আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি মুলতবি, পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১১:৩৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির পর আরও চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য আদালত মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতে মাওলানা আবুল কালাম আযাদের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আবুল কালাম আযাদ তার আবেদনে বিলম্ব মার্জনা চাওয়ার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
শুনানি শেষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে চার সপ্তাহের জন্য বিষয়টি মুলতবি রাখা হয়েছে। আদালত মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, এই সময়ের মধ্যে আযাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আদালত অবকাশকালীন ছুটিতে থাকবে। ছুটি শেষ হওয়ার চার সপ্তাহ পর আপিলসংক্রান্ত বিষয়টি আবার শুনানির জন্য উঠবে।
এর আগে, ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল দেশের প্রথম রায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছিল।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। পরবর্তীতে জানা যায়, আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছিলেন। এই বিষয়ে গত বছরের ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। আত্মসমর্পণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাকে আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেয় এবং এরপর তিনি আপিল দায়ের করেন।



























