আবেদনের তিন বছর পরও ভারতের বিরোধিতায় ব্রিকসে ঢুকতে পারছে না পাকিস্তান
- আপডেট সময় : ১০:০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের সদস্য হতে ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল পাকিস্তান। তবে প্রায় তিন বছর পার হতে চললেও এখনো এই জোটে জায়গা পায়নি ইসলামাবাদ। রাশিয়া ও চীনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও মূলত ভারতের তীব্র বিরোধিতার কারণে পাকিস্তানের ব্রিকস সদস্যপদ পাওয়ার পথটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। ব্রিকসে নতুন কোনো সদস্য বা অংশীদার দেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল সদস্যের ঐকমত্যের নীতি (consensus) অনুসরণ করা হয়। ফলে ভারতের আপত্তি থাকায় পাকিস্তানের এই জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ঝুলে গেছে।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোটটি গত বছর মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ‘ব্রিকস প্লাস’-এ রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তানসহ আরও ২৯টি দেশ এই জোটের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করে অপেক্ষায় রয়েছে। পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পেছনে মূলত দেশটির চলমান অর্থনৈতিক সংকট বড় ভূমিকা রাখছে। পাকিস্তান ইকোনমিক সার্ভে অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ব্রিকস সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে ৫৮ কোটি ডলারের শেয়ার কিনেছে পাকিস্তান। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থায়নের বিকল্প উৎস তৈরি করতেই ইসলামাবাদ এই বড় অংকের বিনিয়োগ করেছে।
২০২৩ সালে পাকিস্তান যখন এই আবেদনটি করে, তখন গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্বকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট হিসেবে ব্রিকসের গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে বাড়ছিল। বর্তমানে এই সম্প্রসারিত জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। তাছাড়া ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি (পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি) অনুযায়ী বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশই ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর দখলে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিকস সদস্যদের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জোটভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৪৩ কোটি ডলার থেকে ৯৫৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বেলুচ এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগদানের আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি ব্রিকসকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট হিসেবে উল্লেখ করে জানান, ব্রিকসের ‘বেশিরভাগ’ সদস্য দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ব্রিকস পাকিস্তানের আবেদনের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। পাকিস্তান ব্রিকসে যোগ দিলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তাদের বিশ্বাস।
এছাড়া রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, সদস্যপদের পক্ষে সমর্থন আদায়ে পাকিস্তান ব্রিকসের সব সদস্য দেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। বিশেষ করে রাশিয়ার কাছ থেকে এ বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে বেইজিং ও মস্কোর আন্তরিক সমর্থন থাকা সত্ত্বেও নয়াদিল্লির আপত্তির কারণে পাকিস্তানের ব্রিকস যাত্রা এখনো অধরাই রয়ে গেছে।



























