একদিনেই ১০ শতাংশ কমল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

- আপডেট সময় : ০৩:১৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানের জোরালো সম্ভাবনায় একদিনেই তেলের দাম কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে—এমন প্রত্যাশায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ অনেকটাই কেটে গেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যে এই বড় পতন ঘটে। বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৬ মার্কিন ডলারে। আগের দিনের ৯১ দশমিক ৬৮ ডলার থেকে এর দাম কমেছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। আনাদোলুর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে আসে। এর আগে, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি কমে যাওয়ার উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই শঙ্কায় গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে প্রায় দুই সপ্তাহের সংঘাতের পর গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিলে তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে।
সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বর্তমানে ‘ভালো আলোচনা’ চলছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারাও পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
এরই মধ্যে কাজাখস্তানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান রুট রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে অবস্থিত ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম টার্মিনাল থেকে পুনরায় অপরিশোধিত তেল পরিবহন শুরু হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নতি ঘটেছে। তবে বাজারে এখনও কিছুটা সতর্কতা বজায় রয়েছে। কারণ ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের আরামকো-সংশ্লিষ্ট জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনাগুলোতে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে।




























