ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শারদীয় দুর্গাপূজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি শুরু আজ ছোট পর্দায় বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল উপসাগরীয় অবকাঠামোয় ইরানের নির্ভুল হামলা: বিপর্যস্ত জ্বালানি ও বিশ্ব অর্থনীতি বাংলামটরে এনসিপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ উপনিবেশোত্তর পাকিস্তান আমলে বাঙালি ও বাংলা ভাষার প্রতি বৈষম্য গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স: ক্ষুধা কমানোর গতি কমে বাংলাদেশ ৮৪তম বন্দর লিজের আগে জনগণের মতামত নেওয়ার দাবি সাইফুল হকের পরিবেশ রক্ষায় কর্মকর্তাদের বাড়তি দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরসূচিতে প্রস্তুতি ম্যাচের সময় কমল প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ মাসে গলায় ফাঁস দিয়ে ১০০ জনের মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ছয় মাসে কেবল গলায় ফাঁস দিয়েই জেলাটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০০ জন। এ ছাড়া বিষপানসহ নানা উপায়ে আত্মহত্যার ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই জেলার কোথাও না কোথাও ঘটছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসার পর এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল শতক ছোঁয়া। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৩ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ জন, মার্চ মাসে ১৯ জন, মে মাসে ১৫ জন এবং জুন মাসে ২০ জন গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান। সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে এপ্রিল মাসে, যার সংখ্যা ২১ জন। একই সময়ে জেলায় অপমৃত্যুর তালিকায় নাম উঠেছে আরও ৮৫ জনের। অপমৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ৬ জন করে, মার্চ মাসে ১৯ জন, এপ্রিলে ১১ জন, মে মাসে ২০ জন এবং জুন মাসে ২৩ জনের অপমৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসেও ২৩ জন আত্মহত্যা করেছেন এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম কয়েকদিনেও বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আত্মহত্যার এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান উপস্থাপিত হলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সভার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জেলায় আত্মহত্যার হার এত বেশি কেন এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে। এ বিষয়ে সমাজসেবা বিভাগের কোনো কার্যক্রম আছে কিনা তা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, এই সংক্রান্ত তাদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা প্রোগ্রাম নেই।

জেলায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা আত্মহত্যার এই বাস্তব চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। গত ১৬ই আগস্ট ভোররাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের অষ্টগ্রামের বলা গাজী বাড়িতে বিষপানে জসিম উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালক আত্মহত্যা করেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে যান, যেখানে লেখা ছিল—‘এই দুনিয়া ছেরে গেলাম, আপন কেও হলনা, বড় ছেলে কে ডাকিলাম তোর মাকে দেহেযা, সে আসিলনা, মাসুমার জ্বালা আর পারিলামনা’।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পুত্রবধূ মাছুমার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অভিমান করে সেদিন ভোর ৪টার দিকে গ্রামের একটি মসজিদের বারান্দার সামনে কীটনাশক পান করেন জসিম উদ্দিন। পরে মসজিদের লোকজন বিষয়টি পরিবারকে জানালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। নিহতের ছেলে হাসান মিয়া অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী কখনো তার সরল বাবাকে যথাযথ সম্মান করতেন না এবং তার তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য সহ্য করতে না পেরেই তার বাবা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।

এদিকে নবীনগর উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে মারুফা বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত ৯ই আগস্ট রাত ১০টার দিকে নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা গ্রামের পূর্বপাড়ার বাবার বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন তিনি। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৪ই আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মারুফা ওই গ্রামের কালু মিয়ার মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে একই ইউনিয়নের বিদ্যাকুট মধ্যপাড়ার সত্তর মিয়ার ছেলে অটোরিকশাচালক আমিরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

অন্য একটি ঘটনায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার ও জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন নোয়াব মোল্লা (৯০) নামে এক বৃদ্ধ। নাসিরনগর উপজেলার এই বাসিন্দা গত ৮ই আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে কীটনাশক পান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ই আগস্ট তিনি মারা যান। নিহতের মেয়ে শামসুন্নাহার জানান, তার বাবাকে বাঁচানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি করা হয়নি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬ মাসে গলায় ফাঁস দিয়ে ১০০ জনের মৃত্যু, বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০২:০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ছয় মাসে কেবল গলায় ফাঁস দিয়েই জেলাটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১০০ জন। এ ছাড়া বিষপানসহ নানা উপায়ে আত্মহত্যার ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই জেলার কোথাও না কোথাও ঘটছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে আসার পর এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল শতক ছোঁয়া। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৩ জন, ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ জন, মার্চ মাসে ১৯ জন, মে মাসে ১৫ জন এবং জুন মাসে ২০ জন গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যান। সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে এপ্রিল মাসে, যার সংখ্যা ২১ জন। একই সময়ে জেলায় অপমৃত্যুর তালিকায় নাম উঠেছে আরও ৮৫ জনের। অপমৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ৬ জন করে, মার্চ মাসে ১৯ জন, এপ্রিলে ১১ জন, মে মাসে ২০ জন এবং জুন মাসে ২৩ জনের অপমৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসেও ২৩ জন আত্মহত্যা করেছেন এবং চলতি আগস্ট মাসের প্রথম কয়েকদিনেও বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আত্মহত্যার এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান উপস্থাপিত হলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সভার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জেলায় আত্মহত্যার হার এত বেশি কেন এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে। এ বিষয়ে সমাজসেবা বিভাগের কোনো কার্যক্রম আছে কিনা তা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, এই সংক্রান্ত তাদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা প্রোগ্রাম নেই।

জেলায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা আত্মহত্যার এই বাস্তব চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। গত ১৬ই আগস্ট ভোররাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের অষ্টগ্রামের বলা গাজী বাড়িতে বিষপানে জসিম উদ্দিন (৭০) নামে এক বৃদ্ধ অটোরিকশাচালক আত্মহত্যা করেন। তিনি ওই গ্রামের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে যান, যেখানে লেখা ছিল—‘এই দুনিয়া ছেরে গেলাম, আপন কেও হলনা, বড় ছেলে কে ডাকিলাম তোর মাকে দেহেযা, সে আসিলনা, মাসুমার জ্বালা আর পারিলামনা’।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পুত্রবধূ মাছুমার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে অভিমান করে সেদিন ভোর ৪টার দিকে গ্রামের একটি মসজিদের বারান্দার সামনে কীটনাশক পান করেন জসিম উদ্দিন। পরে মসজিদের লোকজন বিষয়টি পরিবারকে জানালে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। নিহতের ছেলে হাসান মিয়া অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী কখনো তার সরল বাবাকে যথাযথ সম্মান করতেন না এবং তার তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য সহ্য করতে না পেরেই তার বাবা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন।

এদিকে নবীনগর উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে মারুফা বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। গত ৯ই আগস্ট রাত ১০টার দিকে নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা গ্রামের পূর্বপাড়ার বাবার বাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন তিনি। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৪ই আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মারুফা ওই গ্রামের কালু মিয়ার মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে একই ইউনিয়নের বিদ্যাকুট মধ্যপাড়ার সত্তর মিয়ার ছেলে অটোরিকশাচালক আমিরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে।

অন্য একটি ঘটনায়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার ও জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হয়ে অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন নোয়াব মোল্লা (৯০) নামে এক বৃদ্ধ। নাসিরনগর উপজেলার এই বাসিন্দা গত ৮ই আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে কীটনাশক পান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ই আগস্ট তিনি মারা যান। নিহতের মেয়ে শামসুন্নাহার জানান, তার বাবাকে বাঁচানোর জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি করা হয়নি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin