ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের মধ্যে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা গত বুধবার সংস্থাটির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে একই বছরের শেষভাগে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর আগে, একই বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের পাঠানো একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। তবে সায়মা ওয়াজেদ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তুলেছে। এই দাবির বিপরীতে সায়মা উল্লেখ করেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার অনেক আগেই তিনি ওই জমিটি অর্জন করেছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় সম্পূর্ণ বৈধভাবেই তিনি জমিটির মালিকানা পেয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ অভিযোগ করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে। বিনা বেতনে ছুটিতে থাকার কারণে প্রায় এক বছর ধরে তিনি কোনো পারিশ্রমিক পাননি, যা তাঁর জন্য একটি असहনীয় আর্থিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং ডব্লিউএইচও নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করেছে।

এদিকে, রয়টার্সকে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে যে, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলোর তথ্যমতে, আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য নতুন করে মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে সায়মা তাঁর জুলাইয়ের চিঠিতে দাবি করেন, ৯০১ ডলার ফেরত পাওয়ার একটি আবেদনের ক্ষেত্রে তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য হলো, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছিলেন, যা তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে আগেই স্পষ্ট করেছিলেন।

এই বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ নতুন কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল যে সায়মা ছুটিতে আছেন এবং গোপনীয়তার স্বার্থে তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করবে না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অধীনে রয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক পরিচালকেরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের মধ্যে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

আপডেট সময় : ১০:০২:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা গত বুধবার সংস্থাটির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০২৪ সালের শুরুর দিকে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে একই বছরের শেষভাগে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর আগে, একই বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের পাঠানো একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। তবে সায়মা ওয়াজেদ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগও তুলেছে। এই দাবির বিপরীতে সায়মা উল্লেখ করেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার অনেক আগেই তিনি ওই জমিটি অর্জন করেছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় সম্পূর্ণ বৈধভাবেই তিনি জমিটির মালিকানা পেয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ অভিযোগ করেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি এই পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে। বিনা বেতনে ছুটিতে থাকার কারণে প্রায় এক বছর ধরে তিনি কোনো পারিশ্রমিক পাননি, যা তাঁর জন্য একটি असहনীয় আর্থিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং ডব্লিউএইচও নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস নষ্ট করেছে।

এদিকে, রয়টার্সকে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে যে, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলোর তথ্যমতে, আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য নতুন করে মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে সায়মা তাঁর জুলাইয়ের চিঠিতে দাবি করেন, ৯০১ ডলার ফেরত পাওয়ার একটি আবেদনের ক্ষেত্রে তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য হলো, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছিলেন, যা তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে আগেই স্পষ্ট করেছিলেন।

এই বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ নতুন কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল যে সায়মা ছুটিতে আছেন এবং গোপনীয়তার স্বার্থে তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করবে না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের অধীনে রয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক পরিচালকেরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din