ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাল কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী আইনের শাসন ও ক্ষমতার ভারসাম্য ছাড়া জুলাইয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে না: মান্না পঞ্চগড়ে বাংলাদেশি বৃদ্ধকে বিএসএফের নেওয়ার জেরে ভারতীয় নাগরিক আটক মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই: আসিফ নজরুল ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলে ঢোকার চেষ্টা শিবিরের, বকশীবাজারে উত্তেজনা পাবনায় পুলিশের কাছ থেকে গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতাকে ছিনতাই বিএম কলেজের মাঠে কচু গাছ লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতীকী প্রতিবাদ শেখ হাসিনাকে ভারতে বসে অস্থিরতা তৈরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াতের প্রদর্শনীতে উঠে এলো ছাত্রদল নেতা আবিদের জুলাইয়ের ভূমিকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আইনের শাসন ও ক্ষমতার ভারসাম্য ছাড়া জুলাইয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে না: মান্না

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ফ্যাসিবাদ যাতে আর কখনো ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো একক ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখা যাবে না।

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক সমাবেশ ও গণসংগীত অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন। জুলাইয়ের আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী আবু সাইদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদ এবং যারা চোখ, হাত বা পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। আন্দোলনের কিছু আশা পূরণ হলেও সামগ্রিক স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে উল্লেখ করে মান্না বলেন, সামনে ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচন আসছে, কিন্তু মানুষ সেখানে ভোট দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিচারহীনতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, বর্তমানে জমি দখল হয়ে গেলে মামলা করেও মানুষ তা ফেরত পায় না, কারণ দখলকারীরা অর্থ ও প্রভাব খাটায়। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য আইনের শাসন জরুরি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে কাজীর শাসনামলেও শাসককে বিচারের আওতায় এনে জরিমানা করার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু এখন বিচার বিভাগের সেই ক্ষমতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী যদি সবাইকে নিয়োগ দিতে পারেন, তবে তাদের চাকরি কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর হাতে থাকে। বিএনপি যদি এই ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের পদ্ধতি থেকে সরে না আসে, তবে তারও বিরোধিতা করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না বলেন, গত কয়েক মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং বর্তমান সরকার তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তিনি বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন প্রকল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এক বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় আছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের কথা কখন ভাবা হবে? দেশের এই অশান্ত পরিবেশ বহিঃশক্তির জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা হলে যারা আন্দোলন করেন, দেশের মানুষ অনাহারে মারা গেলে তাদের সেই ভূমিকা দেখা যায় না। মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে তাদের সোচ্চার হওয়া উচিত। তবে সরকারের কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ ভালো পদক্ষেপ। তবে এই সুবিধাগুলো প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাতে একটি কার্যকর ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে ধনী-গরিবের পার্থক্য না করে বিতরণের ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত না হন।

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার বলেন, বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছিল, তা কোনো একক গোষ্ঠীর ছিল না; বরং সমাজের সব স্তরের মানুষ এতে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আশা-আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন রাজা, কেন্দ্রীয় সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুস সালাম, নারী ঐক্যের আহ্বায়ক শাহনাজ রানু, সদস্য সচিব ফেরদৌসি আক্তার, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী এবং সদস্য সচিব তানভীর ইসলাম স্বাধীন। সমাবেশ শেষে শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধ, জুলাইয়ের আন্দোলন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বিভিন্ন গণসংগীত পরিবেশন করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

আইনের শাসন ও ক্ষমতার ভারসাম্য ছাড়া জুলাইয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে না: মান্না

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
print news

দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। ফ্যাসিবাদ যাতে আর কখনো ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, কোনো একক ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত রাখা যাবে না।

শনিবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক সমাবেশ ও গণসংগীত অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন। জুলাইয়ের আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী আবু সাইদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদ এবং যারা চোখ, হাত বা পা হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। আন্দোলনের কিছু আশা পূরণ হলেও সামগ্রিক স্বপ্ন এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে উল্লেখ করে মান্না বলেন, সামনে ইউনিয়ন ও উপজেলা নির্বাচন আসছে, কিন্তু মানুষ সেখানে ভোট দিতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিচারহীনতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, বর্তমানে জমি দখল হয়ে গেলে মামলা করেও মানুষ তা ফেরত পায় না, কারণ দখলকারীরা অর্থ ও প্রভাব খাটায়। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য আইনের শাসন জরুরি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে কাজীর শাসনামলেও শাসককে বিচারের আওতায় এনে জরিমানা করার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু এখন বিচার বিভাগের সেই ক্ষমতা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী যদি সবাইকে নিয়োগ দিতে পারেন, তবে তাদের চাকরি কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতাও তাঁর হাতে থাকে। বিএনপি যদি এই ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের পদ্ধতি থেকে সরে না আসে, তবে তারও বিরোধিতা করা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না বলেন, গত কয়েক মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং বর্তমান সরকার তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তিনি বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন প্রকল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এক বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় আছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া, ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের কথা কখন ভাবা হবে? দেশের এই অশান্ত পরিবেশ বহিঃশক্তির জন্য সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে হামলা হলে যারা আন্দোলন করেন, দেশের মানুষ অনাহারে মারা গেলে তাদের সেই ভূমিকা দেখা যায় না। মানুষের মৌলিক অধিকার ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে তাদের সোচ্চার হওয়া উচিত। তবে সরকারের কিছু উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কৃষকদের ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ ভালো পদক্ষেপ। তবে এই সুবিধাগুলো প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছাতে একটি কার্যকর ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে ধনী-গরিবের পার্থক্য না করে বিতরণের ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত না হন।

সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ্ কায়সার বলেন, বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন হয়েছিল, তা কোনো একক গোষ্ঠীর ছিল না; বরং সমাজের সব স্তরের মানুষ এতে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের আশা-আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন রাজা, কেন্দ্রীয় সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুস সালাম, নারী ঐক্যের আহ্বায়ক শাহনাজ রানু, সদস্য সচিব ফেরদৌসি আক্তার, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফজলে রাব্বী এবং সদস্য সচিব তানভীর ইসলাম স্বাধীন। সমাবেশ শেষে শিল্পীরা মুক্তিযুদ্ধ, জুলাইয়ের আন্দোলন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে বিভিন্ন গণসংগীত পরিবেশন করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin