ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফুলহ্যামের মূল দলে অভিষেক, বাংলাদেশ দলে খেলার অপেক্ষায় ফারহান জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬: দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে আলী-জাহান অ্যাগ্রো বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা ২০২৬ জারি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে উল্টো দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে: আনু মুহাম্মদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চুরি: ২২ কম্পিউটারের হার্ডডিস্কসহ মূল্যবান সরঞ্জাম খোয়া ইউরোপার বরফের নিচে পৃথিবীর সব মহাসাগরের দ্বিগুণ পানি ডিপজলের বিরুদ্ধে খালাতো ভাইয়ের মানহানির মামলা, তদন্তে ডিবি ভারতের রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের নতুন ও কার্যকর প্রভাব আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৩ দিন বন্ধ

ইউরোপার বরফের নিচে পৃথিবীর সব মহাসাগরের দ্বিগুণ পানি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

বৃহস্পতির রহস্যময় উপগ্রহ ইউরোপা দীর্ঘকাল ধরেই বিজ্ঞানীদের কাছে সৌরজগতের প্রাণের সম্ভাব্য আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নাসার জুনো মহাকাশযানের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপার উপরিভাগের বরফের স্তরের নিচে এমন এক লবণাক্ত মহাসাগর থাকতে পারে, যেখানে পৃথিবীর সব মহাসাগরের মোট পানির চেয়েও দ্বিগুণ পরিমাণ পানি বিদ্যমান।

ইউরোপার ব্যাস মাত্র ৩,১২০ কিলোমিটার, যা আমাদের পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও ছোট। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর বরফের স্তরের নিচে থাকা মহাসাগরটির গভীরতা ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জুনো মহাকাশযান ইউরোপার মাত্র ৩৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ার সময় এর মাইক্রোওয়েভ রেডিওমিটার (এমডব্লিওআর) যন্ত্রের মাধ্যমে বরফস্তরের তাপীয় বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপার বরফস্তরের গড় পুরুত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার, যদিও অঞ্চলভেদে এর তারতম্য থাকতে পারে।

তবে ইউরোপায় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গবেষকদের মতে, প্রাণের জন্য কেবল পানিই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন রাসায়নিক শক্তি, প্রয়োজনীয় জৈবিক উপকরণ এবং সমুদ্রের তলদেশ ও পৃষ্ঠের মধ্যে উপাদান আদান-প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা। বরফস্তর ২৯ কিলোমিটারের মতো পুরু হলে সমুদ্র ও পৃষ্ঠের মধ্যে উপাদানের চলাচল অনেক বেশি কঠিন হতে পারে, যা প্রাণের সম্ভাবনাকে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এই রহস্য সমাধানে নাসা ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর 'ইউরোপা ক্লিপার' মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে, যা ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছাবে। এটি প্রায় ৫০টি অভিযানের মাধ্যমে ইউরোপার ভূতত্ত্ব, মহাসাগরের বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণের উপযোগী পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ইউরোপার মহাসাগরকে আড়াল করে রাখা কয়েক কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরই হয়তো সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের চাবিকাঠি। পৃথিবীর মহাসাগরের গড় গভীরতা যেখানে মাত্র ৪ কিলোমিটার, সেখানে ইউরোপার এই বিশাল গভীরতা মহাবিশ্বের মহাসাগর সম্পর্কে নতুন ধারণার জন্ম দিচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপার বরফের নিচে পৃথিবীর সব মহাসাগরের দ্বিগুণ পানি

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
print news

বৃহস্পতির রহস্যময় উপগ্রহ ইউরোপা দীর্ঘকাল ধরেই বিজ্ঞানীদের কাছে সৌরজগতের প্রাণের সম্ভাব্য আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নাসার জুনো মহাকাশযানের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপার উপরিভাগের বরফের স্তরের নিচে এমন এক লবণাক্ত মহাসাগর থাকতে পারে, যেখানে পৃথিবীর সব মহাসাগরের মোট পানির চেয়েও দ্বিগুণ পরিমাণ পানি বিদ্যমান।

ইউরোপার ব্যাস মাত্র ৩,১২০ কিলোমিটার, যা আমাদের পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও ছোট। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর বরফের স্তরের নিচে থাকা মহাসাগরটির গভীরতা ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জুনো মহাকাশযান ইউরোপার মাত্র ৩৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ার সময় এর মাইক্রোওয়েভ রেডিওমিটার (এমডব্লিওআর) যন্ত্রের মাধ্যমে বরফস্তরের তাপীয় বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপার বরফস্তরের গড় পুরুত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার, যদিও অঞ্চলভেদে এর তারতম্য থাকতে পারে।

তবে ইউরোপায় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গবেষকদের মতে, প্রাণের জন্য কেবল পানিই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন রাসায়নিক শক্তি, প্রয়োজনীয় জৈবিক উপকরণ এবং সমুদ্রের তলদেশ ও পৃষ্ঠের মধ্যে উপাদান আদান-প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা। বরফস্তর ২৯ কিলোমিটারের মতো পুরু হলে সমুদ্র ও পৃষ্ঠের মধ্যে উপাদানের চলাচল অনেক বেশি কঠিন হতে পারে, যা প্রাণের সম্ভাবনাকে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এই রহস্য সমাধানে নাসা ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর 'ইউরোপা ক্লিপার' মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে, যা ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছাবে। এটি প্রায় ৫০টি অভিযানের মাধ্যমে ইউরোপার ভূতত্ত্ব, মহাসাগরের বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণের উপযোগী পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ইউরোপার মহাসাগরকে আড়াল করে রাখা কয়েক কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরই হয়তো সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের চাবিকাঠি। পৃথিবীর মহাসাগরের গড় গভীরতা যেখানে মাত্র ৪ কিলোমিটার, সেখানে ইউরোপার এই বিশাল গভীরতা মহাবিশ্বের মহাসাগর সম্পর্কে নতুন ধারণার জন্ম দিচ্ছে।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh