নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের আশায় হোটেলে নেতাকর্মীদের ভিড়
- আপডেট সময় : ১১:১৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের সামনে জড়ো হচ্ছেন বিএনপি’র যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন শাখার নেতাকর্মীরা। তাদের মূল লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা, কিংবা অন্তত একটি ছবি তোলা। গত দুই দিন ধরে হোটেলের সামনে কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে ভিড় করতে ও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে নেতাকর্মীদের এমন বিপুল সমাগম তারা আগে দেখেননি। হোটেলের সামনে অপেক্ষায় থাকা অনেক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে একটি ছবি তুলতে পারা তাদের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় প্রাপ্তি হবে। নিউইয়র্ক মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা আনন্দিত, প্রধানমন্ত্রী আমাদের শহরে আছেন। সবার মতো আমরাও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাই।’ সংগঠনের সম্পাদক মোহাম্মদ বদিউল আলম জানান, সব নেতাকর্মীর একটাই চাওয়া লিডারের সাক্ষাৎ, আর এর জন্যই তারা কাজ করছেন।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্য পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। হোটেলের নিরাপত্তার কড়াকড়িতে কক্ষের চাবি ছাড়া কাউকে লবিতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। হোটেল কর্মীদের ভাষ্যমতে, সেখানে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ অতিথি অবস্থান করছেন এবং প্রবেশপথে ভিড়ের কারণে তাদের চলাচলেও অসুবিধা হচ্ছে।
হোটেলের সামনে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার, ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট বিএনপি’র সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, বোস্টন বিএনপি’র সভাপতি সৈয়দ সাইফুল ইসলাম, ওয়াশিংটন বিএনপি’র সেক্রেটারি জাকির হোসেন, টেনেসি স্টেট বিএনপি’র সভাপতি ড. তরিকুল ইসলাম এবং যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফায়েল চৌধুরী লিটনকে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন শাখার অনেক নেতা একই হোটেলে কক্ষ নিলেও সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ অনেকেরই হয়নি। সাক্ষাতের ব্যবস্থা না হওয়ায় বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের ওপর কয়েকজন নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। কানাডা পশ্চিম বিএনপির সভাপতি আহাদ খন্দকার বলেন, ‘লিডার আমাদের প্রাণ। তার সঙ্গে দেখা করতে সবাই চান। আমরাও তার ব্যতিক্রম নই।’
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে হোটেলের সামনে অপেক্ষা করছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে জগলু। তিনি বলেন, ‘আমির খসর খসরু আঙ্কেলকে খুঁজছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করতে পারলে অনেক খুশি হতাম।’ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী কোনো মন্ত্রী বা ব্যক্তিগত কর্মী হোটেল থেকে বের হলেই তাদের ঘিরে ছবি তুলতে ও কথা বলতে এগিয়ে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কোনো মন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত দু’দিনে প্রধানমন্ত্রী হোটেলের বারান্দা থেকে তাদের ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন এবং অন্য অতিথি ও স্থানীয় মানুষের অসুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন। তবুও সাক্ষাতের আশায় অনেকে এখনো হোটেলের সামনে অপেক্ষায় আছেন।



























