ঢাকা ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবে হামলার জেরে দাম্মাম ও রিয়াদে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত নোয়াখালীতে গ্যারেজে অভিযান, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ আটক ৩ রংপুর রেঞ্জে সেরা নীলফামারী জেলা পুলিশ ৩৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে ‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মেটি সানজি গ্রুপের ১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: এজিএম পার্থ সারথী গ্রেপ্তার আইসিসির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় আঘাত: পিল্লাই ভোট চুরির পর এবার বিক্ষোভের স্থানও চুরি করছে মোদি সরকার চরফ্যাশনে সারের ডিলারশিপ বিতর্কে স্ট্যাম্পে লিখে দায়িত্ব হস্তান্তর যুবদল নেতার শাহজালালে আটকা ১৩ হাজার যাত্রী, বাতিল ৮২ ফ্লাইট বিরোধী দলকে নিয়েই সংবিধান সংশোধন করতে চায় সরকার : সালাহউদ্দিন আহমদ

সিলেটে অপরাধের লাগামহীন দৌরাত্ম্য, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



একসময় শান্তির তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত সিলেটে বর্তমানে গভীর অন্ধকার নেমে এসেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সীমান্ত বাণিজ্য ঘিরে আর্থিক স্বার্থ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনস্তাত্ত্বিক স্থবিরতা এবং অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশের কারণে এই পুণ্যভূমি এখন রক্তাক্ত। সুরমাপারের এই নগরে অপরাধের পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্বীন ব্রিজ, বন্দরবাজার, আম্বরখানা ও টিলাগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পথচারী ও যাত্রীদের জিম্মি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। স্থানীয় সুবিধাবাদী নেতাদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এসব অপরাধের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে মহানগর এলাকায় ২৪টি হত্যা, ৪৪টি ধর্ষণ, ১৮৪টি চুরি, ৮টি ডাকাতি এবং ৫৪টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। তবে রেকর্ডের বাইরে থেকে গেছে অনেক ঘটনা। আলোচিত এসব অপরাধের ঘটনায় মামলা হলেও মূল গডফাদাররা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। গত দুই বছরে সিলেটে সংঘটিত অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোন্দল, সীমান্তবর্তী এলাকার বালু-পাথর কোয়ারির আধিপত্য, খাসজমি দখল এবং পারিবারিক ও সম্পত্তিগত বিরোধ কাজ করেছে। এছাড়া প্রবাসীদের খালি বাসাবাড়ি, বন্ধ দোকানপাট এবং রাতে আবাসিক এলাকায় চুরির ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ছিনতাইয়ের চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মার্চ মাসে আম্বরখানা ও জিন্দাবাজারে সশস্ত্র ছিনতাইয়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি হাউজিং এস্টেটে দিনের আলোয় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা এক নারীর সর্বস্ব লুটের ঘটনায় জড়িতরা এখনো অধরা। ৫ মার্চ সাগরদীঘির পাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর পথরোধ করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় রশিদ নামের একজন গ্রেফতার হলেও বাকিরা পলাতক। গত বছরের ২৬ অক্টোবর কদমতলী এলাকায় এনা পরিবহণের ম্যানেজারের ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১০ জনের অংশগ্রহণের প্রমাণ থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

৮ মে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের প্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল ছিনতাইকারী এবং লুট হওয়া টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি। এ বিষয়ে নাসিম হোসাইন জানান, তারা ফুটেজসহ প্রমাণ দিলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ৪ এপ্রিল আম্বরখানা এলাকায় কলেজ প্রভাষক ও সাংবাদিক ওহী আলম রেজার তিন বছর বয়সি শিশুপুত্রকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। ১৩ মার্চ কুমারগাঁওয়ে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটিও একই ধারার। এছাড়া হানিট্র্যাপের মাধ্যমে টাকা আদায় এবং ব্যর্থ হয়ে হত্যার মতো ঘটনাও সিলেটে বেড়েছে, যার উদাহরণ ২০২৪ সালের ১৮ জুন আম্বরখানা এলাকায় ৫তলা ভবন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনা।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাবই পরিস্থিতির অবনতির মূল কারণ। তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম জানান, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন এবং মামলাগুলোর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

সিলেটে অপরাধের লাগামহীন দৌরাত্ম্য, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

একসময় শান্তির তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত সিলেটে বর্তমানে গভীর অন্ধকার নেমে এসেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সীমান্ত বাণিজ্য ঘিরে আর্থিক স্বার্থ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনস্তাত্ত্বিক স্থবিরতা এবং অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশের কারণে এই পুণ্যভূমি এখন রক্তাক্ত। সুরমাপারের এই নগরে অপরাধের পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্বীন ব্রিজ, বন্দরবাজার, আম্বরখানা ও টিলাগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় পথচারী ও যাত্রীদের জিম্মি করে ছিনতাইয়ের ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। স্থানীয় সুবিধাবাদী নেতাদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এসব অপরাধের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে মহানগর এলাকায় ২৪টি হত্যা, ৪৪টি ধর্ষণ, ১৮৪টি চুরি, ৮টি ডাকাতি এবং ৫৪টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। তবে রেকর্ডের বাইরে থেকে গেছে অনেক ঘটনা। আলোচিত এসব অপরাধের ঘটনায় মামলা হলেও মূল গডফাদাররা বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। গত দুই বছরে সিলেটে সংঘটিত অধিকাংশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজনৈতিক কোন্দল, সীমান্তবর্তী এলাকার বালু-পাথর কোয়ারির আধিপত্য, খাসজমি দখল এবং পারিবারিক ও সম্পত্তিগত বিরোধ কাজ করেছে। এছাড়া প্রবাসীদের খালি বাসাবাড়ি, বন্ধ দোকানপাট এবং রাতে আবাসিক এলাকায় চুরির ঘটনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ছিনতাইয়ের চিত্র ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মার্চ মাসে আম্বরখানা ও জিন্দাবাজারে সশস্ত্র ছিনতাইয়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি হাউজিং এস্টেটে দিনের আলোয় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা এক নারীর সর্বস্ব লুটের ঘটনায় জড়িতরা এখনো অধরা। ৫ মার্চ সাগরদীঘির পাড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর পথরোধ করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় রশিদ নামের একজন গ্রেফতার হলেও বাকিরা পলাতক। গত বছরের ২৬ অক্টোবর কদমতলী এলাকায় এনা পরিবহণের ম্যানেজারের ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১০ জনের অংশগ্রহণের প্রমাণ থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

৮ মে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের প্রতিষ্ঠানের ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল ছিনতাইকারী এবং লুট হওয়া টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি। এ বিষয়ে নাসিম হোসাইন জানান, তারা ফুটেজসহ প্রমাণ দিলেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ৪ এপ্রিল আম্বরখানা এলাকায় কলেজ প্রভাষক ও সাংবাদিক ওহী আলম রেজার তিন বছর বয়সি শিশুপুত্রকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। ১৩ মার্চ কুমারগাঁওয়ে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাটিও একই ধারার। এছাড়া হানিট্র্যাপের মাধ্যমে টাকা আদায় এবং ব্যর্থ হয়ে হত্যার মতো ঘটনাও সিলেটে বেড়েছে, যার উদাহরণ ২০২৪ সালের ১৮ জুন আম্বরখানা এলাকায় ৫তলা ভবন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনা।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার অভাবই পরিস্থিতির অবনতির মূল কারণ। তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম জানান, তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন এবং মামলাগুলোর তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor