারিং, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান বা গণিতে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে, তবে উচ্চতর ডিগ্রি বা মাস্টার্স করা থাকলে তারা অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, অ্যালার্জিহীন জীবনযাপন এবং ঘুমের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস না থাকার মতো কঠোর শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। বাছাইকৃত স্বেচ্ছাসেবকদের ১২ মাস এই কৃত্রিম পরিবেশে থাকার পাশাপাশি মিশনের আগে ও পরে দুই মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজে অংশ নিতে হবে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo