ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিজ এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে সংসদ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পরিচালক কামাল হোসেন বাবরের বিরুদ্ধে অধরা খানের অভিযোগ ১০ জনের লিভারপুলকে হারিয়ে শেষ ৩০ মিনিটে সিটির জয় ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, চাঁদপুরে ভূমি অফিসের কর্মচারী বরখাস্ত রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানালেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান সাতক্ষীরায় দেড় লক্ষাধিক দিয়াশলাই কাঠিতে তৈরি দুর্গা প্রতিমা সৌদিতে চার দফা হামলার দাবি হুতিদের, লক্ষ্যবস্তু বিমানবন্দর ও আরামকো জনগণের স্বার্থে আবু সাঈদের মতো জীবন দেব: জামায়াত এমপি বেলাল ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা চাওয়া যৌতুক নয়, রাসেলকে খালাস হাইকোর্টের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, যাত্রী টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল মাঠের ঘাস বিক্রি করে ১৩৫ কোটি টাকা আয় ফিফার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা আর ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার লড়াই। এবার সেই ইতিহাসের অংশ সরাসরি ভক্তদের কাছে পৌঁছে দিতে এক অভিনব বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের মাঠের আসল ঘাস অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এই ঘাসগুলো যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কিপ স্টাব’-এর মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘাসের টুকরোগুলো অ্যাক্রিলিকের স্বচ্ছ রেজিন আবরণে সংরক্ষিত থাকবে, যার ওপর বিশ্বকাপের লোগো, ভেন্যুর নাম, তারিখ এবং ফাইনালের ফলাফল খোদাই করা থাকবে। প্রতিটি স্মারকের সঙ্গে ঘাসের সত্যতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ইউএসবি ড্রাইভও দেওয়া হবে।

২০২৬ সালের সাথে মিল রেখে প্রতিটি সংস্করণের জন্য ২০২৬টি করে ঘাসের টুকরো বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্রেতাদের জন্য চারটি ভিন্ন সংস্করণ রয়েছে। ২.৫ ইঞ্চি বাই ২.৫ ইঞ্চি আকারের সাধারণ সংস্করণের দাম ৪৫০ ডলার বা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। মিডিয়াম এডিশনের দুটি সংস্করণ রয়েছে, যেগুলোর দাম যথাক্রমে ৯০০ ও ১২০০ ডলার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘হিরো এডিশন’ বা প্রিমিয়াম সংস্করণের দাম ৩ হাজার ডলার বা ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি। এই সংস্করণে ৩ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি ঘাসের পাশাপাশি স্বর্ণের মেটাল টিকিট, ফাইনাল ম্যাচের বলের মিনি রেপ্লিকা এবং ক্রিস্টাল কাটের বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার হিসেবে থাকছে।

যদি এই সীমিত সংস্করণের সবগুলো স্মারক বিক্রি হয়, তবে ঘাস বিক্রি থেকেই ফিফার আয় হবে ১ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। তবে লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই ঘাস কেবল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ক্রেতাদের ঠিকানায় পাঠানো হবে। ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পন্ন হলে ক্রেতারা তা হাতে পাবেন।

এদিকে, যে মাঠের ঘাস নিয়ে এই বিশাল বাণিজ্য, সেই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। গত মে মাসে উত্তর ক্যারোলাইনার একটি ফার্ম থেকে আনা এই ঘাস নিয়ে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মতো দলের ফুটবলাররা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, মাঠটি অত্যন্ত শুষ্ক এবং এখানে স্বাভাবিক গতিতে বল পাস করা কঠিন। তবে মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ফিফার এই বাণিজ্যিক আইডিয়া ফুটবল সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত মে মাসে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য সীমিত সংস্করণের জার্সিও বাজারে এনেছিল ফিফা, যার প্রতিটি ছিল ৩৭৫ ডলার মূল্যের।

এর আগে গত মে মাসে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য সীমিত সংস্করণের (প্রতি শহরের জন্য ৯৯৯টি) বিশেষ জার্সি বাজারে এনেছিল তারা, যার একেকটির দাম ছিল ৩৭৫ মার্কিন ডলার।খেলোয়াড়দের চোখে মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ফিফার এই চতুর ও আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক আইডিয়া যে বিশ্বের ধনী ফুটবল সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল মাঠের ঘাস বিক্রি করে ১৩৫ কোটি টাকা আয় ফিফার

আপডেট সময় : ১১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা আর ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার লড়াই। এবার সেই ইতিহাসের অংশ সরাসরি ভক্তদের কাছে পৌঁছে দিতে এক অভিনব বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের মাঠের আসল ঘাস অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এই ঘাসগুলো যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কিপ স্টাব’-এর মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘাসের টুকরোগুলো অ্যাক্রিলিকের স্বচ্ছ রেজিন আবরণে সংরক্ষিত থাকবে, যার ওপর বিশ্বকাপের লোগো, ভেন্যুর নাম, তারিখ এবং ফাইনালের ফলাফল খোদাই করা থাকবে। প্রতিটি স্মারকের সঙ্গে ঘাসের সত্যতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ইউএসবি ড্রাইভও দেওয়া হবে।

২০২৬ সালের সাথে মিল রেখে প্রতিটি সংস্করণের জন্য ২০২৬টি করে ঘাসের টুকরো বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্রেতাদের জন্য চারটি ভিন্ন সংস্করণ রয়েছে। ২.৫ ইঞ্চি বাই ২.৫ ইঞ্চি আকারের সাধারণ সংস্করণের দাম ৪৫০ ডলার বা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। মিডিয়াম এডিশনের দুটি সংস্করণ রয়েছে, যেগুলোর দাম যথাক্রমে ৯০০ ও ১২০০ ডলার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘হিরো এডিশন’ বা প্রিমিয়াম সংস্করণের দাম ৩ হাজার ডলার বা ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি। এই সংস্করণে ৩ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি ঘাসের পাশাপাশি স্বর্ণের মেটাল টিকিট, ফাইনাল ম্যাচের বলের মিনি রেপ্লিকা এবং ক্রিস্টাল কাটের বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার হিসেবে থাকছে।

যদি এই সীমিত সংস্করণের সবগুলো স্মারক বিক্রি হয়, তবে ঘাস বিক্রি থেকেই ফিফার আয় হবে ১ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। তবে লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই ঘাস কেবল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ক্রেতাদের ঠিকানায় পাঠানো হবে। ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পন্ন হলে ক্রেতারা তা হাতে পাবেন।

এদিকে, যে মাঠের ঘাস নিয়ে এই বিশাল বাণিজ্য, সেই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। গত মে মাসে উত্তর ক্যারোলাইনার একটি ফার্ম থেকে আনা এই ঘাস নিয়ে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মতো দলের ফুটবলাররা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, মাঠটি অত্যন্ত শুষ্ক এবং এখানে স্বাভাবিক গতিতে বল পাস করা কঠিন। তবে মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ফিফার এই বাণিজ্যিক আইডিয়া ফুটবল সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত মে মাসে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য সীমিত সংস্করণের জার্সিও বাজারে এনেছিল ফিফা, যার প্রতিটি ছিল ৩৭৫ ডলার মূল্যের।

এর আগে গত মে মাসে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য সীমিত সংস্করণের (প্রতি শহরের জন্য ৯৯৯টি) বিশেষ জার্সি বাজারে এনেছিল তারা, যার একেকটির দাম ছিল ৩৭৫ মার্কিন ডলার।খেলোয়াড়দের চোখে মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ফিফার এই চতুর ও আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক আইডিয়া যে বিশ্বের ধনী ফুটবল সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh