ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জরিমানা-নিষেধাজ্ঞার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের স্মরণে অটল এনএফএল খেলোয়াড় টাইব্রেকারে উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতল স্পেন মরিয়মের মৃত্যু: রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা ও লুটপাট: গ্রেপ্তার ৫ মেসির সঙ্গে আলিঙ্গনের সেই মুহূর্তে কী বলেছিলেন লামিন ইয়ামাল আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল এক সপ্তাহ আগে স্বামীকে নিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালন করলেন চিত্রনায়িকা সুবাহ শরণখোলায় জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের বিশাল কোরাল মাছ মুম্বাইয়ে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে জেল ভরো আন্দোলনের ডাক সিজেপির ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সাথে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনা

আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল এক সপ্তাহ আগে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে আইফোনের লোভে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয় এবং পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তুহিনের বর্ণনা অনুযায়ী, পাঁচ-ছয় মাস ধরে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল এবং অপ্রতিম তাদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ছবি তুলতে ও টিকটক ভিডিও বানাতে যেত। তুহিন জানান, অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তার এবং অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরের লোভ জন্মে। ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছে তাদের বৈঠকে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

দোকানে কর্মরত কিশোরটি তার জবানবন্দিতে ওই বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও মূল দায় তুহিনের ওপর চাপিয়েছে। অন্যদিকে, তৃতীয় কিশোরটি জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে তার এক বন্ধু তাকে জানায় যে তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে। জবানবন্দিগুলো থেকে এটি স্পষ্ট যে হত্যার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক ছিল না, বরং আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল।

ঘটনার আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর ময়নামতির একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। এরপর টিকটক ও মুঠোফোনে যোগাযোগের পর পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতিমকে ছবি তোলার কথা বলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে সানন্দা পশ্চিমপাড়ার নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তুহিনের চাচার পাহাড় বলে জানা গেছে। সেখানে আইফোন নিয়ে বিরোধের জেরে কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। অপর দুই কিশোরও তাদের জবানবন্দিতে ঘটনার দিন বিকেলে পাহাড়ে যাওয়ার আগে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তৃতীয় কিশোরের বর্ণনাও প্রায় একই। সে জানিয়েছে, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে ওই কিশোরের দেখা হয়। সেখানেই হত্যার পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। এরপর তারা পাহাড়ে গিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনকে বসে থাকতে দেখে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

আইফোনের লোভে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল এক সপ্তাহ আগে

আপডেট সময় : ০৩:১৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে আইফোনের লোভে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ১৮ সেপ্টেম্বর বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয় এবং পরদিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তুহিনের বর্ণনা অনুযায়ী, পাঁচ-ছয় মাস ধরে অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয় ছিল এবং অপ্রতিম তাদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ছবি তুলতে ও টিকটক ভিডিও বানাতে যেত। তুহিন জানান, অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তার এবং অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরের লোভ জন্মে। ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কাছে তাদের বৈঠকে অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

দোকানে কর্মরত কিশোরটি তার জবানবন্দিতে ওই বৈঠকের কথা স্বীকার করলেও মূল দায় তুহিনের ওপর চাপিয়েছে। অন্যদিকে, তৃতীয় কিশোরটি জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে তার এক বন্ধু তাকে জানায় যে তুহিনের সঙ্গে মিলে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে। জবানবন্দিগুলো থেকে এটি স্পষ্ট যে হত্যার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিক ছিল না, বরং আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল।

ঘটনার আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর ময়নামতির একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। এরপর টিকটক ও মুঠোফোনে যোগাযোগের পর পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতিমকে ছবি তোলার কথা বলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে সানন্দা পশ্চিমপাড়ার নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যা তুহিনের চাচার পাহাড় বলে জানা গেছে। সেখানে আইফোন নিয়ে বিরোধের জেরে কোদালের হাতল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। অপর দুই কিশোরও তাদের জবানবন্দিতে ঘটনার দিন বিকেলে পাহাড়ে যাওয়ার আগে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তৃতীয় কিশোরের বর্ণনাও প্রায় একই। সে জানিয়েছে, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে ওই কিশোরের দেখা হয়। সেখানেই হত্যার পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। এরপর তারা পাহাড়ে গিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনকে বসে থাকতে দেখে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din