ঢাকা ১০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

জঙ্গলে পরিণত কসবা বর্ডার হাট, চালুর বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তারাপুর ও ভারতের ত্রিপুরার কমলাসাগর এলাকার মধ্যবর্তী বর্ডার হাটটি দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে বন্ধ থাকায় ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এক সময়ের জমজমাট এই হাটের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

২০১৫ সালের ৭ই জুন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই হাটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে করোনা মহামারির কারণে হাটটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে এটি পুনরায় চালুর কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে কসবার তারাপুর সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, পুরো হাট এলাকা এখন আগাছা আর লতাপাতায় ঢেকে গেছে। কসবা স্টেশন থেকে হাটের দিকে যাওয়ার পথে বাঁশ বেঁধে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঝুলছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ‘ভিতরে প্রবেশ নিষেধ’ নোটিশ। এর কিছু দূর এগোলেই লাল রঙের আরেকটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘বাংলাদেশের শেষ সীমানা, প্রবেশ নিষেধ।’ তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিছু দর্শনার্থীকে পরিত্যক্ত হাটের দিকে যেতে দেখা যায়। ২০৩৯ নম্বর পিলারের কাছে গিয়ে শেষ হওয়া পাকা রাস্তার পাশে হাটের মূল গেটে এখন ঝুলছে তালা। হাটের ভেতরে উভয় দেশের ৬টি করে মোট ১২টি শেড, গণশৌচাগার, সীমানা প্রাচীর ও কনফারেন্স রুম পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

শুরুতে দুই দেশের ২৫ জন করে মোট ৫০ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে এই হাট চালু হয়েছিল, যা পরে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করা হয়। হাটটি দুই দেশের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। ক্রেতাদের তুমুল আগ্রহের কারণে বাংলাদেশের ক্রেতা কার্ডের সংখ্যা ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার করা হয়েছিল। প্রতি রবিবার হাটের দিনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মেলামাইন, খাদি কাপড়, বেকারি সামগ্রী, শাকসবজি, প্লাস্টিক পণ্য, লুঙ্গি, গামছা, কসমেটিকস ও শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করতেন।

হাটটি চালু থাকার সময় সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা বন্ধ ছিল বলে জানান স্থানীয়রা। কসবার মিষ্টি ব্যবসায়ী সেবক সাহা বলেন, হাট চালু থাকাকালীন চোরাকারবারি অনেক কম হতো এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ তার দোকানে বসে মিষ্টি-দই খেতেন। তারাপুর গ্রামের গৃহিণী লুৎফা বেগম ও ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার জানান, হাট বন্ধ হওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মালু মিয়া বলেন, হাটটি বন্ধ হওয়ায় মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পুনরায় হাটটি চালু হলে স্থানীয়রা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় পণ্যের প্রতি বাংলাদেশি ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ থাকায় ভারতীয় বিক্রেতাদের বেচা-বিক্রি তুলনামূলক বেশি হতো।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে হাটের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। বর্তমানে হাটটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং এই প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

জঙ্গলে পরিণত কসবা বর্ডার হাট, চালুর বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় : ০২:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তারাপুর ও ভারতের ত্রিপুরার কমলাসাগর এলাকার মধ্যবর্তী বর্ডার হাটটি দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে বন্ধ থাকায় ঝোপঝাড় ও জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এক সময়ের জমজমাট এই হাটের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

২০১৫ সালের ৭ই জুন বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই হাটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে করোনা মহামারির কারণে হাটটি বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৪ সালের আগস্টের শুরুতে এটি পুনরায় চালুর কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তা আর সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে কসবার তারাপুর সীমান্তে গিয়ে দেখা যায়, পুরো হাট এলাকা এখন আগাছা আর লতাপাতায় ঢেকে গেছে। কসবা স্টেশন থেকে হাটের দিকে যাওয়ার পথে বাঁশ বেঁধে যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঝুলছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ‘ভিতরে প্রবেশ নিষেধ’ নোটিশ। এর কিছু দূর এগোলেই লাল রঙের আরেকটি সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘বাংলাদেশের শেষ সীমানা, প্রবেশ নিষেধ।’ তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কিছু দর্শনার্থীকে পরিত্যক্ত হাটের দিকে যেতে দেখা যায়। ২০৩৯ নম্বর পিলারের কাছে গিয়ে শেষ হওয়া পাকা রাস্তার পাশে হাটের মূল গেটে এখন ঝুলছে তালা। হাটের ভেতরে উভয় দেশের ৬টি করে মোট ১২টি শেড, গণশৌচাগার, সীমানা প্রাচীর ও কনফারেন্স রুম পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

শুরুতে দুই দেশের ২৫ জন করে মোট ৫০ জন ব্যবসায়ীকে নিয়ে এই হাট চালু হয়েছিল, যা পরে বাড়িয়ে ১০০ জনে উন্নীত করা হয়। হাটটি দুই দেশের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। ক্রেতাদের তুমুল আগ্রহের কারণে বাংলাদেশের ক্রেতা কার্ডের সংখ্যা ১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার করা হয়েছিল। প্রতি রবিবার হাটের দিনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মেলামাইন, খাদি কাপড়, বেকারি সামগ্রী, শাকসবজি, প্লাস্টিক পণ্য, লুঙ্গি, গামছা, কসমেটিকস ও শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করতেন।

হাটটি চালু থাকার সময় সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসা বন্ধ ছিল বলে জানান স্থানীয়রা। কসবার মিষ্টি ব্যবসায়ী সেবক সাহা বলেন, হাট চালু থাকাকালীন চোরাকারবারি অনেক কম হতো এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ তার দোকানে বসে মিষ্টি-দই খেতেন। তারাপুর গ্রামের গৃহিণী লুৎফা বেগম ও ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার জানান, হাট বন্ধ হওয়ায় তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন এবং মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মালু মিয়া বলেন, হাটটি বন্ধ হওয়ায় মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পুনরায় হাটটি চালু হলে স্থানীয়রা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। তবে ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় পণ্যের প্রতি বাংলাদেশি ক্রেতাদের বেশি আগ্রহ থাকায় ভারতীয় বিক্রেতাদের বেচা-বিক্রি তুলনামূলক বেশি হতো।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন পরিদর্শন করে হাটের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। বর্তমানে হাটটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এবং এই প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin