ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে অবৈধ প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা
- আপডেট সময় : ০৬:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অনিয়মিত বা অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পারাপারের ঘটনা সামগ্রিকভাবে কমলেও ভূমধ্যসাগরের প্রধান দুটি সমুদ্র পথ দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে বাংলাদেশিরা শীর্ষস্থানে রয়েছেন। ইউরোপের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ইউরোপে অনিয়মিতভাবে সীমান্ত পারাপারের ঘটনা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কমেছে।
১১ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) প্রকাশিত ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের প্রথম আট মাসে ইইউর বহির্সীমান্তে প্রায় ৭৫ হাজার অনিয়মিত প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে। মূলত অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি ও গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাস্থলগুলোতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে ইউরোপমুখী নৌকার সংখ্যা কমেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতা অঞ্চলে ব্যাপক অনিয়মিত প্রবেশের ঘটনাটি এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, কারণ তাদের বেশিরভাগই নিবন্ধন ছাড়া মরক্কোতে ফিরে গেছেন।
শুধু আগস্ট মাসে প্রায় ১০ হাজার ৭০০টি অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার শনাক্ত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় ৩৮ শতাংশ কম। এবারই প্রথম ইইউর নতুন ‘প্যাক্ট অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম’র অধীনে গ্রীষ্মকাল পার হলো, যেখানে অভিবাসীদের যাচাইয়ের জন্য একটি একক স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। ফ্রন্টেক্সের ৩ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা সদস্য দেশগুলোকে জাতীয়তা নির্ধারণ, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ ও নথিপত্র যাচাইয়ে সহায়তা করছেন। তবে সীমান্ত পারাপার কমলেও ঝুঁকি কমেনি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৮০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম আট মাসে সবচেয়ে ব্যস্ত ছিল পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় পথ। এ পথে ২৪ হাজার ২০০-এর বেশি অনিয়মিত পারাপার শনাক্ত হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। এই পথে লিবিয়া থেকে ক্রিট দ্বীপমুখী করিডরটি অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। তবে জুলাই নাগাদ তুরস্কের সঙ্গে স্থলসীমান্ত এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জকে ছাড়িয়ে যায়। আগস্টে এ পথে প্রায় ৩ হাজার পারাপার শনাক্ত হয়, যেখানে অভিবাসীদের প্রধান জাতীয়তার মধ্যে ছিলেন আফগান, সুদানি ও বাংলাদেশি নাগরিক।
অন্যদিকে, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জনের প্রবেশ শনাক্ত হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৫৫ শতাংশ কম। লিবিয়া ও তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষের কড়া আইন প্রয়োগকারী অভিযান ও আটকের ফলে এ পথে নৌযাত্রা কমেছে। মোট প্রবেশের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই হয়েছে লিবিয়া থেকে। এ পথে শনাক্ত হওয়া অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশি, সোমালি ও আলজেরীয়দের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।
প্রধান পথগুলোর মধ্যে একমাত্র পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় পথেই অনিয়মিত প্রবেশ ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার ৯০০-তে দাঁড়িয়েছে। আলজেরিয়া থেকে যাত্রা করে অভিবাসীরা স্পেনের মূল ভূখণ্ড ও বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করছেন। মরক্কো ও সংলগ্ন অঞ্চলে কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে মানব পাচারকারীরা পথ পরিবর্তন করে আলজেরিয়া উপকূলকে ব্যবহার করছে।
এছাড়া, পশ্চিম আফ্রিকান পথে অনিয়মিত প্রবেশ সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৫৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ১০০-তে দাঁড়িয়েছে। মরিতানিয়া ও সেনেগালের প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কারণে এই পতন ঘটেছে। তবে জুলাই মাসে গাম্বিয়া, সেনেগাল ও গিনি-বিসাউ থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। এদিকে, ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের চেষ্টাও ৪৩ শতাংশ কমে প্রায় ২৬ হাজার ৬০০-তে দাঁড়িয়েছে। তবে মানব পাচারকারীরা অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে নৌকা পাঠাচ্ছে, যেখানে জুলাইয়ের শেষে একটি নৌকায় ১৬৫ জনকে বহন করতে দেখা গেছে।
তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে মরক্কো থেকে স্পেনের সেউতা (Ceuta) অঞ্চলে মানুষের ব্যাপক প্রবেশের ঘটনা এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ ঘটনার চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণের সম্ভাবনাও নেই। কারণ, সীমান্ত অতিক্রমকারীদের বেশিরভাগই নিবন্ধিত না হয়েই মরক্কোতে ফিরে গেছেন।



























