ঢাকা ১০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

খোলাবাজারে এলএনজি সংকট: গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতি দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে এলএনজি কার্গোর তীব্র অনিশ্চয়তা সরকারের এই পরিকল্পনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে চড়া দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় এলএনজি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের সরবরাহের জন্য ডাকা দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। মাসের শেষ সপ্তাহের জন্য যে দর পাওয়া গেছে, তা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি—প্রতি ইউনিট ২৫ দশমিক ৯২ ডলার। জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম সূচক অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রতি ইউনিট এলএনজির বাজারমূল্য ২২ দশমিক ৯৫ থেকে ২৩ দশমিক ৫০ ডলারের মধ্যে থাকার কথা। অতিরিক্ত মূল্যের কারণে আগস্টের একটি কার্গো কেনার প্রস্তাবও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করেনি।

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৩৩-২৩৪ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ৪৪ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত চাহিদা আরও বেশি হওয়ায় ঘাটতির পরিমাণও বেশি। এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক খাতে। গ্যাসের অভাবে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে আছে, যার ফলে লোডশেডিং বাড়ছে। সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে এবং অনেক এলাকায় আবাসিক গ্রাহকদের চুলাও জ্বলছে না।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি-আরপিজিসিএল জরুরি ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য চারটি কার্গো কেনার উদ্যোগ নিলেও সরবরাহকারীর অভাবে তা সফল হয়নি। এছাড়া ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ৬ সেপ্টেম্বরের কার্গো সরবরাহের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। পেট্রোবাংলার সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কার্গো আসার কথা থাকলেও বর্তমান ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত অন্তত ২০টি কার্গো প্রয়োজন।

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট হলেও এলএনজি কার্গো আমদানির অভাবে এখন মাত্র ৭০-৭২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৬৮টি কার্গো এলেও জুলাই ও আগস্টে আমদানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে ২১টি কার্গো এসেছিল, সেখানে এ দুই মাসে এসেছে মাত্র ১৫টি। সম্প্রতি একটি টার্মিনাল অগ্নিকাণ্ডের কারণে ১৬ দিন বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

খোলাবাজারে এলএনজি সংকট: গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতি দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অন্তত দুই বছর সময় প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে এলএনজি কার্গোর তীব্র অনিশ্চয়তা সরকারের এই পরিকল্পনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে চড়া দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় এলএনজি সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের সরবরাহের জন্য ডাকা দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়নি। মাসের শেষ সপ্তাহের জন্য যে দর পাওয়া গেছে, তা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক বেশি—প্রতি ইউনিট ২৫ দশমিক ৯২ ডলার। জাপান-কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম সূচক অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রতি ইউনিট এলএনজির বাজারমূল্য ২২ দশমিক ৯৫ থেকে ২৩ দশমিক ৫০ ডলারের মধ্যে থাকার কথা। অতিরিক্ত মূল্যের কারণে আগস্টের একটি কার্গো কেনার প্রস্তাবও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করেনি।

দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪১০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৩৩-২৩৪ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ৪৪ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকৃত চাহিদা আরও বেশি হওয়ায় ঘাটতির পরিমাণও বেশি। এই ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক খাতে। গ্যাসের অভাবে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে আছে, যার ফলে লোডশেডিং বাড়ছে। সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে এবং অনেক এলাকায় আবাসিক গ্রাহকদের চুলাও জ্বলছে না।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি-আরপিজিসিএল জরুরি ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য চারটি কার্গো কেনার উদ্যোগ নিলেও সরবরাহকারীর অভাবে তা সফল হয়নি। এছাড়া ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ৬ সেপ্টেম্বরের কার্গো সরবরাহের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। পেট্রোবাংলার সূচি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কার্গো আসার কথা থাকলেও বর্তমান ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত অন্তত ২০টি কার্গো প্রয়োজন।

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট হলেও এলএনজি কার্গো আমদানির অভাবে এখন মাত্র ৭০-৭২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৬৮টি কার্গো এলেও জুলাই ও আগস্টে আমদানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে ২১টি কার্গো এসেছিল, সেখানে এ দুই মাসে এসেছে মাত্র ১৫টি। সম্প্রতি একটি টার্মিনাল অগ্নিকাণ্ডের কারণে ১৬ দিন বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin