ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

লালনসম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আজ লালনসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী এবং ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত নানা জটিলতায় ভোগার পর ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী। মৃত্যুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর অনন্য কণ্ঠের গান, সংগীতসাধনা এবং লালন সাঁইয়ের দর্শনের প্রতি গভীর নিষ্ঠা শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে।

ফরিদা পারভীন কেবল একজন কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, বরং লালনগীতি ও বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি ছিলেন। তাঁর দরদি কণ্ঠে লালন শাহের গান দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ মানুষের কাছে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদ, জীবনদর্শন ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে সহজভাবে পৌঁছে দিতে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। তবে তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার দিনগুলো কেটেছে কুষ্টিয়ায়। শৈশবেই মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে গানের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি।

১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সংগীত অঙ্গনে ফরিদা পারভীনের পথচলা শুরু হয়। এরপর ১৯৭৩ সালের দিকে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে আধ্যাত্মিক সাধক Moksed Ali সাঁইয়ের সান্নিধ্যে এসে লালনসংগীতে দীক্ষা নেওয়া শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে তিনি খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের মতো গুণী সাধকদের কাছ থেকে লালনসংগীতের তালিম নেন।

লালনের বাণী ও সুরকে গণমানুষের অন্তরে গেঁথে দেওয়ার পেছনে ফরিদা পারভীনের সাধনা ছিল চিরস্মরণীয়। সংগীতের টানে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া লালনগীতিগুলো আজও শ্রোতাদের মাঝে বিপুল জনপ্রিয় ও সমাদৃত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

লালনসম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট সময় : ০৫:০২:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ লালনসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী এবং ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত নানা জটিলতায় ভোগার পর ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী। মৃত্যুর এক বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁর অনন্য কণ্ঠের গান, সংগীতসাধনা এবং লালন সাঁইয়ের দর্শনের প্রতি গভীর নিষ্ঠা শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরভাস্বর হয়ে রয়েছে।

ফরিদা পারভীন কেবল একজন কণ্ঠশিল্পীই ছিলেন না, বরং লালনগীতি ও বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি ছিলেন। তাঁর দরদি কণ্ঠে লালন শাহের গান দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণ মানুষের কাছে লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদ, জীবনদর্শন ও আধ্যাত্মিক চেতনাকে সহজভাবে পৌঁছে দিতে তিনি অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোর জেলার সিংড়া থানার শাওল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। তবে তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার দিনগুলো কেটেছে কুষ্টিয়ায়। শৈশবেই মাগুরায় ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে গানের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি।

১৯৬৮ সালে রাজশাহী বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সংগীত অঙ্গনে ফরিদা পারভীনের পথচলা শুরু হয়। এরপর ১৯৭৩ সালের দিকে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে আধ্যাত্মিক সাধক Moksed Ali সাঁইয়ের সান্নিধ্যে এসে লালনসংগীতে দীক্ষা নেওয়া শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে তিনি খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের মতো গুণী সাধকদের কাছ থেকে লালনসংগীতের তালিম নেন।

লালনের বাণী ও সুরকে গণমানুষের অন্তরে গেঁথে দেওয়ার পেছনে ফরিদা পারভীনের সাধনা ছিল চিরস্মরণীয়। সংগীতের টানে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া লালনগীতিগুলো আজও শ্রোতাদের মাঝে বিপুল জনপ্রিয় ও সমাদৃত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din