বি. চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধ ও এলডিপি ছাড়ার নেপথ্য কারণ জানালেন অলি আহমদ
- আপডেট সময় : ১২:৫০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) গঠনের পেছনের নানা অজানা তথ্য প্রকাশ করেছেন দলটির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। সম্প্রতি সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের টকশো ‘ঠিকানা’-তে অংশ নিয়ে তিনি বিএনপির সঙ্গে বনিবনা না হওয়া থেকে শুরু করে বি. চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ও তাকে এলডিপি ছাড়ার অনুরোধ করার নেপথ্য কারণগুলো তুলে ধরেন। বুধবার এই টকশোটি প্রচারিত হয়।
কয়েক দশক ধরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও অলি আহমদ। বিএনপি বি. চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করলেও পরবর্তীতে এক ঘটনাপ্রবাহে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। অন্যদিকে, দলটির ওপর ক্ষোভ ও অভিমান থেকে বিএনপি ছেড়েছিলেন অলি আহমদও। অলি আহমদ জানান, বিএনপির ভেতরে যারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করছিল তাদের বের করে দেওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা পৃথক রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই বিষয়ে তিনি, বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং শেখ রাজ্জাক মিলে একটি বৈঠকও করেছিলেন।
তবে সেই যৌথ সিদ্ধান্তের আগেই বদরুদ্দোজা চৌধুরী ‘বিকল্পধারা বাংলাদেশ’ নামে একটি দল গঠন করেন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় আহত হয়ে বি. চৌধুরী যখন রেললাইন ধরে পালিয়ে যান, তখন তার পক্ষ থেকে ব্রিগেডিয়ার গিয়াসকে অলি আহমদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। ব্রিগেডিয়ার গিয়াস জানান যে বি. চৌধুরী মানসিকভাবে বিধ্বস্ত এবং তিনি দেখা করতে চান। নজরদারিতে থাকায় অলি আহমদ রাজ্জাক আলী সাহেবকে সঙ্গে নিয়ে রাত ১২টার পর বি. চৌধুরীর ডিসপেনসারিতে গিয়ে দেখা করেন। সেখানে বি. চৌধুরী নিজেই নতুন দল হিসেবে ‘লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি’ বা এলডিপির নাম জানান এবং মেজর মান্নান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পাটোয়ারীসহ অন্যদের নিয়ে এলডিপিতে যোগ দেওয়ার কথা বলেন।
অলি আহমদের দাবি, শুরুতেই তাদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। বি. চৌধুরীর একটি অফিস আছে বলা হলেও পরে গিয়ে দেখা যায় সেটি আসলে তার নিজের বাসা ছিল, যা একসময় পুড়ে যায়। একে এক ধরনের ‘শঠতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন অলি। তবে বি. চৌধুরীকে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রধান অতিথি করার এবং দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অলির হাতে রাখার বিষয়ে পারস্পরিক সম্মতি ছিল। পরবর্তীতে বি. চৌধুরীর ছেলে মাহি বি. চৌধুরী তার বাবাকে গণমাধ্যমে অলি আহমদের বেশি প্রচার পাওয়ার কথা বলে সামনে আসার পরামর্শ দিলে, সেই প্রস্তাবও মেনে নেন অলি আহমদ।
অলি আহমদের ভাষ্যমতে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে তাদের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ এলডিপিকে ২৮টি আসন ছেড়ে দিলেও বদরুদ্দোজা চৌধুরী একটি নির্দিষ্ট আসন নিয়ে দর-কষাকষি শুরু করেন। ওই আসনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠলে এলডিপি নেতারা বি. চৌধুরীকে দল থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান। অলি আহমদ তাকে বলেন, ‘আপনাকে আমরা বেইজ্জত করতে চাই না। আপনি পৃথক হয়ে আপনার কুলা মার্কায় বিকল্প ধারায় চলে যান। আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত লোকের সঙ্গে রাজনীতি করব না।’


























