ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দক্ষিণাঞ্চলের চার প্রস্তাবিত সেতুর স্থান পরিদর্শন করলেন সেতু সচিব ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ জনের মৃত্যু: বিক্ষোভে জ্বলল ৬ যানবাহন মরক্কোর বিদায়ে গ্যালারিতে অঝোরে কাঁদলেন নোরা ফাতেহি ঢাকা মেডিকেলের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতাচ্যুতদের দেশে ফেরার ঘোষণা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা: মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাইয়ের পরীক্ষা স্থগিত র‍্যাবের গ্রেপ্তার নিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাসে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন পরীমনি ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল মাঠের ঘাস বিক্রি করে ১৩৫ কোটি টাকা আয় ফিফার ফুটবলের অরা বা মহিমার আসল উদাহরণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: ইয়ামাল ফরিদপুরে দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ উদ্ধারকালে বাসচাপায় ৫ জনের প্রাণহানি

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল মাঠের ঘাস বিক্রি করে ১৩৫ কোটি টাকা আয় ফিফার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা আর ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার লড়াই। এবার সেই ইতিহাসের অংশ সরাসরি ভক্তদের কাছে পৌঁছে দিতে এক অভিনব বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের মাঠের আসল ঘাস অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এই ঘাসগুলো যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কিপ স্টাব’-এর মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘাসের টুকরোগুলো অ্যাক্রিলিকের স্বচ্ছ রেজিন আবরণে সংরক্ষিত থাকবে, যার ওপর বিশ্বকাপের লোগো, ভেন্যুর নাম, তারিখ এবং ফাইনালের ফলাফল খোদাই করা থাকবে। প্রতিটি স্মারকের সঙ্গে ঘাসের সত্যতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ইউএসবি ড্রাইভও দেওয়া হবে।

২০২৬ সালের সাথে মিল রেখে প্রতিটি সংস্করণের জন্য ২০২৬টি করে ঘাসের টুকরো বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্রেতাদের জন্য চারটি ভিন্ন সংস্করণ রয়েছে। ২.৫ ইঞ্চি বাই ২.৫ ইঞ্চি আকারের সাধারণ সংস্করণের দাম ৪৫০ ডলার বা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। মিডিয়াম এডিশনের দুটি সংস্করণ রয়েছে, যেগুলোর দাম যথাক্রমে ৯০০ ও ১২০০ ডলার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘হিরো এডিশন’ বা প্রিমিয়াম সংস্করণের দাম ৩ হাজার ডলার বা ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি। এই সংস্করণে ৩ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি ঘাসের পাশাপাশি স্বর্ণের মেটাল টিকিট, ফাইনাল ম্যাচের বলের মিনি রেপ্লিকা এবং ক্রিস্টাল কাটের বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার হিসেবে থাকছে।

যদি এই সীমিত সংস্করণের সবগুলো স্মারক বিক্রি হয়, তবে ঘাস বিক্রি থেকেই ফিফার আয় হবে ১ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। তবে লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই ঘাস কেবল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ক্রেতাদের ঠিকানায় পাঠানো হবে। ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পন্ন হলে ক্রেতারা তা হাতে পাবেন।

এদিকে, যে মাঠের ঘাস নিয়ে এই বিশাল বাণিজ্য, সেই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। গত মে মাসে উত্তর ক্যারোলাইনার একটি ফার্ম থেকে আনা এই ঘাস নিয়ে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মতো দলের ফুটবলাররা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, মাঠটি অত্যন্ত শুষ্ক এবং এখানে স্বাভাবিক গতিতে বল পাস করা কঠিন। তবে মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ফিফার এই বাণিজ্যিক আইডিয়া ফুটবল সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত মে মাসে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য সীমিত সংস্করণের জার্সিও বাজারে এনেছিল ফিফা, যার প্রতিটি ছিল ৩৭৫ ডলার মূল্যের।

