ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজারে শিশু যৌন নির্যাতন চেষ্টার অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব তুর্কি প্রতিষ্ঠান সানকোর দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর মৃত্যু একদিনেই ১০ শতাংশ কমল বিশ্ববাজারে তেলের দাম সাতক্ষীরা সীমান্তে জব্দ প্রায় ৩২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি মানিকগঞ্জে স্কুলছাত্র সোহান হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ বাতিল চায় জামায়াত শরীয়াহ বোর্ডের বিশেষ সভা করল মাস্তুল ফাউন্ডেশন ঢাবি সাইবার নিরাপত্তা মাস্টার্স কোর্সে ফি কমল ৬০ হাজার

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ বাতিল চায় জামায়াত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় কার্যকর না করে সরকার তাদের জাতীয় অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আজ জাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগ ও হাজার হাজার আহত মানুষের অবদানের বিনিময়ে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দেশ কি আসলেই সেই পথে এগোচ্ছে, নাকি আবারও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকেই ফিরে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে গেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার যে অঙ্গীকার ছিল, তাও রক্ষা করা হয়নি।

জামায়াতের এই নেতা বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ওই দফার নবম দফায় স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনের পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও এনজিওবিষয়ক ব্যুরোসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে শামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর শামসুল আলম বিএনপির একটি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমন একজন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এই নির্বাচনে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভূমিকা থাকে। ফলে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট কোনো ব্যক্তিকে ওই পদে রাখলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠবে। তিনি মন্তব্য করেন, যিনি এতদিন বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সোচ্চার ছিলেন, তাঁর অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।

জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলে দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া অংশগ্রহণের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেন গোলাম পরওয়ার। এছাড়া নির্বাচনের পর জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক ও কর্মকর্তা নিয়োগের সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। জামায়াত মনে করে, এ ধরনের নিয়োগ বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ বাতিল চায় জামায়াত

আপডেট সময় : ০২:৪৪:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
print news

রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় কার্যকর না করে সরকার তাদের জাতীয় অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আজ জাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগ ও হাজার হাজার আহত মানুষের অবদানের বিনিময়ে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, দেশ কি আসলেই সেই পথে এগোচ্ছে, নাকি আবারও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকেই ফিরে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে পিছিয়ে গেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার যে অঙ্গীকার ছিল, তাও রক্ষা করা হয়নি।

জামায়াতের এই নেতা বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ওই দফার নবম দফায় স্পষ্ট উল্লেখ ছিল যে, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক, সংবিধিবদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনের পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও এনজিওবিষয়ক ব্যুরোসহ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে শামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর শামসুল আলম বিএনপির একটি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমন একজন রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এই নির্বাচনে ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভূমিকা থাকে। ফলে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট কোনো ব্যক্তিকে ওই পদে রাখলে নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠবে। তিনি মন্তব্য করেন, যিনি এতদিন বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সোচ্চার ছিলেন, তাঁর অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।

জামায়াতে ইসলামী অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিলে দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া অংশগ্রহণের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেন গোলাম পরওয়ার। এছাড়া নির্বাচনের পর জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক ও কর্মকর্তা নিয়োগের সমালোচনা করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। জামায়াত মনে করে, এ ধরনের নিয়োগ বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তাই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy