ট্রাইব্যুনালে হাতকড়া ও হেলমেট পরানো থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন জিয়াউল আহসান
- আপডেট সময় : ০৬:৫৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরা দেওয়ার সময় হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও গায়ে ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন সাবেক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এ আবেদন জানান। জিয়াউল আহসান বলেন, "মনে হচ্ছে আমি সবার টার্গেট। আমি ট্রাইব্যুনালের কাছে সুবিচার চাই।"
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসান বর্তমানে একমাত্র আসামি হিসেবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি রয়েছেন। এদিন মামলার দশম সাক্ষী হিসেবে আব্বাস মল্লিক জবানবন্দি প্রদান করেন। তিনি নিজের ভাই আলকাছ মল্লিককে হত্যার জন্য জিয়াউল আহসানকে দায়ী করে তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান ও সাহিদুর রহমান তাকে জেরা করেন। জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ পরবর্তী সময়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে তার শারীরিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেনাবাহিনীতে চাকরির সময় প্রশিক্ষণের কারণে তার কোমর ও ঘাড়ে ব্যথা রয়েছে। কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনার সময় হাতকড়া, হেলমেট ও ভেস্ট পরানোয় তিনি এসব থেকে অব্যাহতির অনুরোধ করেন। প্রসিকিউশনের বরাতে ট্রাইব্যুনাল তাকে জানায় যে, নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে এসব সরঞ্জাম পরানো হচ্ছে।
জবাবে জিয়াউল আহসান দাবি করেন, প্রিজনভ্যান থেকে ট্রাইব্যুনালের হাজতখানার দূরত্ব মাত্র পাঁচ গজ এবং গাড়ি থেকে নামানোর সময় সেখানে প্রায় ২০ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকেন, তাই বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই। এ সময় বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী বলেন, "পাঁচ গজ নয়, এক গজ দূর থেকেও কেউ চাইলে স্নাইপারে টার্গেট করতে পারেন।" এর জবাবে জিয়াউল আহসান পাল্টা যুক্তি দেন যে, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর, তাই সেখানে টার্গেট করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত বিচারক তাকে হাতকড়া ও ভেস্ট পরানো থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দেন।




























