ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

মাতারবাড়ীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে চীনা কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার অনুমোদন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মাতারবাড়ীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (সিএনইই) কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। মঙ্গলবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে।

মাতারবাড়ীতে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ কার্যকর রয়েছে, যার একটি সামিট গ্রুপের এবং অন্যটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে দেশে গ্যাস সংকট নিরসনে তৃতীয় আরেকটি টার্মিনাল বসানোর পরিকল্পনা করে আসছিল জ্বালানি বিভাগ। এর আগে সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি হলেও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার তা বাতিল করে দেয়। এছাড়া গত মার্চ মাসে সৌদি কোম্পানি আরামকোর সঙ্গেও আলোচনা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে জিটুজি পদ্ধতিতে টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে ১২টি দেশ ও কোম্পানির কাছে প্রস্তাব চাওয়া হলেও সেই প্রক্রিয়াটি মাঝপথে স্থগিত রাখা হয়েছিল।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই সিএনইই তাদের আগ্রহের কথা জানিয়ে জ্বালানি বিভাগে প্রস্তাব জমা দেয়। তাদের ভাষ্যমতে, প্রকল্পটির কাজ পাওয়ার ২২ মাসের মধ্যে তারা টার্মিনাল স্থাপনে সক্ষম হবে। তবে তাদের কাছে বর্তমানে কোনো ভাসমান টার্মিনাল বা জাহাজ প্রস্তুত নেই এবং এটি তৈরিতে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন। কোনো ধরনের দরপত্র বা প্রতিযোগিতা ছাড়াই জিটুজি পদ্ধতিতে কাজ পেতে আগ্রহী সিএনইই। গত সোমবার চীনা দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিভাগ জ্বালানি বিভাগকে এক চিঠিতে জানায়, সিএনইই একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে তাদের বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই চীন সরকার তাদের কাজ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করছে।

এই সুপারিশ পাওয়ার পরই জ্বালানি বিভাগ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর ৯৯(২) ও ১০৭(২) বিধি অনুসরণ করে মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ পাঠায়। মাতারবাড়ীতে এই টার্মিনাল স্থাপনে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টার্মিনালটি চালু হলে দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেশে দুটি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা থাকলেও, ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে মাত্র ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে, যা সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের সৃষ্টি করেছে। ২১ জুলাইয়ের আগে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে ২১৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। তবে আগামী ১ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনালটি আংশিক চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার একই মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরাসরি ক্রয়নীতিমালার আওতায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার ২০টি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

মাতারবাড়ীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে চীনা কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার অনুমোদন

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মাতারবাড়ীতে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (সিএনইই) কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। চীন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। মঙ্গলবার অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে।

মাতারবাড়ীতে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ কার্যকর রয়েছে, যার একটি সামিট গ্রুপের এবং অন্যটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে দেশে গ্যাস সংকট নিরসনে তৃতীয় আরেকটি টার্মিনাল বসানোর পরিকল্পনা করে আসছিল জ্বালানি বিভাগ। এর আগে সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি হলেও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার তা বাতিল করে দেয়। এছাড়া গত মার্চ মাসে সৌদি কোম্পানি আরামকোর সঙ্গেও আলোচনা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে জিটুজি পদ্ধতিতে টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে ১২টি দেশ ও কোম্পানির কাছে প্রস্তাব চাওয়া হলেও সেই প্রক্রিয়াটি মাঝপথে স্থগিত রাখা হয়েছিল।

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, গত ২৬ জুলাই সিএনইই তাদের আগ্রহের কথা জানিয়ে জ্বালানি বিভাগে প্রস্তাব জমা দেয়। তাদের ভাষ্যমতে, প্রকল্পটির কাজ পাওয়ার ২২ মাসের মধ্যে তারা টার্মিনাল স্থাপনে সক্ষম হবে। তবে তাদের কাছে বর্তমানে কোনো ভাসমান টার্মিনাল বা জাহাজ প্রস্তুত নেই এবং এটি তৈরিতে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন। কোনো ধরনের দরপত্র বা প্রতিযোগিতা ছাড়াই জিটুজি পদ্ধতিতে কাজ পেতে আগ্রহী সিএনইই। গত সোমবার চীনা দূতাবাসের বাণিজ্যিক বিভাগ জ্বালানি বিভাগকে এক চিঠিতে জানায়, সিএনইই একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে তাদের বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই চীন সরকার তাদের কাজ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করছে।

এই সুপারিশ পাওয়ার পরই জ্বালানি বিভাগ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর ৯৯(২) ও ১০৭(২) বিধি অনুসরণ করে মন্ত্রিসভা কমিটির কাছে অনুমোদনের জন্য সারসংক্ষেপ পাঠায়। মাতারবাড়ীতে এই টার্মিনাল স্থাপনে প্রায় ৪৫ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টার্মিনালটি চালু হলে দৈনিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেশে দুটি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা থাকলেও, ২১ জুলাই এক্সিলারেটের টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে মাত্র ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে, যা সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকটের সৃষ্টি করেছে। ২১ জুলাইয়ের আগে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে ২১৩ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। তবে আগামী ১ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনালটি আংশিক চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার একই মন্ত্রিসভা বৈঠকে সরাসরি ক্রয়নীতিমালার আওতায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কেনার ২০টি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor