ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিতে মার্কিন বাহিনীকে পেন্টাগনের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে বিস্ফোরক মামলায় পদচ্যুত ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার দুর্গাপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা, ২৩ মণ্ডপে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ২০৫০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হবে ঢাকা, প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ মা ইলিশ রক্ষা অভিযান: প্রথম রাতেই পটুয়াখালীতে তিনজনের কারাদণ্ড ফেসবুকে প্রেম ও মুঠোফোনে বিয়ে, পরে প্রবাসী জানলেন স্ত্রী আসলে তরুণ ‘আবরার হত্যার সময় শিবিরের অনেকে ছাত্রলীগ সেজে বেঁচেছিল’: রাশেদ খান ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক, জেরুজালেমে কনস্যুলেটের নাম বদল স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বাধা নেই: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: সক্রিয় ১৬০টি গ্রুপ, সদস্য তিন হাজার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ব্রাউন চুল, জিন্স-টি-শার্ট আর পায়ে কেডস—হাতে জ্বলন্ত সিগারেট আর রামদা নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া এখন রাজধানীর পরিচিত দৃশ্য। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং জমি দখলের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়সীরা। এই গ্যাং কালচার বা কিশোর গ্যাং এখন রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকায় এক চরম আতঙ্কের নাম। শুধু ঢাকা নয়, এই সামাজিক ব্যাধি এখন সারা দেশের পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৮টি ক্রাইম জোনে বর্তমানে ১৬০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যাদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি। উদ্বেগের বিষয় হলো, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে রাজধানীতে গ্যাংয়ের সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১১৮টি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে-মধ্যে এদের গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে তারা পুনরায় অপরাধে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরদের এই অপরাধ প্রবণতার পেছনে পারিবারিক নজরদারির অভাব, ইন্টারনেটের অপব্যবহার, খেলার মাঠের সংকট এবং সুস্থ বিনোদনের অভাব দায়ী।

গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিএমপি’র ক্রাইম জোনের তেজগাঁও এবং মিরপুর বিভাগে গ্যাং কালচারের বিস্তার সবচেয়ে ভয়াবহ। তেজগাঁও বিভাগে ৪১টি এবং মিরপুর বিভাগে ৩৫টিসহ এই দুই বিভাগে মোট ৭৬টি গ্যাং সক্রিয়। এছাড়া ওয়ারী বিভাগে ২০টি, মতিঝিল বিভাগে ১৬টি, উত্তরা বিভাগে ১৫টি, রমনা বিভাগে ১২টি, গুলশান বিভাগে ১১টি এবং লালবাগ বিভাগে ১০টি গ্যাং রয়েছে। থানাভিত্তিক হিসেবে মোহাম্মদপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ২৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়, যার সদস্য সংখ্যা ৪৮১ জন। এছাড়া পল্লবী এলাকায় রয়েছে ১৬টি গ্যাং।

মোহাম্মদপুরের গ্যাংগুলোর মধ্যে পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, স্টার বন্ড, ভাইব্বা ল কিং, টক্কর ল গ্রুপ, লারা দে, বেলচা মনির গ্রুপসহ বিভিন্ন অদ্ভুত নামের গ্রুপ সক্রিয়। পল্লবী এলাকায় আশিক গ্রুপ, ৬.৯ ইয়াসিন গ্রুপসহ ১৫টি গ্রুপ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারে কিশোর গ্যাংদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে ৮টি গ্রুপ সক্রিয়। ২০১৭ সালে উত্তরার আদনান কবির খুনের ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা প্রকাশ্যে এলেও উত্তরা বিভাগে বর্তমানে নতুন করে ১৫টি গ্রুপ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

সমাজ ও অপরাধ বিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল হক জানান, এসব কিশোর গ্যাং রাজনৈতিক নেতা বা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতায় অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি তাদের আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, ‘কিশোর আইন’ এবং অপরাধীদের জামিন পাওয়ার সুযোগ গ্যাং দমনে অন্যতম বড় বাধা। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ডিএমপি ও ডিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য: সক্রিয় ১৬০টি গ্রুপ, সদস্য তিন হাজার

আপডেট সময় : ১২:৪১:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাউন চুল, জিন্স-টি-শার্ট আর পায়ে কেডস—হাতে জ্বলন্ত সিগারেট আর রামদা নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া এখন রাজধানীর পরিচিত দৃশ্য। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং জমি দখলের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়সীরা। এই গ্যাং কালচার বা কিশোর গ্যাং এখন রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকায় এক চরম আতঙ্কের নাম। শুধু ঢাকা নয়, এই সামাজিক ব্যাধি এখন সারা দেশের পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৮টি ক্রাইম জোনে বর্তমানে ১৬০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যাদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩ হাজারেরও বেশি। উদ্বেগের বিষয় হলো, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে রাজধানীতে গ্যাংয়ের সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১১৮টি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে-মধ্যে এদের গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বেরিয়ে তারা পুনরায় অপরাধে বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরদের এই অপরাধ প্রবণতার পেছনে পারিবারিক নজরদারির অভাব, ইন্টারনেটের অপব্যবহার, খেলার মাঠের সংকট এবং সুস্থ বিনোদনের অভাব দায়ী।

গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিএমপি’র ক্রাইম জোনের তেজগাঁও এবং মিরপুর বিভাগে গ্যাং কালচারের বিস্তার সবচেয়ে ভয়াবহ। তেজগাঁও বিভাগে ৪১টি এবং মিরপুর বিভাগে ৩৫টিসহ এই দুই বিভাগে মোট ৭৬টি গ্যাং সক্রিয়। এছাড়া ওয়ারী বিভাগে ২০টি, মতিঝিল বিভাগে ১৬টি, উত্তরা বিভাগে ১৫টি, রমনা বিভাগে ১২টি, গুলশান বিভাগে ১১টি এবং লালবাগ বিভাগে ১০টি গ্যাং রয়েছে। থানাভিত্তিক হিসেবে মোহাম্মদপুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ২৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়, যার সদস্য সংখ্যা ৪৮১ জন। এছাড়া পল্লবী এলাকায় রয়েছে ১৬টি গ্যাং।

মোহাম্মদপুরের গ্যাংগুলোর মধ্যে পাটালি গ্রুপ, লেভেল হাই গ্রুপ, গাংচিল গ্রুপ, স্টার বন্ড, ভাইব্বা ল কিং, টক্কর ল গ্রুপ, লারা দে, বেলচা মনির গ্রুপসহ বিভিন্ন অদ্ভুত নামের গ্রুপ সক্রিয়। পল্লবী এলাকায় আশিক গ্রুপ, ৬.৯ ইয়াসিন গ্রুপসহ ১৫টি গ্রুপ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারে কিশোর গ্যাংদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে ৮টি গ্রুপ সক্রিয়। ২০১৭ সালে উত্তরার আদনান কবির খুনের ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা প্রকাশ্যে এলেও উত্তরা বিভাগে বর্তমানে নতুন করে ১৫টি গ্রুপ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

সমাজ ও অপরাধ বিজ্ঞানী ড. তৌহিদুল হক জানান, এসব কিশোর গ্যাং রাজনৈতিক নেতা বা শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতায় অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি তাদের আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহার করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, ‘কিশোর আইন’ এবং অপরাধীদের জামিন পাওয়ার সুযোগ গ্যাং দমনে অন্যতম বড় বাধা। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ডিএমপি ও ডিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin