ঢাকা ০৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চট্টগ্রাম বন্দরে ছবি ও ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কর্তৃপক্ষ ঈশ্বরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস দৌলতখানে গ্রামীণ সড়ক মাস্টারপ্ল্যান ও তথ্য যাচাই বিষয়ক কর্মশালা আনোয়ারায় অস্ত্র হাতে ভাইরাল ও ছাত্র আন্দোলনে হামলার আসামি শিবলু গ্রেপ্তার স্ত্রীকে ভারতে পাচারের চেষ্টা: স্বামীসহ গ্রেপ্তার ৪ বিটিএমএ নেতাদের সঙ্গে জামায়াত আমিরের মতবিনিময়, সমাধানের আশ্বাস রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ আট মাস পর ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরলো যমুনা সার কারখানা নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার নেছারাবাদে ১ কেজি গাঁজাসহ ডিবি পুলিশের হাতে যুবক গ্রেপ্তার

৬৪ দলের বিশ্বকাপ কি বাস্তবায়ন করতে পারবেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৬:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



৩৯ দিনের দীর্ঘ মহোৎসবের পর স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নেমেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে এই বিশ্বকাপের আয়োজন করে। ছোটখাটো কিছু ঘটনা বাদে আয়োজক দেশগুলোর এই উদ্যোগকে সফল বলাই যায়। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরবর্তী পরিকল্পনা এখন ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা। এই বিশাল পরিকল্পনা আদৌ কি বাস্তবায়নযোগ্য?

ফিফা সভাপতির মূল দর্শন হলো ‘যত বেশি, তত ভালো’। দলের সংখ্যা বাড়লে ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে এবং সেই সঙ্গে বাড়বে অর্থের প্রবাহ। ৩২ দলের ফরম্যাট থেকে ৪৮ দলে যাওয়ার পেছনেও ইনফান্তিনোর এই ইচ্ছাই কাজ করেছে। তিনি বারবার বলে এসেছেন, ছোট দেশগুলোকে সুযোগ না দিলে তারা উন্নতির আগ্রহ হারাবে। দর্শক হিসেবেও ফুটবলপ্রেমীরা খুশি, কারণ টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়লেও খুব একটা ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচের দেখা পাওয়া যায়নি। তবে আয়োজনের ক্ষেত্রে সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে আমেরিকান ধাঁচে খেলাকে সাজানোর চেষ্টা, হাইড্রেশন ব্রেক এবং ২৭ মিনিট ২২ সেকেন্ডের সুপার বোলের মতো হাফটাইম শো আয়োজনের কারণে খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের দিকেই মনোযোগ বেশি ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০৩০ সালে বিশ্বকাপের শততম বার্ষিকী উদযাপিত হবে ছয়টি দেশ মিলিয়ে। ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে আফ্রিকা থেকে মরক্কো এবং লাতিন আমেরিকা থেকে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে যুক্ত থাকছে। এমন বিশাল আয়োজনে দলের সংখ্যা বাড়ানোর ইচ্ছা থাকাটা তাই স্বাভাবিক। কনমেবল অবশ্য ২০২৫ সালের এপ্রিলেই ৬৪ দলের প্রস্তাব দিয়েছিল, কারণ লাতিন আমেরিকায় দেওয়া স্লটগুলো নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নয়। যদিও অন্যান্য ফেডারেশনগুলো এই আইডিয়া নিয়ে খুব একটা উৎসাহী নয়। কেউ কেউ মনে করছেন এটি ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক মেজাজ নষ্ট করবে। তবে এই প্রস্তাব পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া উনাই সিমন অবশ্য রসিকতা করে বলেছেন, গ্লাভসগুলোর খুব একটা কাজ ছিল না।

৬৪ দল হলে গ্রুপসংখ্যা বাড়বে ৪টি। এতে ফরম্যাটে খুব একটা বড় পরিবর্তন না এলেও একটি বড় সমস্যার সমাধান হবে। এই বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে থাকা ৮টি দল পরের পর্বে গেলেও তাদের কেউই শেষ ১৬-তে জায়গা পায়নি। ৬৪ দল হলে ১৬টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে দল নিয়ে সহজে শেষ ৩২-এর লাইনআপ তৈরি করা সম্ভব হবে। এছাড়া ইতালি, ডেনমার্ক, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, সার্বিয়া, ওয়েলস ও পোল্যান্ডের মতো বড় দলগুলো এবার বাদ পড়লেও কুরাসাও বা কেপ ভার্দের মতো দলের চমক ছিল দেখার মতো। ফলে ১৬টি নতুন দল যোগ হওয়াটা খুব একটা বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। এশিয়ান দলগুলোর পারফরম্যান্স ছিল আশঙ্কাজনক। আফ্রিকা থেকে আসা ১০টি দলের মধ্যে ৯টি পরের পর্বে উঠলেও, এশিয়ার ৯টি দলের মধ্যে মাত্র ২টি জায়গা পেয়েছে—যাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান রয়েছে, যাদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগ নেই।

ফিফার সদস্য ২১১টি দেশের মধ্যে ৬৪টি দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব নয়। তবে এর আগে ইনফান্তিনোকে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হবে। ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিতর্ক এবং মাঠে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খবরদারি নিয়ে ইউরোপীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সামনের নির্বাচনে উয়েফাকে পাশে না পেলে ইনফান্তিনোর চেয়ার নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। আর নিজের নেতৃত্ব নিশ্চিত না থাকলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা তার জন্য অসম্ভবই থেকে যাবে।

