ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গুলশান বিভাগের নতুন ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন রুহুল কবীর খান মাদক সেবন ও কারবারে জড়িত মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কনস্টেবল কারাগারে চাঁদা দাবির অভিযোগে বহিষ্কৃত কৃষক দল নেতা ফয়সাল যবিপ্রবিতে আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অতিরিক্ত বাস ভাড়া নিলে রুট পারমিট বাতিল হবে: পরিবহনমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রেশার্স ডে-নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় নতুন করে ভাবার আহ্বান গুতেরেসের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে তারেক রহমান ও এরদোয়ানের বৈঠক চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

গোয়ালন্দে হাত-পা বাঁধা নারীর মরদেহ উদ্ধার নিয়ে রহস্য

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নবীরন বেগম (৫৫) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার পুকুরপাড়ের আখক্ষেতের পাশে কলাগাছের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত নবীরন বেগম দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।

ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, মরদেহটি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে।

দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন জানান, উদ্ধারের সময় নবীরন বেগমের পায়ে কাপড় প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরের অর্ধেক মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, আখক্ষেত ও পুকুরপাড়ের পাশে কারেন্টের তারের লাইন দেওয়া ছিল, যেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ফারুক হোসেন আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৪ লাখ টাকায় স্থানীয় আবু তালেব বেপারী, আবজাল শেখ ও ইচমাইল বেপারীর মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়েছে। এর মধ্যে আবু তালেব বেপারী ও আবজাল শেখ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করলেও ইচমাইল বেপারী তা অস্বীকার করেছেন।

নিহতের ভাই আবজাল শেখের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি বক্তব্য নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, 'আমার বোন মারা গেছে, এলাকার সবার সম্মিলিত চেষ্টার সিদ্ধান্তে ৪ লাখ টাকায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আমরাও তা মেনে নিয়েছি। আমরা চাই না আমার বোনের লাশ কাটাছেঁড়া হোক।' তবে নিহতের ছেলে রাসেল শেখ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তার মা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দৌলতদিয়া মণ্ডল হ্যাচারীজ সংলগ্ন জামে মসজিদে নবীরন বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহটি হেফাজতে নেয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর কথা বলায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্ত রফিকুল মৃধার বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

গোয়ালন্দে হাত-পা বাঁধা নারীর মরদেহ উদ্ধার নিয়ে রহস্য

আপডেট সময় : ১০:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নবীরন বেগম (৫৫) নামে এক নারীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দীন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার পুকুরপাড়ের আখক্ষেতের পাশে কলাগাছের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মৃত নবীরন বেগম দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।

ঘটনাটি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, মরদেহটি হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার চেষ্টা হয়েছে।

দৌলতদিয়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন জানান, উদ্ধারের সময় নবীরন বেগমের পায়ে কাপড় প্যাঁচানো ছিল এবং শরীরের অর্ধেক মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। তার দাবি, আখক্ষেত ও পুকুরপাড়ের পাশে কারেন্টের তারের লাইন দেওয়া ছিল, যেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার কথা বলা হচ্ছে। ফারুক হোসেন আরও অভিযোগ করেন, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৪ লাখ টাকায় স্থানীয় আবু তালেব বেপারী, আবজাল শেখ ও ইচমাইল বেপারীর মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়েছে। এর মধ্যে আবু তালেব বেপারী ও আবজাল শেখ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করলেও ইচমাইল বেপারী তা অস্বীকার করেছেন।

নিহতের ভাই আবজাল শেখের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত একটি বক্তব্য নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, 'আমার বোন মারা গেছে, এলাকার সবার সম্মিলিত চেষ্টার সিদ্ধান্তে ৪ লাখ টাকায় বিষয়টি সমাধান হয়েছে। আমরাও তা মেনে নিয়েছি। আমরা চাই না আমার বোনের লাশ কাটাছেঁড়া হোক।' তবে নিহতের ছেলে রাসেল শেখ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তার মা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দৌলতদিয়া মণ্ডল হ্যাচারীজ সংলগ্ন জামে মসজিদে নবীরন বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহটি হেফাজতে নেয় এবং ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর কথা বলায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। অভিযুক্ত রফিকুল মৃধার বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh