ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্ত্র নিয়ে কাউকে ভয় দেখাইনি, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছি: ইশরাক জনগণের সহযোগিতায় পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আইজিপি সাতক্ষীরায় ওয়াহিদুজ্জামান হত্যা মামলার প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা সহায়তা: ৫৬ জেলায় আবেদন শুরু ১ নভেম্বর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে রিয়াল ছাড়ার পরামর্শ দিলেন কোচ হোসে মরিনহো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরপর দুই দিন গরুভোজ ঘিরে বিতর্ক কলকাতায় পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে শিশুসহ ১৭ জনের মৃত্যু, আহত ৩৫ ছাড়পত্রহীন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ পর্যটকের মৃত্যু ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা কেন্দুয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে নারীসহ ৩ জনের ৬ মাসের কারাদণ্ড ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের ইঙ্গিত দিলেন জেডি ভ্যান্স

ইরানের কুহেস্তাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে বিস্ফোরণ, শিশুসহ নিহত ৪

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের ছোট শহর কুহেস্তাকে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ইরানের রেড ক্রিসেন্ট হতাহতের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত বালুচ-অধ্যুষিত শহরটিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন বিয়ের অনুষ্ঠান মাত্র শুরু হয়েছিল। বর-কনের স্বজন ও বন্ধুরা অতিথিদের অপেক্ষায় ছিলেন এবং মেহেদি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আরও অতিথিদের আসার কথা ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বাড়িটির একাংশ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যায়। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ, বিয়ের ফুলের মালা ও সাজসজ্জার সামগ্রী। কোথাও কোথাও পড়ে আছে রক্তমাখা জুতা। স্থানীয়দের প্রকাশ করা এসব ভিডিওতে হামলার পরের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক আলি মাল্লাহি একজন জেলে। নিজের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেখানে অতিথিদের জড়ো করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক ভিডিওতে মাল্লাহি বলেন, হামলায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়ায় তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হামলার পর কুহেস্তাকজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় এক নাপিত আহমাদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি শুধু বিয়ের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আশপাশের বহু বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে প্রতিবেশীরাও আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর ছোট। আমরা সবাই একে অন্যকে চিনি, ভাইয়ের মতো। আমরা সবাই শোকাহত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাঁধে কফিন বহন করছি না, আমরা বহন করছি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য অপেক্ষা করা অন্ধকার ভবিষ্যৎ।’

বালুচ মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ঘটনার পর ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। ফলে ঘটনার স্বাধীন তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে যাচ্ছেন।

বালুচিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ফারজিন কাদখোদায়ি বলেন, নিহতরা ছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সাধারণ বেসামরিক মানুষ। আনন্দের একটি দিনে তাদের মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য ‘অকল্পনীয় শোক’ বয়ে এনেছে। মাকরান উপকূলের ৩৫ বছর বয়সী জেলে চাকর বালুচ বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী। আমরা উপকূলের মানুষ। বছরের পর বছর সমুদ্রে যাই, জীবিকার জন্য সংগ্রাম করি এবং শুধু বেঁচে থাকতে চাই।’ সিরিকের এক বালুচ বাসিন্দার প্রশ্ন আরও তীব্র—‘আমি কার কাছে জবাব চাইব? এই যুদ্ধে যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে? নাকি যে শাসকগোষ্ঠী এই যুদ্ধকে আমাদের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে, তাদের কাছে?’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরানের কুহেস্তাকে বিয়ের অনুষ্ঠানে বিস্ফোরণ, শিশুসহ নিহত ৪

আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের ছোট শহর কুহেস্তাকে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত চারজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ইরানের রেড ক্রিসেন্ট হতাহতের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত বালুচ-অধ্যুষিত শহরটিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন বিয়ের অনুষ্ঠান মাত্র শুরু হয়েছিল। বর-কনের স্বজন ও বন্ধুরা অতিথিদের অপেক্ষায় ছিলেন এবং মেহেদি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আরও অতিথিদের আসার কথা ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে বিকট বিস্ফোরণে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বাড়িটির একাংশ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যায়। চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ, বিয়ের ফুলের মালা ও সাজসজ্জার সামগ্রী। কোথাও কোথাও পড়ে আছে রক্তমাখা জুতা। স্থানীয়দের প্রকাশ করা এসব ভিডিওতে হামলার পরের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, বাড়িটির মালিক আলি মাল্লাহি একজন জেলে। নিজের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেখানে অতিথিদের জড়ো করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে এক ভিডিওতে মাল্লাহি বলেন, হামলায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি না হওয়ায় তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হামলার পর কুহেস্তাকজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় এক নাপিত আহমাদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি শুধু বিয়ের বাড়িতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আশপাশের বহু বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিস্ফোরণের সময় ছিটকে আসা ধ্বংসাবশেষে প্রতিবেশীরাও আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর ছোট। আমরা সবাই একে অন্যকে চিনি, ভাইয়ের মতো। আমরা সবাই শোকাহত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাঁধে কফিন বহন করছি না, আমরা বহন করছি দক্ষিণাঞ্চলের জন্য অপেক্ষা করা অন্ধকার ভবিষ্যৎ।’

বালুচ মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ঘটনার পর ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে। ফলে ঘটনার স্বাধীন তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবু স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে যাচ্ছেন।

বালুচিস্তানের মানবাধিকারকর্মী ফারজিন কাদখোদায়ি বলেন, নিহতরা ছিলেন বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সাধারণ বেসামরিক মানুষ। আনন্দের একটি দিনে তাদের মৃত্যু পরিবারগুলোর জন্য ‘অকল্পনীয় শোক’ বয়ে এনেছে। মাকরান উপকূলের ৩৫ বছর বয়সী জেলে চাকর বালুচ বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগী। আমরা উপকূলের মানুষ। বছরের পর বছর সমুদ্রে যাই, জীবিকার জন্য সংগ্রাম করি এবং শুধু বেঁচে থাকতে চাই।’ সিরিকের এক বালুচ বাসিন্দার প্রশ্ন আরও তীব্র—‘আমি কার কাছে জবাব চাইব? এই যুদ্ধে যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে? নাকি যে শাসকগোষ্ঠী এই যুদ্ধকে আমাদের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে, তাদের কাছে?’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin