ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানল, ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইন
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ইন্দোনেশিয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে কর্তৃপক্ষ। দাবানলের ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়াশা কেবল দেশটির কালিমানতান ও সুমাত্রার লাখ লাখ মানুষের জনজীবনই বিপর্যস্ত করেনি, বরং তা সীমান্ত পেরিয়ে মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনের বায়ুমণ্ডলেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসি অনলাইনের তথ্য অনুযায়ী, এই ধোঁয়াশার কারণে ইন্দোনেশিয়ায় হাজার হাজার মানুষ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঘন ধোঁয়ার কারণে অগ্নিনির্বাপক উড়োজাহাজ পরিচালনা এবং কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সুমাত্রার পালেমবাং শহরের দৃশ্যপট এতটাই ভয়াবহ যে, সেখানকার বিখ্যাত আমপেরা সেতু ও লাইট রেল স্টেশন ঘন ধোঁয়ার আড়ালে প্রায় অদৃশ্য হয়ে পড়েছে।
বনের জমি পরিষ্কারের জন্য শত শত বছর ধরে কালিমানতানের স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো ছোট আকারের নিয়ন্ত্রিত আগুন বা ‘উমা বুকিত’ (পাহাড়ি কৃষি) পদ্ধতি ব্যবহার করে আসছে। দয়াক কানায়াতন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি টোনের মতে, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা একটি ঐতিহ্য। কৃষকরা সাধারণত দুই হেক্টরের চেয়ে ছোট জমি পরিষ্কারের জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন এবং ছাইকে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজে লাগান। টোনের দাবি, তারা প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রেখে এই কাজ করেন এবং তাদের ওপর দাবানলের দায় চাপানো অনুচিত। আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো প্রায়ই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে যে, তাদের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতিই দাবানলের জন্য দায়ী। ১৯৮২ ও ১৯৯৭ সালের বড় দাবানলের গবেষণাতেও দেখা গেছে, কর্তৃপক্ষ অনেক সময় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে ছোট কৃষক ও আদিবাসীদের বলির পাঁঠা বানিয়েছে।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাসে বন ও ভূমি দাবানলের কারণে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ৫০ হাজারের বেশি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি শিশুর বয়স পাঁচ বছরের নিচে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোতে শত শত স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং মাস্ক ও অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করা হচ্ছে। দাবানলের ধোঁয়া মালয়েশিয়ার আকাশেও ছড়িয়ে পড়ায় সেখানেও হাঁপানি ও চোখের প্রদাহের মতো শারীরিক জটিলতা বেড়েছে।



























