ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুমকিকে কৌশলগত হতাশা বলে আরও তীব্র হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে, বাদ পড়ছেন আওয়ামীপন্থীরা সরকারি কলেজের ক্লাস রুটিন চেয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা জারি পাঁচ জেলায় ছড়িয়েছে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত শতাধিক মানুষ জাতিসংঘে এরদোয়ানের শান্তির আহ্বানে বিশ্ব বিবেকের প্রতিধ্বনি: এমিনি পার্বতীপুরে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ মাদক কারবারি পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর নতুন নিয়ম, দ্বিতীয়বার হারালে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এমপি-মন্ত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রশ্নই ওঠে না: ডা. শফিকুর রহমান নারী রেফারিকে হেনস্তা ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক মন্তব্যে বরখাস্ত হিগুয়েইন খেলাফতের দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই: মুহাম্মদ শাহজাহান

জেন-জি ভাবনা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়, কেন আটকে ছাত্রদলের নতুন কমিটি?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছিল নতুন সম্ভাব্য কমিটির তালিকাও। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বর্তমান দুই শীর্ষ নেতার সাক্ষাতের পরপরই নতুন কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। তবে এর পর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটির ঘোষণা আসেনি। মূলত নতুন প্রজন্মের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণের কারণেই এই বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন কমিটিতে অপেক্ষাকৃত তরুণদের সামনে আনা হবে, নাকি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াটি থেমে নেই; বরং তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব গঠনের চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে সংগঠনের ফল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতাকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে。

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত মাসে বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার পরই পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল। তবে সরকারসংশ্লিষ্ট একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তারেক রহমানকে পরামর্শ দেন, বর্তমান ‘জেন-জি’ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানসিকতা, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে যেন নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়। এরপরই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে সমীকরণ শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা তারেক রহমান অনেকটাই চূড়ান্ত করে রেখেছেন। এখন মূলত সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য শীর্ষ পদগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি মিলিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শীর্ষ দুই পদে সিনিয়র ও জুনিয়র নেতৃত্বের সমন্বয়ের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্রের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ছাত্রদলকে আরও বেশি তারুণ্যনির্ভর করতে চান। দীর্ঘদিন ধরে संगठनটির নেতৃত্বে পুরোনো শিক্ষাবর্ষের নেতাদের প্রাধান্য নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তাই বর্তমান সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেতৃত্বের বয়স ও শিক্ষাজীবনের ব্যবধান কমিয়ে আনতে এবং নতুন প্রজন্মের ভাষা বুঝতে অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদের সামনে আনার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

তবে তারেক রহমানের পরামর্শদাতাদের সবাই এই মতের সঙ্গে একমত নন। আরেকটি সূত্র জানায়, গত ১৫ বছরের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেসব নেতা মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন, তাঁদের অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। মাঠপর্যায়ে ছাত্রলীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা এবং ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কৌশল সম্পর্কে এই অভিজ্ঞ নেতাদের ভালো ধারণা রয়েছে। তাই তাঁদের পুরোপুরি বাদ দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব কেবল জুনিয়রদের হাতে তুলে দেওয়া ঠিক হবে না বলে তারেক রহমানকে মত দেওয়া হয়েছে। এই দুই মতের সমন্বয়ে শীর্ষ দুই পদের একটিতে সিনিয়র এবং অন্যটিতে জুনিয়র নেতাকে রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। শীর্ষ পদের দৌড়ে যেমন ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা রয়েছেন, তেমনি ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের অনেকেও আলোচনায় আছেন।

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে শুধু রুটিন কমিটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না বিএনপি। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীদের ভালো ফলের বিপরীতে ছাত্রদলের দুর্বল অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। আগামী নির্বাচনগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে মনে করছেন দলের নীতি-নির্ধারকেরা। এছাড়া সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গ্রুপ-উপগ্রুপের সংস্কৃতি ভেঙে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার সক্ষমতাও খোঁজা হচ্ছে নতুন নেতৃত্বের মাঝে। অন্য দল থেকে এসে ছাত্রদলে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য জুনিয়রদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইয়ের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম ও নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল। দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের কারণেও বিষয়টি কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নিতে তারেক রহমান নিউইয়র্কে যাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর সফরের আগে কমিটি ঘোষণা না হলে, দেশে ফেরার পর তা হতে পারে। এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন জানান, তাঁরা আশা করছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি হয়ে যাবে এবং বর্তমানে স্বাভাবিক গতিতেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে।

শীর্ষ পদে আগ্রহীদের মধ্যে ২০০৮–০৯, ২০০৯–১০ ও ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যেমন রয়েছেন, তেমনি ২০১৪–১৫ ও ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষেরও অনেকে আছেন।.ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনকে শুধু কমিটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

জেন-জি ভাবনা ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়, কেন আটকে ছাত্রদলের নতুন কমিটি?

আপডেট সময় : ১২:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছিল নতুন সম্ভাব্য কমিটির তালিকাও। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বর্তমান দুই শীর্ষ নেতার সাক্ষাতের পরপরই নতুন কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। তবে এর পর প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কমিটির ঘোষণা আসেনি। মূলত নতুন প্রজন্মের সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো এবং নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণের কারণেই এই বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন কমিটিতে অপেক্ষাকৃত তরুণদের সামনে আনা হবে, নাকি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়াটি থেমে নেই; বরং তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেতৃত্ব গঠনের চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে সংগঠনের ফল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার সক্ষমতাকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে。

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত মাসে বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার পরই পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণার প্রস্তুতি ছিল। তবে সরকারসংশ্লিষ্ট একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তারেক রহমানকে পরামর্শ দেন, বর্তমান ‘জেন-জি’ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মানসিকতা, প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে যেন নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়। এরপরই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে সমীকরণ শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি পদে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা তারেক রহমান অনেকটাই চূড়ান্ত করে রেখেছেন। এখন মূলত সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য শীর্ষ পদগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্মের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি মিলিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নেতৃত্ব সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শীর্ষ দুই পদে সিনিয়র ও জুনিয়র নেতৃত্বের সমন্বয়ের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্রের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ছাত্রদলকে আরও বেশি তারুণ্যনির্ভর করতে চান। দীর্ঘদিন ধরে संगठनটির নেতৃত্বে পুরোনো শিক্ষাবর্ষের নেতাদের প্রাধান্য নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। তাই বর্তমান সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নেতৃত্বের বয়স ও শিক্ষাজীবনের ব্যবধান কমিয়ে আনতে এবং নতুন প্রজন্মের ভাষা বুঝতে অপেক্ষাকৃত জুনিয়রদের সামনে আনার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

তবে তারেক রহমানের পরামর্শদাতাদের সবাই এই মতের সঙ্গে একমত নন। আরেকটি সূত্র জানায়, গত ১৫ বছরের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যেসব নেতা মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন, তাঁদের অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। মাঠপর্যায়ে ছাত্রলীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা এবং ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কৌশল সম্পর্কে এই অভিজ্ঞ নেতাদের ভালো ধারণা রয়েছে। তাই তাঁদের পুরোপুরি বাদ দিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব কেবল জুনিয়রদের হাতে তুলে দেওয়া ঠিক হবে না বলে তারেক রহমানকে মত দেওয়া হয়েছে। এই দুই মতের সমন্বয়ে শীর্ষ দুই পদের একটিতে সিনিয়র এবং অন্যটিতে জুনিয়র নেতাকে রাখার চিন্তা করা হচ্ছে। শীর্ষ পদের দৌড়ে যেমন ২০০৮-০৯, ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা রয়েছেন, তেমনি ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের অনেকেও আলোচনায় আছেন।

ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে শুধু রুটিন কমিটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না বিএনপি। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্রার্থীদের ভালো ফলের বিপরীতে ছাত্রদলের দুর্বল অবস্থানও আলোচনায় এসেছে। আগামী নির্বাচনগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে মনে করছেন দলের নীতি-নির্ধারকেরা। এছাড়া সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গ্রুপ-উপগ্রুপের সংস্কৃতি ভেঙে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার সক্ষমতাও খোঁজা হচ্ছে নতুন নেতৃত্বের মাঝে। অন্য দল থেকে এসে ছাত্রদলে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য জুনিয়রদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় যাচাইয়ের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম ও নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল। দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ গত ১ মার্চ শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরের কারণেও বিষয়টি কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমে অংশ নিতে তারেক রহমান নিউইয়র্কে যাবেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর সফরের আগে কমিটি ঘোষণা না হলে, দেশে ফেরার পর তা হতে পারে। এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন জানান, তাঁরা আশা করছেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি হয়ে যাবে এবং বর্তমানে স্বাভাবিক গতিতেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে।

শীর্ষ পদে আগ্রহীদের মধ্যে ২০০৮–০৯, ২০০৯–১০ ও ২০১০–১১ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা যেমন রয়েছেন, তেমনি ২০১৪–১৫ ও ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষেরও অনেকে আছেন।.ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনকে শুধু কমিটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন না বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo