সারা দেশে ৪৫৩ কিশোর গ্যাং, দিনদিন বাড়ছে অপরাধের বিস্তার
- আপডেট সময় : ০৮:৪২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খুনাখুনি, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমি দখল এবং ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধে জড়াচ্ছে এসব চক্রের সদস্যরা। প্রতিটি গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নামে-বেনামে পেজ খুলে তাদের কর্মকাণ্ড প্রচার করছে, যা অন্য কিশোরদের অপরাধে প্ররোচিত করছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ৪৫৩টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।
বাংলাদেশে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির সূত্রপাত হয় ২০০১ সালে ঢাকার উত্তরায় ‘টেন গ্যাং’য়ের মাধ্যমে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বখাটে তরুণদের আড্ডা থেকে জন্ম নেওয়া এই কালচার এখন রাজধানী পেরিয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৫০টি থানায় ১৬১টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুরে ৩৯টি, তেজগাঁওয়ে ২৩, ওয়ারিতে ২৩, লালবাগে ২০, রমনায় ১৫, উত্তরায় ১৫, মতিঝিলে ১৪ এবং গুলশানে ১২টি গ্যাং রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে চট্টগ্রাম মহানগরসহ ১১ জেলায় ১৩০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় আছে।
অপরাধ বিজ্ঞানীদের মতে, খেলাধুলার মাঠ ও বিনোদনের অভাব এবং রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এই গ্যাং কালচার বিস্তারের প্রধান কারণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, শুধু পুলিশি অভিযানে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পরিবারে সুস্থ পরিবেশের অভাব এবং রাজনৈতিক বড় ভাইদের প্রশ্রয় কিশোরদের অপরাধের পথে ঠেলে দিচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পরও অধিকাংশ কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব এখনো ছাত্রলীগের হাতেই রয়ে গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সদস্যদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র ও মাদকের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। এছাড়া বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় গ্যাংগুলোর মধ্যে রয়েছে মিরপুরের ‘বগা হৃদয়’ গ্রুপ, ‘ভাস্কর গ্রুপ’, ‘এলকে ডেভিল বয়েজ’, ‘পটেটো রুবেল’ গ্রুপ, ‘অতুল গ্যাং’, ‘অপু গ্রুপ’, ‘রকি গ্রুপ’, পিন্টু ও কাল্লু গ্রুপ, ভাই-ভাই গ্রুপ, রোমান্টিক গ্রুপ, সোহেল গ্রুপ ও ইমন গ্রুপ। গুলশানে ‘ডি-নাঈম’ ও ‘মাইরা ভইরা দে’ গ্রুপ এবং তেজগাঁও এলাকায় ‘কানা জসিম’ ও ‘শাকিল গ্রুপ’ সক্রিয়। মোহাম্মদপুরে ‘ঘুটা দে গ্রুপ’, আদাবরে ‘দ্যা কিং অব গাইরালা’, শাহবাগে ‘আলফা ওয়ান’ এবং হাজারীবাগে ‘লাভলেন গ্রুপ’ সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া ডেমরায় ‘স্বপ্নিল পৃথিবী’, লালবাগে ‘টিকটক গ্রুপ’, উত্তরায় ‘নাইনস্টার’ ও ‘এইচবিটি হিটার বয়েজ’ গ্রুপ ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৭৮টি গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় পাঁচটি, কুমিল্লায় ছয়টি, নোয়াখালীতে পাঁচটি, কক্সবাজারে আটটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঁচটি, চাঁদপুরে চারটি, লক্ষ্মীপুরে তিনটি, ফেনীতে তিনটি এবং পার্বত্য তিন জেলায় আটটি গ্যাং রয়েছে। ঢাকা বিভাগে ৭১টি, রাজশাহী বিভাগে ১৭, খুলনা বিভাগে ১৫, সিলেট বিভাগে ১২, বরিশাল বিভাগে ২০, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯ এবং রংপুর বিভাগে ১৮টি গ্যাং চক্র সক্রিয় রয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশ প্রতিটি এলাকায় টহল বাড়িয়ে পাড়া-মহল্লায় নজরদারি কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছে।




























