ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১১ বছর ধরে বন্ধ এমআরআই, দিনাজপুর মেডিকেলে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিলাই শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য বিগত সরকারকে দায়ী করলেন রিজভী মাদারগঞ্জে আরও দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাপেক্স শিক্ষকদের বেতন সংকটে বন্ধ লামার মিরিঞ্জা প্রাথমিক বিদ্যালয় সিরাজগঞ্জে তিন মাদক মামলায় পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র বিতর্ক মানচিত্রে ‘লিটল ইতালি’ বাদ, নিউইয়র্কের তহবিল বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে রাশিয়ার জ্বালানি: পুতিন নারায়ণগঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ওয়ালটনের সাথে চুক্তি

লক্ষ্মীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট: দুর্ভোগের সুযোগে পরিবহন ভাড়া বাড়ার হিড়িক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



লক্ষ্মীপুরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে সড়কে চলাচলকারী গ্যাসচালিত গণপরিবহনগুলোর ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকরা। যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাধারণত ভাড়া একবার বাড়ানো হলে তা আর কমানোর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার সময়েও বাসাবাড়িতে অতিরিক্ত গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুত রাখতে হচ্ছে। কারণ দিনের একটি বড় সময় লাইনে গ্যাস থাকে না, যার ফলে সিলিন্ডারের ওপরই নির্ভর করতে হয়। এছাড়া গত দুই সপ্তাহে গ্যাস না পেয়ে অনেক পরিবারকে মাটির চুলায় রান্না করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, নোয়াখালীর কেন্দুরবাগ এলাকায় গ্যাস পাইপলাইন লিকেজের কারণে লক্ষ্মীপুরে টানা দুই দিন গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এ সময় অনেকের বাড়িতে রান্না না হওয়ায় হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, আবার অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করেছেন। পাইপলাইনের লিকেজ মেরামতের পর গত রবিবার রাত থেকে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এখনও দিনের অর্ধেক সময় গ্যাস থাকে না বলে গৃহিণীরা জানিয়েছেন।

শহরের সমসেরাবাদ, লামচরী, শাঁখারীপাড়া, লইয়ার্স কলোনি, মদিন উল্যাহ হাউজিং, মোবারক কলোনি, শিল্পী কলোনি, বাগবাড়ী, বাঞ্চানগর ও মজুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকালে গ্যাস পাওয়া গেলেও দুপুর ও বিকেলে তা উধাও হয়ে যায়। ফলে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে রান্নার কাজ শেষ করতে হচ্ছে গৃহিণীদের। সকালে একসঙ্গে সব কাজ সারতে গিয়ে তাদের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই ছিল না। কিছু এলাকায় গ্যাস থাকলেও চাপ এতটাই কম যে রান্না করা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে অনেকে অতিরিক্ত ব্যয় করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনছেন, আবার নিম্নআয়ের পরিবারগুলো খরচের চাপ সামলাতে না পেরে মাটির চুলা তৈরি করে রান্না করছেন, যা তাদের সংসারের খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

লামচরী এলাকার বাসিন্দা সাথী আক্তার ও মিলন আক্তার জানান, ফজরের আজানের পরপরই তাদের রান্না শুরু করতে হয়। দুপুরে গ্যাস না থাকায় খাবার গরম করার কোনো সুযোগ থাকে না, ফলে বাধ্য হয়ে ঠান্ডা খাবারই খেতে হয়। আবার সন্ধ্যা বা রাতে লাইনে গ্যাস আসে। লাইনের গ্যাসের কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় বাড়িতে বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস এনে রাখতে হচ্ছে। দালাল বাজার এলাকার বাসিন্দা মাসুদ আলম অভিযোগ করেন, গ্যাস সংকটের অজুহাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা ভাড়া ব্যাপক বাড়িয়ে দিয়েছেন। ৫ টাকার ভাড়া এখন ১৫ টাকা এবং ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিএনজি অটোরিকশাচালক রুবেল হোসেন ও জামাল উদ্দিন বলেন, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের গ্যাস নিতে হচ্ছে। এতে তাদের পুরো একটি দিনের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও গ্যাসের চাপ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যায় না। এ কারণেই তারা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লক্ষ্মীপুরের সহকারী প্রকৌশলী খোরশেদ আলম জানান, গ্যাস সংকট কেবল লক্ষ্মীপুরে নয়, সারা দেশেই ছিল। লক্ষ্মীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু গত কয়েকদিন তারা পেয়েছেন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার ঘনফুট। এর মধ্যে নোয়াখালীর কেন্দুরবাগ এলাকায় পাইপলাইন লিকেজের কারণে দুই দিন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে এবং খুব দ্রুতই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুরে তীব্র গ্যাস সংকট: দুর্ভোগের সুযোগে পরিবহন ভাড়া বাড়ার হিড়িক

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

লক্ষ্মীপুরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে সড়কে চলাচলকারী গ্যাসচালিত গণপরিবহনগুলোর ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন চালকরা। যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সাধারণত ভাড়া একবার বাড়ানো হলে তা আর কমানোর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার সময়েও বাসাবাড়িতে অতিরিক্ত গ্যাস সিলিন্ডার প্রস্তুত রাখতে হচ্ছে। কারণ দিনের একটি বড় সময় লাইনে গ্যাস থাকে না, যার ফলে সিলিন্ডারের ওপরই নির্ভর করতে হয়। এছাড়া গত দুই সপ্তাহে গ্যাস না পেয়ে অনেক পরিবারকে মাটির চুলায় রান্না করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, নোয়াখালীর কেন্দুরবাগ এলাকায় গ্যাস পাইপলাইন লিকেজের কারণে লক্ষ্মীপুরে টানা দুই দিন গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। এ সময় অনেকের বাড়িতে রান্না না হওয়ায় হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, আবার অনেকেই শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করেছেন। পাইপলাইনের লিকেজ মেরামতের পর গত রবিবার রাত থেকে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এখনও দিনের অর্ধেক সময় গ্যাস থাকে না বলে গৃহিণীরা জানিয়েছেন।

শহরের সমসেরাবাদ, লামচরী, শাঁখারীপাড়া, লইয়ার্স কলোনি, মদিন উল্যাহ হাউজিং, মোবারক কলোনি, শিল্পী কলোনি, বাগবাড়ী, বাঞ্চানগর ও মজুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকালে গ্যাস পাওয়া গেলেও দুপুর ও বিকেলে তা উধাও হয়ে যায়। ফলে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে রান্নার কাজ শেষ করতে হচ্ছে গৃহিণীদের। সকালে একসঙ্গে সব কাজ সারতে গিয়ে তাদের চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই ছিল না। কিছু এলাকায় গ্যাস থাকলেও চাপ এতটাই কম যে রান্না করা সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে অনেকে অতিরিক্ত ব্যয় করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনছেন, আবার নিম্নআয়ের পরিবারগুলো খরচের চাপ সামলাতে না পেরে মাটির চুলা তৈরি করে রান্না করছেন, যা তাদের সংসারের খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

লামচরী এলাকার বাসিন্দা সাথী আক্তার ও মিলন আক্তার জানান, ফজরের আজানের পরপরই তাদের রান্না শুরু করতে হয়। দুপুরে গ্যাস না থাকায় খাবার গরম করার কোনো সুযোগ থাকে না, ফলে বাধ্য হয়ে ঠান্ডা খাবারই খেতে হয়। আবার সন্ধ্যা বা রাতে লাইনে গ্যাস আসে। লাইনের গ্যাসের কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় বাড়িতে বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস এনে রাখতে হচ্ছে। দালাল বাজার এলাকার বাসিন্দা মাসুদ আলম অভিযোগ করেন, গ্যাস সংকটের অজুহাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা ভাড়া ব্যাপক বাড়িয়ে দিয়েছেন। ৫ টাকার ভাড়া এখন ১৫ টাকা এবং ২০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে সিএনজি অটোরিকশাচালক রুবেল হোসেন ও জামাল উদ্দিন বলেন, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের গ্যাস নিতে হচ্ছে। এতে তাদের পুরো একটি দিনের কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও গ্যাসের চাপ কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যায় না। এ কারণেই তারা ভাড়া বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লক্ষ্মীপুরের সহকারী প্রকৌশলী খোরশেদ আলম জানান, গ্যাস সংকট কেবল লক্ষ্মীপুরে নয়, সারা দেশেই ছিল। লক্ষ্মীপুরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু গত কয়েকদিন তারা পেয়েছেন মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার ঘনফুট। এর মধ্যে নোয়াখালীর কেন্দুরবাগ এলাকায় পাইপলাইন লিকেজের কারণে দুই দিন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে এবং খুব দ্রুতই পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy