কাফরুলে যুবদল কর্মী হত্যায় জড়িত কালীগঞ্জের চারজন, বিএনপির মিছিলেও উপস্থিতি

- আপডেট সময় : ১০:০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চারজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় চার যুবকের নাম জড়িয়ে পড়ায় পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া বিভাগ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন নাহিদ হাসান (২১), শাফিন আহমেদ (২২), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), আলী হোসেন (৪৫), জিহাদ মোল্লা (৩০), মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও আবির হাওলাদার (২৫)। এছাড়া হাসান নামে আরও একজন পলাতক রয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, কালীগঞ্জের রাড়ীপাড়া গ্রামের চঞ্চল মোল্লা, একই গ্রামের মাসুম বিল্লাহ, কৃষ্ণপুর গ্রামের জিহাদ মোল্লা এবং দামোদারপুর গ্রামের হাসান আলী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এদের মধ্যে হাসান আলী স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হাফিজুর রহমানকে খুনী হিসেবে ভাড়া করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পলাতক হাসান আলী এবং গ্রেফতারকৃত মাসুম বিল্লাহ এর আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমপি আনার কলকাতায় নিহত হওয়ার পর তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিনের সঙ্গে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন হাসান আলী। চলতি বছরের ২২ মে এমপি আনারের বাসভবনের নিচে ডরিনের সঙ্গে হাসান আলীর ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও থেকে দেখা যায়, ৫ আগস্টের পর মাসুম বিল্লাহ কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাকে স্থানীয় বিএনপি নেতা হামিদুল ইসলাম ও মাহাবুবুর রহমান মিলনের সঙ্গে বিক্ষোভ সমাবেশে দেখা গেছে। এমনকি হাসান আলীকেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে। কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ডে মাহাবুবুর রহমান মিলনের বক্তব্যের সময় মাসুমকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া হামিদুল ইসলামের সঙ্গে মাসুম বিল্লাহর হাত মিলিয়ে হাঁটার ভিডিও চিত্রও ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে জিহাদ মোল্লা ও চঞ্চল মোল্লা এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অতীতে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, তারা এলাকায় চুরি-ডাকাতির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। অভিযুক্তদের বিএনপির সম্পৃক্ততা নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি মাসুমকে চেনেন না এবং অভিযুক্তরা বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে নেই। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।




























