ডিসেম্বরেই ফিরছেন শেখ হাসিনা? গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সব রুট
- আপডেট সময় : ১১:৫৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে। দৈনিক নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আসছে ডিসেম্বরে কী ঘটতে চলেছে—তা নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা চলছে। বিগত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের মুখে দেড় দশকের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই তিনি নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। তাঁর এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেশে একাধিক হত্যা মামলা, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দেন। তিনি দাবি করেন, পলাতক থেকে আইনি লড়াই চালানোর চেয়ে নিজের মাটিতে ফিরে আত্মপক্ষ সমর্থন করা শ্রেয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই ঘোষণা কেবল আইনি লড়াইয়ের অংশ নয়, বরং ভেঙে পড়া দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলও হতে পারে। এই সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কেও এক ধরনের শীতলতা বিরাজ করছে, যা এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে আরও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নীতিনির্ধারকরা বাংলাদেশে ফেরার জন্য আকাশ ও স্থলপথের একাধিক বিকল্প রুটম্যাপ তৈরি করেছেন। আকাশপথের পরিকল্পনায় বেশ কিছু স্পর্শকাতর রুটের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো নয়াদিল্লি থেকে সরাসরি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা। দ্বিতীয় বিকল্প হিসেবে হেলিকপ্টারে নয়াদিল্লি থেকে উড়ে সরাসরি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি কমপ্লেক্সের পাশে হেলিপ্যাডে নামার পরিকল্পনা রয়েছে। আরেকটি ছক অনুযায়ী, দিল্লি থেকে হেলিকপ্টারে প্রথমে কলকাতায় নেমে, সেখান থেকে যশোরের বিমানবন্দরে এবং পরবর্তীতে একই হেলিকপ্টারে ঢাকার কোনো সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করা হতে পারে।
স্থলপথে ভারত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য গোয়েন্দা তথ্যে সাতটি প্রধান রুট চিহ্নিত করা হয়েছে:
প্রথম রুট: দিল্লি থেকে আগ্রা হয়ে লখনৌ, প্রয়াগরাজ, বারাণসী ও কলকাতা হয়ে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং যশোর হয়ে ঢাকা। ২. দ্বিতীয় রুট : দিল্লি থেকে আগ্রা, লখনৌ, বারাণসী ও কলকাতা হয়ে ঘোজাডাঙ্গা (ভারত) থেকে ভোমরা স্থলবন্দর (বাংলাদেশ) হয়ে খুলনা ও ঢাকা। ৩. তৃতীয় রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ, বারাণসী, পাটনা ও মালদার মহদীপুর (ভারত) হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ও রাজশাহী হয়ে ঢাকা। ৪. চতুর্থ রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ, বারাণসী, পাটনা ও শিলিগুড়ির হিলি (ভারত) হয়ে দিনাজপুরের হিলি (বাংলাদেশ) ও ঢাকা। ৫. পঞ্চম রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ, গোরখপুর, শিলিগুড়ি ও চ্যাংড়াবান্ধা (ভারত) হয়ে বুড়িমারী (বাংলাদেশ) ও রংপুর হয়ে ঢাকা। ৬. ষষ্ঠ রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ হয়ে গুয়াহাটি, শিলং ও ডাউকি (ভারত) হয়ে তামাবিল ও সিলেট হয়ে ঢাকা। ৭. সপ্তম রুট : দিল্লি থেকে লখনৌ হয়ে গুয়াহাটি ও আগরতলা হয়ে আখাউড়া ও কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে ঢাকা প্রবেশ। এসবের পাশাপাশি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর ও বরিশালের বিমানবন্দর ব্যবহার করে সড়কপথে নিকটবর্তী শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার একটি দূরত্বভিত্তিক কৌশলগত নকশাও গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে। দেশের ভেতরের সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরের শুদ্ধি অভিযান এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নানা মূল্যায়ন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল আকাশ ও স্থলপথের এই একাধিক বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে ছক কষছেন বলে জানা গেছে।





