এর আগে গত মে মাসে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য সীমিত সংস্করণের (প্রতি শহরের জন্য ৯৯৯টি) বিশেষ জার্সি বাজারে এনেছিল তারা, যার একেকটির দাম ছিল ৩৭৫ মার্কিন ডলার।খেলোয়াড়দের চোখে মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ফিফার এই চতুর ও আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক আইডিয়া যে বিশ্বের ধনী ফুটবল সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল মাঠের ঘাস বিক্রি করে ১৩৫ কোটি টাকা আয় ফিফার

আপডেট সময় : ১১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
print news

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা আর ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার লড়াই। এবার সেই ইতিহাসের অংশ সরাসরি ভক্তদের কাছে পৌঁছে দিতে এক অভিনব বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামী ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের মাঠের আসল ঘাস অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

এই ঘাসগুলো যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কিপ স্টাব’-এর মাধ্যমে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘাসের টুকরোগুলো অ্যাক্রিলিকের স্বচ্ছ রেজিন আবরণে সংরক্ষিত থাকবে, যার ওপর বিশ্বকাপের লোগো, ভেন্যুর নাম, তারিখ এবং ফাইনালের ফলাফল খোদাই করা থাকবে। প্রতিটি স্মারকের সঙ্গে ঘাসের সত্যতা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ ইউএসবি ড্রাইভও দেওয়া হবে।

২০২৬ সালের সাথে মিল রেখে প্রতিটি সংস্করণের জন্য ২০২৬টি করে ঘাসের টুকরো বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্রেতাদের জন্য চারটি ভিন্ন সংস্করণ রয়েছে। ২.৫ ইঞ্চি বাই ২.৫ ইঞ্চি আকারের সাধারণ সংস্করণের দাম ৪৫০ ডলার বা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। মিডিয়াম এডিশনের দুটি সংস্করণ রয়েছে, যেগুলোর দাম যথাক্রমে ৯০০ ও ১২০০ ডলার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ‘হিরো এডিশন’ বা প্রিমিয়াম সংস্করণের দাম ৩ হাজার ডলার বা ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকার বেশি। এই সংস্করণে ৩ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চি ঘাসের পাশাপাশি স্বর্ণের মেটাল টিকিট, ফাইনাল ম্যাচের বলের মিনি রেপ্লিকা এবং ক্রিস্টাল কাটের বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার হিসেবে থাকছে।

যদি এই সীমিত সংস্করণের সবগুলো স্মারক বিক্রি হয়, তবে ঘাস বিক্রি থেকেই ফিফার আয় হবে ১ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। তবে লজিস্টিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই ঘাস কেবল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ক্রেতাদের ঠিকানায় পাঠানো হবে। ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সম্পন্ন হলে ক্রেতারা তা হাতে পাবেন।

এদিকে, যে মাঠের ঘাস নিয়ে এই বিশাল বাণিজ্য, সেই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মান নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। গত মে মাসে উত্তর ক্যারোলাইনার একটি ফার্ম থেকে আনা এই ঘাস নিয়ে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের মতো দলের ফুটবলাররা অভিযোগ করেছেন। তাদের মতে, মাঠটি অত্যন্ত শুষ্ক এবং এখানে স্বাভাবিক গতিতে বল পাস করা কঠিন। তবে মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ফিফার এই বাণিজ্যিক আইডিয়া ফুটবল সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত মে মাসে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য সীমিত সংস্করণের জার্সিও বাজারে এনেছিল ফিফা, যার প্রতিটি ছিল ৩৭৫ ডলার মূল্যের।

এর আগে গত মে মাসে প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য সীমিত সংস্করণের (প্রতি শহরের জন্য ৯৯৯টি) বিশেষ জার্সি বাজারে এনেছিল তারা, যার একেকটির দাম ছিল ৩৭৫ মার্কিন ডলার।খেলোয়াড়দের চোখে মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, ফিফার এই চতুর ও আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক আইডিয়া যে বিশ্বের ধনী ফুটবল সংগ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।