আর নিজের চেয়ার না বাঁচলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ অসম্ভবই থেকে যাবে।.‘৮০০ পাসে মৃত্যু’ থেকে ‘স্বপ্নের সমাপ্তি’—মেসিদের বিদায়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

৬৪ দলের বিশ্বকাপ কি বাস্তবায়ন করতে পারবেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

আপডেট সময় : ০৭:১৬:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

৩৯ দিনের দীর্ঘ মহোৎসবের পর স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নেমেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে এই বিশ্বকাপের আয়োজন করে। ছোটখাটো কিছু ঘটনা বাদে আয়োজক দেশগুলোর এই উদ্যোগকে সফল বলাই যায়। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরবর্তী পরিকল্পনা এখন ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা। এই বিশাল পরিকল্পনা আদৌ কি বাস্তবায়নযোগ্য?

ফিফা সভাপতির মূল দর্শন হলো ‘যত বেশি, তত ভালো’। দলের সংখ্যা বাড়লে ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে এবং সেই সঙ্গে বাড়বে অর্থের প্রবাহ। ৩২ দলের ফরম্যাট থেকে ৪৮ দলে যাওয়ার পেছনেও ইনফান্তিনোর এই ইচ্ছাই কাজ করেছে। তিনি বারবার বলে এসেছেন, ছোট দেশগুলোকে সুযোগ না দিলে তারা উন্নতির আগ্রহ হারাবে। দর্শক হিসেবেও ফুটবলপ্রেমীরা খুশি, কারণ টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়লেও খুব একটা ম্যাড়ম্যাড়ে ম্যাচের দেখা পাওয়া যায়নি। তবে আয়োজনের ক্ষেত্রে সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে আমেরিকান ধাঁচে খেলাকে সাজানোর চেষ্টা, হাইড্রেশন ব্রেক এবং ২৭ মিনিট ২২ সেকেন্ডের সুপার বোলের মতো হাফটাইম শো আয়োজনের কারণে খেলার চেয়ে মাঠের বাইরের দিকেই মনোযোগ বেশি ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০৩০ সালে বিশ্বকাপের শততম বার্ষিকী উদযাপিত হবে ছয়টি দেশ মিলিয়ে। ইউরোপের স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে আফ্রিকা থেকে মরক্কো এবং লাতিন আমেরিকা থেকে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে যুক্ত থাকছে। এমন বিশাল আয়োজনে দলের সংখ্যা বাড়ানোর ইচ্ছা থাকাটা তাই স্বাভাবিক। কনমেবল অবশ্য ২০২৫ সালের এপ্রিলেই ৬৪ দলের প্রস্তাব দিয়েছিল, কারণ লাতিন আমেরিকায় দেওয়া স্লটগুলো নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নয়। যদিও অন্যান্য ফেডারেশনগুলো এই আইডিয়া নিয়ে খুব একটা উৎসাহী নয়। কেউ কেউ মনে করছেন এটি ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক মেজাজ নষ্ট করবে। তবে এই প্রস্তাব পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া উনাই সিমন অবশ্য রসিকতা করে বলেছেন, গ্লাভসগুলোর খুব একটা কাজ ছিল না।

৬৪ দল হলে গ্রুপসংখ্যা বাড়বে ৪টি। এতে ফরম্যাটে খুব একটা বড় পরিবর্তন না এলেও একটি বড় সমস্যার সমাধান হবে। এই বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে থাকা ৮টি দল পরের পর্বে গেলেও তাদের কেউই শেষ ১৬-তে জায়গা পায়নি। ৬৪ দল হলে ১৬টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি করে দল নিয়ে সহজে শেষ ৩২-এর লাইনআপ তৈরি করা সম্ভব হবে। এছাড়া ইতালি, ডেনমার্ক, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, সার্বিয়া, ওয়েলস ও পোল্যান্ডের মতো বড় দলগুলো এবার বাদ পড়লেও কুরাসাও বা কেপ ভার্দের মতো দলের চমক ছিল দেখার মতো। ফলে ১৬টি নতুন দল যোগ হওয়াটা খুব একটা বড় সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। এশিয়ান দলগুলোর পারফরম্যান্স ছিল আশঙ্কাজনক। আফ্রিকা থেকে আসা ১০টি দলের মধ্যে ৯টি পরের পর্বে উঠলেও, এশিয়ার ৯টি দলের মধ্যে মাত্র ২টি জায়গা পেয়েছে—যাদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও জাপান রয়েছে, যাদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগ নেই।

ফিফার সদস্য ২১১টি দেশের মধ্যে ৬৪টি দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব নয়। তবে এর আগে ইনফান্তিনোকে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হবে। ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিতর্ক এবং মাঠে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খবরদারি নিয়ে ইউরোপীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সামনের নির্বাচনে উয়েফাকে পাশে না পেলে ইনফান্তিনোর চেয়ার নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। আর নিজের নেতৃত্ব নিশ্চিত না থাকলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা তার জন্য অসম্ভবই থেকে যাবে।

আর নিজের চেয়ার না বাঁচলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ অসম্ভবই থেকে যাবে।.‘৮০০ পাসে মৃত্যু’ থেকে ‘স্বপ্নের সমাপ্তি’—মেসিদের বিদায়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo