ছাড়পত্রহীন টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ পর্যটকের মৃত্যু ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ–সংলগ্ন টুপটুপ রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে কাঠের অবকাঠামোয় তৈরি এই রিসোর্টটিতে আগুন লাগলে হতাহতের এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই রিসোর্টটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, ছাড়পত্র গ্রহণ না করে কার্যক্রম পরিচালনা করায় চলতি বছরের এপ্রিলে টুপটুপ রেস্টুরেন্টকে কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশ না মানায় পরের মাসের ১৩ তারিখ তাদের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরও জানান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভবনের নকশার অনুমোদন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের মতো প্রয়োজনীয় শর্তাবলিও রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের ছিল না।
১৯৯৯ সালে সরকার মেরিন ড্রাইভ–সংলগ্ন সৈকত এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকা ঘোষণা করে। টুপটুপসহ আরও অনেক রিসোর্ট এসব ইসিএ এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব রিসোর্ট বন্ধ করার পদক্ষেপ নিলে তাদের নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছরের এপ্রিল থেকে মেরিন ড্রাইভ–সংলগ্ন এলাকায় ছাড়পত্রহীন কার্যক্রম পরিচালনার দায়ে আরও ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্টুরেন্টকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানা, দুটির বিরুদ্ধে মামলা এবং বাকি ১০টির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিন জানান, তিনি চার মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদের তালিকা অনুযায়ী মেরিন ড্রাইভে দোকানপাটসহ ১৫০টি অবৈধ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট আছে। টুপটুপ রেস্টুরেন্টকে এর আগেও দুই দফায় রিসোর্ট ভেঙে ফেলার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে এসব অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, পরিবেশ আইনে এসব রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টকে জরিমানা ও নোটিশ দেওয়া গেলেও উচ্ছেদ বা বন্ধ করার আইনি এখতিয়ার তাদের নেই। এই ক্ষমতা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে। জরিমানা করা ১৪টি রিসোর্টের মধ্যে সাম্পান বিচ রিসোর্টকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে চার লাখ টাকা, উখিয়ার সি পার্লস বীচ রিসোর্টকে এক লাখ টাকা, টেকনাফের জাহাজপুরা ক্যাসলকে এক লাখ এক হাজার টাকা, উখিয়ার সি পার্ল বীচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাকে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, কলাতলীর জিডি সমুদ্র বিলাসকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মায়াবী বীচ রিসোর্টকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং টাইটান হোটেলকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া হোটেল জানা ডাডাকে দুই লাখ ও হোটেল স্যুট সাদাফকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। নোটিশপ্রাপ্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বে হিল, বে ফ্রেন্ডস রিসোর্ট, সাম্পান রিসোর্ট, মারমেইড ক্যাফে, আরনিম রিসোর্ট, ছুটি রিসোর্ট, হোটেল ইনানী লং বে ও ওশান পার্ল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। এর বাইরে নামহীন নির্মাণাধীন তিনটি হোটেলকে নোটিশ এবং একটির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
এসবের কোনোটিই টুপটুপ রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের ছিল না বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কর্মকর্তা জানান।.কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের কলাতলী থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে আরও ১৪৫টি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট আছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।


























