ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আওয়ামী লীগ আমলে সাড়ে ৪ হাজার ক্রসফায়ার ও ৭ শতাধিক গুম হয়েছে: আইনমন্ত্রী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে বিনা বিচারে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এবং ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

পূর্ববর্তী সরকারের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার হওয়া ৭ শতাধিক মানুষের স্বজনরা আজও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে তাদের ফেরার অপেক্ষায় কাঁদছেন। এছাড়া শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে ৬০ লাখের বেশি মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি করা হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তি এবং হজে থাকা ব্যক্তিদেরও বোমাবাজি বা ডাকাতির মামলায় জড়ানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি আহত জুলাইযোদ্ধা এবং বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ২০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অসংখ্য সাহসী মানুষ জীবন দিয়ে আমাদের নতুন করে বাঁচার ও স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিয়েছেন। এই আন্দোলনে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের হাত, পা বা চোখ হারিয়েছেন এবং অনেকে শরীরে বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িতদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী মানুষের মাঝে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে এবং এর সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাকে যুক্ত করেছে, তাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে প্রশংসা করেন তিনি।

আবৃত্তিশিল্পীদের আইনি স্বীকৃতির বিষয়ে নিজের স্মৃতিচারণ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অতীতে শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আবৃত্তি খাতের কোনো আইনি মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি ছিল না এবং আবৃত্তিকারদের শিল্পী হিসেবে গণ্য করা হতো না। পরবর্তীতে তিনি যখন আইনমন্ত্রী হন, তখন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের সুযোগ আসে। সেই সংশোধিত আইনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম একটি অঙ্গন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়। এ জন্য তিনি তৎকালীন জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্যকেও ধন্যবাদ জানান। আবৃত্তিকারদের মুক্তিকামী মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, আইনমন্ত্রীর সহধর্মিণী শিরিন সুলতানা এবং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক আবৃত্তিশিল্পী, শিশু-কিশোর ও শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী দর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ আমলে সাড়ে ৪ হাজার ক্রসফায়ার ও ৭ শতাধিক গুম হয়েছে: আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বিগত ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষকে বিনা বিচারে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এবং ৭ শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

পূর্ববর্তী সরকারের দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার হওয়া ৭ শতাধিক মানুষের স্বজনরা আজও তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে তাদের ফেরার অপেক্ষায় কাঁদছেন। এছাড়া শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে ৬০ লাখের বেশি মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলার আসামি করা হয়েছে। এমনকি মৃত ব্যক্তি এবং হজে থাকা ব্যক্তিদেরও বোমাবাজি বা ডাকাতির মামলায় জড়ানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি আহত জুলাইযোদ্ধা এবং বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ২০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে অসংখ্য সাহসী মানুষ জীবন দিয়ে আমাদের নতুন করে বাঁচার ও স্বাধীনতার স্বাদ এনে দিয়েছেন। এই আন্দোলনে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের হাত, পা বা চোখ হারিয়েছেন এবং অনেকে শরীরে বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেঁচে আছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িতদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ গঠনে আবৃত্তিশিল্পীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী মানুষের মাঝে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে এবং এর সঙ্গে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাকে যুক্ত করেছে, তাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে প্রশংসা করেন তিনি।

আবৃত্তিশিল্পীদের আইনি স্বীকৃতির বিষয়ে নিজের স্মৃতিচারণ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অতীতে শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আবৃত্তি খাতের কোনো আইনি মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি ছিল না এবং আবৃত্তিকারদের শিল্পী হিসেবে গণ্য করা হতো না। পরবর্তীতে তিনি যখন আইনমন্ত্রী হন, তখন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের সুযোগ আসে। সেই সংশোধিত আইনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম একটি অঙ্গন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়। এ জন্য তিনি তৎকালীন জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্যকেও ধন্যবাদ জানান। আবৃত্তিকারদের মুক্তিকামী মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসানের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, আইনমন্ত্রীর সহধর্মিণী শিরিন সুলতানা এবং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক আবৃত্তিশিল্পী, শিশু-কিশোর ও শিল্প-সাহিত্য অনুরাগী দর্শকরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy