গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট
- আপডেট সময় : ০৪:১৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর পরিশোধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। এ-সংক্রান্ত জারি করা রুল খারিজ করে আদালত এই নির্দেশনা প্রদান করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ জানান, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত মোট পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে এনবিআর গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবি করে নোটিশ দিয়েছিল। এই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটি ২০১৭ সালে পৃথক রিট আবেদন করে। আদালত শুনানি শেষে সেই রিট ও রুল খারিজ করে দিয়েছেন। হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর এনবিআর এই অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, তারা হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিল বিভাগ যদি হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ দেন, তবে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে হবে না।
মামলায় গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ ও অ্যাডভোকেট জামিউল হক ফয়সাল।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ এই রিট আবেদন খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেই রায় প্রত্যাহার করা হয়, কারণ ওই বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক অতীতে এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। এরপর মামলাটির নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় এবং শুনানির জন্য নতুন বেঞ্চ গঠন করা হয়।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ অর্থ দাবি করে এনবিআর। ওই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে পৃথক রিট করে প্রতিষ্ঠানটি।



























