রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর: এমপি মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা তদন্তাধীন
- আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদের (মিষ্টি) সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তদন্তে যার নামই উঠে আসুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক যোগসূত্র নেই, তবে অপরাধীদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরের এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে হামলা চালায়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, হামলাকারীরা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও টিকা লুট করে এবং এক্সক্যাভেটর দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। ঘটনার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়, যার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এই হামলার সঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে শাহআলী থানায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, অপরাধীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা পুলিশের রুটিন কাজ। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির বিষয়ে ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না; অপরাধীকে কেবল অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।



























