ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয় জমি ছাড়ার নোটিশে দিশেহারা নাটোরের দিনমজুরের কলেজপড়ুয়া তিন মেয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও বিদায় কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে একরাতে ৬২৪ জন আটক বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা প্রস্তুতি জামায়াত ও এনসিপির

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের প্রধান দুই দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আলাদাভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। যদিও জাতীয় নির্বাচনে তারা জোটবদ্ধ ছিল, স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে দল দুটি মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। জামায়াত ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন করেছে। এছাড়া উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য পর্যায়ের জন্য ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। জেলা ও মহানগর পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পাশাপাশি তাদের মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ঢাকাসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের প্রার্থীও দলটি চূড়ান্ত করে ফেলেছে।

অন্যদিকে, এনসিপিও ধাপে ধাপে তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছে। দলটি ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, রাজশাহী, বরিশাল ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০টি পৌরসভা থেকে এক হাজারের বেশি আবেদন যাচাই-বাছাই করে এই প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপে আরও নাম ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না, তাই প্রতিটি এলাকায় জোটের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী ঠিক করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জামায়াত ও এনসিপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবস্থান ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণই মূল বিবেচ্য বিষয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত প্রার্থীদের কাজ মনিটরিং করছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে না থাকলে বা তাদের ভূমিকা পক্ষপাতমূলক হলে জামায়াত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচনী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে এনসিপি উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করেছে। জামায়াত উত্তরে সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে আবু সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দিয়েছে। এনসিপির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার জানান, যেখানে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কাজ শুরু হয়েছে। জামায়াত সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে নেতা নিয়োগ দিয়েছে, যারা প্রার্থী বাছাই ও প্রস্তুতি তদারকি করছেন। জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রার্থী আলাদা হলেও রাজনৈতিক ঐক্য অটুট থাকবে এবং সরকার বা নির্বাচন কমিশনের কোনো কারচুপির চেষ্টা হলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা প্রস্তুতি জামায়াত ও এনসিপির

আপডেট সময় : ০৩:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের প্রধান দুই দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আলাদাভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। যদিও জাতীয় নির্বাচনে তারা জোটবদ্ধ ছিল, স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে দল দুটি মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। জামায়াত ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রায় ৯৫ শতাংশ প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন করেছে। এছাড়া উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য পর্যায়ের জন্য ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। জেলা ও মহানগর পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পাশাপাশি তাদের মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ঢাকাসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের প্রার্থীও দলটি চূড়ান্ত করে ফেলেছে।

অন্যদিকে, এনসিপিও ধাপে ধাপে তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছে। দলটি ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, রাজশাহী, বরিশাল ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের জন্য একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে। উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রাথমিকভাবে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ৫০০ উপজেলা ও ৩৩০টি পৌরসভা থেকে এক হাজারের বেশি আবেদন যাচাই-বাছাই করে এই প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় ধাপে আরও নাম ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না, তাই প্রতিটি এলাকায় জোটের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী ঠিক করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জামায়াত ও এনসিপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক অবস্থান ও স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণই মূল বিবেচ্য বিষয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত প্রার্থীদের কাজ মনিটরিং করছেন এবং পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে না থাকলে বা তাদের ভূমিকা পক্ষপাতমূলক হলে জামায়াত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। বিশেষ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচনী লড়াইয়ের ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখানে এনসিপি উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করেছে। জামায়াত উত্তরে সেলিম উদ্দিন ও দক্ষিণে আবু সাদিক কায়েমকে মনোনয়ন দিয়েছে। এনসিপির মিডিয়া উপকমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার জানান, যেখানে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কাজ শুরু হয়েছে। জামায়াত সারা দেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে নেতা নিয়োগ দিয়েছে, যারা প্রার্থী বাছাই ও প্রস্তুতি তদারকি করছেন। জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রার্থী আলাদা হলেও রাজনৈতিক ঐক্য অটুট থাকবে এবং সরকার বা নির্বাচন কমিশনের কোনো কারচুপির চেষ্টা হলে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin