ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন তিন আইনে বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা সংকুচিত হয়েছে: এইচআরডব্লিউ ৮৫ বছর বয়সে না ফেরার দেশে মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়ান নবীনগরে নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে যোগ দিলেন শারমিন সুলতানা জাতিসংঘে প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর ১০ কর্মসূচি ও কূটনৈতিক তৎপরতা টাঙ্গাইলে রডের বদলে বাঁশ: সাব-ঠিকাদার গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি গঠন কিশোরগঞ্জে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ আওয়ামী লীগ নেতা ইসরাইল নতুন সিরীয় ভূখণ্ড দখল করছে, দাবি প্রেসিডেন্ট আল-শারার চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এনসিএল সামনে রেখে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা সম্পন্ন জাতিসংঘের অধিবেশনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতবিনিময়

ইউরোপার বরফের নিচে পৃথিবীর সব মহাসাগরের দ্বিগুণ পানি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বৃহস্পতির রহস্যময় উপগ্রহ ইউরোপা দীর্ঘকাল ধরেই বিজ্ঞানীদের কাছে সৌরজগতের প্রাণের সম্ভাব্য আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নাসার জুনো মহাকাশযানের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপার উপরিভাগের বরফের স্তরের নিচে এমন এক লবণাক্ত মহাসাগর থাকতে পারে, যেখানে পৃথিবীর সব মহাসাগরের মোট পানির চেয়েও দ্বিগুণ পরিমাণ পানি বিদ্যমান।

ইউরোপার ব্যাস মাত্র ৩,১২০ কিলোমিটার, যা আমাদের পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও ছোট। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর বরফের স্তরের নিচে থাকা মহাসাগরটির গভীরতা ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জুনো মহাকাশযান ইউরোপার মাত্র ৩৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ার সময় এর মাইক্রোওয়েভ রেডিওমিটার (এমডব্লিওআর) যন্ত্রের মাধ্যমে বরফস্তরের তাপীয় বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপার বরফস্তরের গড় পুরুত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার, যদিও অঞ্চলভেদে এর তারতম্য থাকতে পারে।

তবে ইউরোপায় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গবেষকদের মতে, প্রাণের জন্য কেবল পানিই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন রাসায়নিক শক্তি, প্রয়োজনীয় জৈবিক উপকরণ এবং সমুদ্রের তলদেশ ও পৃষ্ঠের মধ্যে উপাদান আদান-প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা। বরফস্তর ২৯ কিলোমিটারের মতো পুরু হলে সমুদ্র ও পৃষ্ঠের মধ্যে উপাদানের চলাচল অনেক বেশি কঠিন হতে পারে, যা প্রাণের সম্ভাবনাকে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এই রহস্য সমাধানে নাসা ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর 'ইউরোপা ক্লিপার' মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে, যা ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছাবে। এটি প্রায় ৫০টি অভিযানের মাধ্যমে ইউরোপার ভূতত্ত্ব, মহাসাগরের বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণের উপযোগী পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ইউরোপার মহাসাগরকে আড়াল করে রাখা কয়েক কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরই হয়তো সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের চাবিকাঠি। পৃথিবীর মহাসাগরের গড় গভীরতা যেখানে মাত্র ৪ কিলোমিটার, সেখানে ইউরোপার এই বিশাল গভীরতা মহাবিশ্বের মহাসাগর সম্পর্কে নতুন ধারণার জন্ম দিচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউরোপার বরফের নিচে পৃথিবীর সব মহাসাগরের দ্বিগুণ পানি

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বৃহস্পতির রহস্যময় উপগ্রহ ইউরোপা দীর্ঘকাল ধরেই বিজ্ঞানীদের কাছে সৌরজগতের প্রাণের সম্ভাব্য আবাসস্থল হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নাসার জুনো মহাকাশযানের সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপার উপরিভাগের বরফের স্তরের নিচে এমন এক লবণাক্ত মহাসাগর থাকতে পারে, যেখানে পৃথিবীর সব মহাসাগরের মোট পানির চেয়েও দ্বিগুণ পরিমাণ পানি বিদ্যমান।

ইউরোপার ব্যাস মাত্র ৩,১২০ কিলোমিটার, যা আমাদের পৃথিবীর চাঁদের চেয়েও ছোট। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা, এর বরফের স্তরের নিচে থাকা মহাসাগরটির গভীরতা ৬০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জুনো মহাকাশযান ইউরোপার মাত্র ৩৬০ কিলোমিটার ওপর দিয়ে উড়ার সময় এর মাইক্রোওয়েভ রেডিওমিটার (এমডব্লিওআর) যন্ত্রের মাধ্যমে বরফস্তরের তাপীয় বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে। এই গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপার বরফস্তরের গড় পুরুত্ব প্রায় ২৯ কিলোমিটার, যদিও অঞ্চলভেদে এর তারতম্য থাকতে পারে।

তবে ইউরোপায় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার বিষয়টি এখন আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গবেষকদের মতে, প্রাণের জন্য কেবল পানিই যথেষ্ট নয়; এর জন্য প্রয়োজন রাসায়নিক শক্তি, প্রয়োজনীয় জৈবিক উপকরণ এবং সমুদ্রের তলদেশ ও পৃষ্ঠের মধ্যে উপাদান আদান-প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা। বরফস্তর ২৯ কিলোমিটারের মতো পুরু হলে সমুদ্র ও পৃষ্ঠের মধ্যে উপাদানের চলাচল অনেক বেশি কঠিন হতে পারে, যা প্রাণের সম্ভাবনাকে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

এই রহস্য সমাধানে নাসা ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর 'ইউরোপা ক্লিপার' মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে, যা ২০৩০ সালের এপ্রিলে বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছাবে। এটি প্রায় ৫০টি অভিযানের মাধ্যমে ইউরোপার ভূতত্ত্ব, মহাসাগরের বৈশিষ্ট্য এবং প্রাণের উপযোগী পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ইউরোপার মহাসাগরকে আড়াল করে রাখা কয়েক কিলোমিটার পুরু বরফের স্তরই হয়তো সৌরজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের চাবিকাঠি। পৃথিবীর মহাসাগরের গড় গভীরতা যেখানে মাত্র ৪ কিলোমিটার, সেখানে ইউরোপার এই বিশাল গভীরতা মহাবিশ্বের মহাসাগর সম্পর্কে নতুন ধারণার জন্ম দিচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh