ঢাকা ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিষ দিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ: সুন্দরবনের ৪ জেলে কারাগারে ছেলের ১০ বছরে পদার্পণ: জয়কে নিয়ে কক্সবাজারে উড়াল দিলেন অপু বিশ্বাস ঠাকুরগাঁওয়ে উপনির্বাচন ঘিরে বিএনপির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম সরবরাহে বিলম্ব যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরানের দর-কষাকষির অবস্থান দুর্বল হবে: আইনপ্রণেতা সিরাজগঞ্জ বিএনপিতে অচলাবস্থা নিরসনে তারেক রহমানকে খোলা চিঠি কেরানীগঞ্জের ফরহাদ হত্যা মামলার আসামি আরমান গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার সিলেট মহানগর বিএনপির তৃণমূল গোছাতে নতুন উদ্যোগ চাঁদাবাজি ঠেকাতে মোড়ে মোড়ে ‘ভিক্ষার বাক্স’ বসানোর ডাক হাসনাত ও পাটওয়ারীর পাবলো নেরুদা ও গার্সিয়া লোরকার বন্ধুত্ব এবং এক ট্র্যাজিক বিদায়

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপকার এম সাইফুর রহমান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ, যিনি আমৃত্যু সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। দেশের অর্থনীতিকে বিদেশি সাহায্য-নির্ভরতা থেকে বের করে এনে স্বনির্ভর করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংস্কার ও মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবর্তক হিসেবে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান রূপকার। তার রাজনৈতিক জীবনে ১২ বার জাতীয় বাজেট পেশ করে তিনি উপমহাদেশ তথা বিশ্বে এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন।

১৯৩২ সালে মৌলভীবাজারের বাহারমর্দন গ্রামে জন্মগ্রহণ করা সাইফুর রহমান শিক্ষাজীবনে মৌলভীবাজার সরকারি হাইস্কুল থেকে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫১ সালে সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডনে পড়াশোনা করে দি ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬২ সালে পেশাজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য হন এবং পরবর্তীতে ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বেতন কমিশনেরও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৬ থেকে ২০০৬ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি অর্থ, বাণিজ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভ্যাট আইন প্রণয়ন এবং তৈরি পোশাক খাতে বন্ডেড ওয়ারহাউজ ও ব্যাংক-টু-ব্যাংক ঋণপত্র সুবিধা চালুসহ অর্থনীতিতে ব্যক্তি খাতের বিকাশ ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৪ সালে স্পেনের মাদ্রিদে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলনে গভর্নর নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৪-৯৫ সাল পর্যন্ত এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৮০-১৯৮২ মেয়াদে তিনি বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও আইএফএডিতে বাংলাদেশের গভর্নর ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে, সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-৪ আসন থেকে এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন।

সাইফুর রহমান কৃষি, পোল্ট্রি, হ্যাচারি, দুধ ও গরুর খামার এবং যুব প্রশিক্ষণের মতো খাতগুলোতে নীতিগত সংস্কার এনেছেন। তিনি প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎসাহিত করতেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০০৯ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর নিজ জন্মভূমি মৌলভীবাজার থেকে ঢাকা ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপকার এম সাইফুর রহমান

আপডেট সময় : ০১:৩৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী রাজনীতিবিদ, যিনি আমৃত্যু সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। দেশের অর্থনীতিকে বিদেশি সাহায্য-নির্ভরতা থেকে বের করে এনে স্বনির্ভর করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংস্কার ও মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবর্তক হিসেবে তিনি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান রূপকার। তার রাজনৈতিক জীবনে ১২ বার জাতীয় বাজেট পেশ করে তিনি উপমহাদেশ তথা বিশ্বে এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছিলেন।

১৯৩২ সালে মৌলভীবাজারের বাহারমর্দন গ্রামে জন্মগ্রহণ করা সাইফুর রহমান শিক্ষাজীবনে মৌলভীবাজার সরকারি হাইস্কুল থেকে ১৯৪৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯৫১ সালে সিলেট মুরারীচাঁদ কলেজ থেকে আইএ এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিকম ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডনে পড়াশোনা করে দি ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস থেকে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬২ সালে পেশাজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্য হন এবং পরবর্তীতে ১৯৭৩ ও ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয় বেতন কমিশনেরও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৬ থেকে ২০০৬ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি অর্থ, বাণিজ্য ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ভ্যাট আইন প্রণয়ন এবং তৈরি পোশাক খাতে বন্ডেড ওয়ারহাউজ ও ব্যাংক-টু-ব্যাংক ঋণপত্র সুবিধা চালুসহ অর্থনীতিতে ব্যক্তি খাতের বিকাশ ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৪ সালে স্পেনের মাদ্রিদে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলনে গভর্নর নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৪-৯৫ সাল পর্যন্ত এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ১৯৮০-১৯৮২ মেয়াদে তিনি বিশ্বব্যাংক, এডিবি, আইডিবি ও আইএফএডিতে বাংলাদেশের গভর্নর ছিলেন।

জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতা দখল করলে তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে, সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৩ ও সিলেট-৪ আসন থেকে এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ ও মৌলভীবাজার-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভায় তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন।

সাইফুর রহমান কৃষি, পোল্ট্রি, হ্যাচারি, দুধ ও গরুর খামার এবং যুব প্রশিক্ষণের মতো খাতগুলোতে নীতিগত সংস্কার এনেছেন। তিনি প্রবাসীদের দেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎসাহিত করতেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ২০০৯ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর নিজ জন্মভূমি মৌলভীবাজার থেকে ঢাকা ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার তাকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin