আখাউড়ায় মেয়রপ্রার্থী চূড়ান্ত করতে ভোটের আগেই ভোট উৎসব
- আপডেট সময় : ০৪:২০:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্ধারিত দিনে ভোটগ্রহণ হওয়াই চিরাচরিত নিয়ম। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এবার দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নিজেদের পছন্দের একক মেয়রপ্রার্থী বেছে নিতে আনুষ্ঠানিক ভোটের আগেই এক ব্যতিক্রমী ভোটগ্রহণের আয়োজন করেছেন একটি গ্রামের বাসিন্দারা। এই অভিনব উদ্যোগকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভোটকে স্থানীয়ভাবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে ‘ভোটের আগে ভোট’ হিসেবে। মূলত দেবগ্রাম থেকে একাধিক ব্যক্তি মেয়রপ্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায়, তাদের মধ্য থেকে একজনকে গ্রাম সমর্থিত একক প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাতেই এই ভোটগ্রহণের আয়োজন। এই নির্বাচনে যিনি বিজয়ী হবেন, তাকেই পরবর্তী পৌরসভা নির্বাচনে দেবগ্রামের একক প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হবে।
দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির ব্যানারে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তিনজন। তারা হলেন—আখাউড়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ (ফুটবল প্রতীক), শেখ মো. আমজাদ হোসেন বাবু (মোরগ প্রতীক) ও বেলজিয়াম প্রবাসী রুহুল আমিন খান সুমন (ছাতা প্রতীক)।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, আখাউড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দেবগ্রাম এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবাজার-বাগানবাড়ি এলাকার মোট ৩ হাজার ২৭০ জন পুরুষ ভোটার এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এলাকায় সমসংখ্যক নারী ভোটার থাকলেও এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তারা অংশ নিচ্ছেন না।
দেবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রের চারটি বুথে জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনের আদলেই ভোটগ্রহণ চলছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চলতি বছরের শুরুতে অন্তত ছয়জন ব্যক্তি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর মে মাস থেকে একক প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দফায় দফায় বৈঠকের পর একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের মতো সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কমিশনার জানান, কাগজ-কলমে এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘দেবগ্রাম আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন-২০২৬’। তবে এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামের পক্ষ থেকে একজনকে মেয়রপ্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা। মেয়র পদে আগ্রহী ছয় প্রার্থী নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় পুরুষ ভোটারদের ভোটের মাধ্যমে একজনকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এজন্য গ্রামবাসী একটি বড় কমিটি গঠন করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সহকারী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করেন। এছাড়া প্রার্থীদের কাছ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা করে জামানত ও আমানত নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের খরচ বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে, যা অফেরতযোগ্য। বাকি ৫ লাখ টাকা ফেরতযোগ্য। তবে গ্রামবাসীর ভোটে নির্বাচিত প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর যদি কেউ দলের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন, তবে তার ওই ৫ লাখ টাকা আর ফেরত দেওয়া হবে না। বাজেয়াপ্ত হওয়া সেই অর্থ গ্রামের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
দেবগ্রামের বাসিন্দা মো. খালেদ বলেন, আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে আমাদের গ্রাম থেকে একজন যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী নির্বাচনে জয়ী করে আনাই আমাদের লক্ষ্য। আর সে কারণেই এই ভোটের আগে ভোটের আয়োজন করা হয়েছে।
সহকারী নির্বাচন কমিশনার নবী নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, প্রার্থীরা সবাই আমাদের অত্যন্ত আপনজন ও আত্মীয়-স্বজন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব বা সংঘাত সৃষ্টি হোক, তা আমরা চাইনি। তাই শান্তিপূর্ণ উপায়ে একক মেয়রপ্রার্থী বাছাই করতে এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। যিনি এই ভোটে নির্বাচিত হবেন, তাকে নিয়েই আমরা আসন্ন আখাউড়া পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।
ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, দেবগ্রামে এই ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে বেশ উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে কোনো ধরনের অবনতি না ঘটে, সেজন্য ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ চলছে।



























