অস্ট্রেলিয়ায় বাউন্স ও গতির পরীক্ষা, সেশন ধরে লড়াইয়ের লক্ষ্য শান্তর
- আপডেট সময় : ০৮:১৯:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ দল। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে বাংলাদেশের লক্ষ্য কেবল টিকে থাকা নয়, বরং নতুন এক ইতিহাস গড়া। ম্যাচ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে ফুটে উঠেছে সেই প্রত্যয়। প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হার এবং মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার তিক্ত স্মৃতি পেছনে ফেলে মূল লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
প্রস্তুতি ম্যাচের বিপর্যয় টেস্টে প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক শান্ত জানান, প্রস্তুতি ম্যাচের ফল আসল লড়াইয়ের পরিমাপক নয়। তারা প্রতিটি সেশন ধরে এগোতে চান। শান্ত বলেন, "আমরা তো খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচদিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই, প্রতিটি সেশন বাই সেশন খেলতে চাই, আমরা যেটা সব সময় বলি।" ম্যাচটি কতদিন স্থায়ী হবে—তিন দিন নাকি পাঁচ দিন, তা নিয়ে ড্রেসিংরুমে কোনো আলোচনা নেই। তাদের মূল মনোযোগ কেবল মাঠে ভালো ক্রিকেট খেলার ওপর।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন উইকেট এবং অস্ট্রেলিয়ার গতিময় বোলিং আক্রমণ বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন বলের চ্যালেঞ্জ সামলানোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন শান্ত। তিনি বলেন, নতুন বলে সব জায়গায় চ্যালেঞ্জ থাকে, এখানে হয়তো একটু বেশি থাকবে। তবে ব্যাটারদের নিজেদের সহজাত খেলা খেলার এবং রানের জন্য খেলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। অধিনায়কের মতে, অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রেখে ব্যাটিং করাটাই হবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস নিয়ে শান্ত বলেন, কাউকেই আলাদা করে প্রেরণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বড় স্কোর বা ৫ উইকেট নেওয়ার মতো ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যেমন দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তেমনি খেলোয়াড়দের নিজেদের এবং দলের ভবিষ্যতের জন্যও তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সিরিজে ভালো করতে দলের সবাই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী বলে জানান তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছেন লিটন দাস। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরেছেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। প্রস্তুতি ম্যাচ না খেললেও প্রথম টেস্টের জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যা দলের ব্যাটিং গভীরতা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে দলে কিছু ছোটখাটো চোটের সমস্যা থাকায় ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত চূড়ান্ত একাদশ নির্ধারণ করা যায়নি। অন্যদিকে, পেসার শরিফুল ইসলাম ফিটনেস টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং ভালো বোলিং করছেন। দ্বিতীয় টেস্টে তার খেলার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অধিনায়ক।
২০০৩ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। প্রায় দুই দশক আগের সেই পুরোনো ইতিহাস ভুলে ডারউইনের বাউন্স ও অস্ট্রেলিয়ার গতির মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের ওপর অটুট বিশ্বাস রেখে লড়াই করতে চায় শান্তর দল। এখন কেবল ২২ গজে সেই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের অপেক্ষা।



























