ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ইবনুল আরাবির ‘কিতাব আল-ইসরা’: আধ্যাত্মিক যাত্রার এক অনন্য দর্শন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



শায়খ আল-আকবর মুহিউদ্দিন ইবন আল-আরাবির কালজয়ী আধ্যাত্মিক গ্রন্থ 'কিতাব আল-ইসরা' সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। আহমেদ মুহাম্মদ আলি ও আবরার আহমেদ শাহির সম্পাদনায় এবং আবরার আহমেদ শাহির ইংরেজি অনুবাদে বইটি ইবন আল-আরাবি ফাউন্ডেশন থেকে বাজারে এসেছে। ৩৫০ পৃষ্ঠার এই বইটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৬০০ রুপি।

মানুষের জীবন কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার নাম নয়; এটি নিজের সত্তার গভীরতা খোঁজার একটি দীর্ঘ ভ্রমণ। ইবনুল আরাবির এই গ্রন্থটি সেই অন্তর্গত আধ্যাত্মিক যাত্রারই একটি রূপক। বইটিতে পথ ও গন্তব্য সাধারণ কোনো ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা চেতনার এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উত্তরণের গল্প। মানুষ যখন নিজের পরিচিত জগতের গণ্ডি পেরিয়ে অজানার মুখোমুখি হয়, তখন সে নিজের সীমাবদ্ধতা ও অদৃশ্যের প্রতি তার অদম্য আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে আবিষ্কার করে।

বইটির দর্শন অনুযায়ী, আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু হয় একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে—আমি কে এবং এই জগতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী? ইবনুল আরাবি দেখিয়েছেন যে, মানুষ ক্ষণস্থায়ী হওয়ার পরেও অনন্তের কথা ভাবতে পারে, যা তার অস্তিত্বকে বিশেষায়িত করে। এখানে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে জ্ঞানের বিনয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ; কারণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের অজ্ঞতার বিস্তারই বেশি অনুভব করে।

লেখক মনে করেন, আকাশ এখানে কোনো দূরবর্তী স্থান নয়, বরং তা উপলব্ধির উচ্চতা ও আত্মিক প্রসারণের প্রতীক। ‘কিতাব আল-ইসরা’ পাঠককে সহজ উত্তরের বদলে গভীরতর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এটি কোনো স্থির পরিচয়ের গল্প নয়, বরং জীবন, মৃত্যু, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতায় নিজের সত্তাকে প্রতিনিয়ত নতুন করে চেনার এক চলমান প্রক্রিয়া।

ইবনুল আরাবি ১১৬৫ সালের ২৭ জুলাই স্পেনের মুরসিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৪০ সালে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুফি সাধক ও দার্শনিক হিসেবে পরিচিত। তার অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'আল-ফুতুহাত আল-মাক্কিয়া', 'ফুসুস আল-হিকাম', 'রুহ আল-কুদস' ও 'মিশকাত আল-আনওয়ার'। তার এই রচনাগুলো বিশ্বজুড়ে পাঠক ও গবেষকদের কাছে আজও সমানভাবে সমাদৃত।

বইটি পাঠ করা কোনো সহজ কাজ নয়, কারণ ইবনুল আরাবির প্রতীকী ভাষা ও সুফি দর্শনের গভীরতা বোঝার জন্য ধৈর্য ও চিন্তাশীলতার প্রয়োজন। তবে এই জটিলতাই বইটির শক্তি। এটি শেষ করার পরও পাঠকের মনে প্রশ্নের রেশ থেকে যায়, যা তাকে নিজের জীবনের দিকে নতুন দৃষ্টিতে তাকাতে উদ্বুদ্ধ করে। শেষ পর্যন্ত 'কিতাব আল-ইসরা' মানুষের সীমাবদ্ধতা ও অসীমের প্রতি আকাঙ্ক্ষার এক মিলনস্থল হিসেবে টিকে থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইবনুল আরাবির ‘কিতাব আল-ইসরা’: আধ্যাত্মিক যাত্রার এক অনন্য দর্শন

আপডেট সময় : ০৬:১৮:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শায়খ আল-আকবর মুহিউদ্দিন ইবন আল-আরাবির কালজয়ী আধ্যাত্মিক গ্রন্থ 'কিতাব আল-ইসরা' সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। আহমেদ মুহাম্মদ আলি ও আবরার আহমেদ শাহির সম্পাদনায় এবং আবরার আহমেদ শাহির ইংরেজি অনুবাদে বইটি ইবন আল-আরাবি ফাউন্ডেশন থেকে বাজারে এসেছে। ৩৫০ পৃষ্ঠার এই বইটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২,৬০০ রুপি।

মানুষের জীবন কেবল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার নাম নয়; এটি নিজের সত্তার গভীরতা খোঁজার একটি দীর্ঘ ভ্রমণ। ইবনুল আরাবির এই গ্রন্থটি সেই অন্তর্গত আধ্যাত্মিক যাত্রারই একটি রূপক। বইটিতে পথ ও গন্তব্য সাধারণ কোনো ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা চেতনার এক স্তর থেকে অন্য স্তরে উত্তরণের গল্প। মানুষ যখন নিজের পরিচিত জগতের গণ্ডি পেরিয়ে অজানার মুখোমুখি হয়, তখন সে নিজের সীমাবদ্ধতা ও অদৃশ্যের প্রতি তার অদম্য আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে আবিষ্কার করে।

বইটির দর্শন অনুযায়ী, আধ্যাত্মিক যাত্রা শুরু হয় একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে—আমি কে এবং এই জগতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক কী? ইবনুল আরাবি দেখিয়েছেন যে, মানুষ ক্ষণস্থায়ী হওয়ার পরেও অনন্তের কথা ভাবতে পারে, যা তার অস্তিত্বকে বিশেষায়িত করে। এখানে জ্ঞান অর্জনের চেয়ে জ্ঞানের বিনয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ; কারণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ নিজের অজ্ঞতার বিস্তারই বেশি অনুভব করে।

লেখক মনে করেন, আকাশ এখানে কোনো দূরবর্তী স্থান নয়, বরং তা উপলব্ধির উচ্চতা ও আত্মিক প্রসারণের প্রতীক। ‘কিতাব আল-ইসরা’ পাঠককে সহজ উত্তরের বদলে গভীরতর প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। এটি কোনো স্থির পরিচয়ের গল্প নয়, বরং জীবন, মৃত্যু, ভালোবাসা ও বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতায় নিজের সত্তাকে প্রতিনিয়ত নতুন করে চেনার এক চলমান প্রক্রিয়া।

ইবনুল আরাবি ১১৬৫ সালের ২৭ জুলাই স্পেনের মুরসিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২৪০ সালে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইসলামের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুফি সাধক ও দার্শনিক হিসেবে পরিচিত। তার অন্যান্য বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'আল-ফুতুহাত আল-মাক্কিয়া', 'ফুসুস আল-হিকাম', 'রুহ আল-কুদস' ও 'মিশকাত আল-আনওয়ার'। তার এই রচনাগুলো বিশ্বজুড়ে পাঠক ও গবেষকদের কাছে আজও সমানভাবে সমাদৃত।

বইটি পাঠ করা কোনো সহজ কাজ নয়, কারণ ইবনুল আরাবির প্রতীকী ভাষা ও সুফি দর্শনের গভীরতা বোঝার জন্য ধৈর্য ও চিন্তাশীলতার প্রয়োজন। তবে এই জটিলতাই বইটির শক্তি। এটি শেষ করার পরও পাঠকের মনে প্রশ্নের রেশ থেকে যায়, যা তাকে নিজের জীবনের দিকে নতুন দৃষ্টিতে তাকাতে উদ্বুদ্ধ করে। শেষ পর্যন্ত 'কিতাব আল-ইসরা' মানুষের সীমাবদ্ধতা ও অসীমের প্রতি আকাঙ্ক্ষার এক মিলনস্থল হিসেবে টিকে থাকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin