ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার প্রথম সড়ক সেতু নির্মাণ শেষ পর্যায়ে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সড়ক সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত তুমেন নদীর ওপর নির্মিত ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৭ মিটার চওড়া এই দুই লেনের সেতুটি রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের খাসান অঞ্চলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার তুমংগাং শহরকে সরাসরি যুক্ত করেছে। উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের নির্মাণ কাজ আগেই শেষ করলেও রাশিয়ার অংশে কাস্টমস ও কোয়ারেন্টাইন তল্লাশি চৌকির কাজ কিছুটা বাকি থাকায় এখনও সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

বাণিজ্য ও পর্যটন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। ইউক্রেনীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘ট্রুথ হাউন্ডস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মূলত উপগ্রহের নজরদারি এড়িয়ে গোপনে সামরিক রসদ এবং সেনা স্থানান্তরের কাজে ব্যবহারের জন্য এই সেতুটি তৈরি করা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় সংস্থার গবেষক নজর মিহুন জানান, রেলপথে পণ্য পরিবহন করলে উপগ্রহের সাহায্যে ট্রেনের বগি এবং পণ্যের ধরন সহজেই শনাক্ত করা যায়। তবে সাধারণ সড়কপথে ট্রাকে করে দ্রুত ও গোপনে মালামাল ওঠানামা করানো সহজ এবং সামরিক রসদ ঢেকে রাখাও সুবিধাজনক। মূলত স্যাটেলাইট নজরদারি ফাঁকি দিতেই দুই দেশ রেলপথের পাশে এই সড়ক সংযোগ গড়ে তুলেছে।

অবশ্য রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রে নিকিতিন এই সেতুটিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে দাবি করেছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাও এটিকে পর্যটন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুনে ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবেই এই কৌশলগত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে উত্তর কোরিয়া আরও ৩০,০০০ সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ১৪,০০০-এর বেশি উত্তর কোরীয় সেনা লড়াই করছে, যাদের মধ্যে অন্তত দুই হাজার সেনা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নতুন এই সড়ক সেতুটি কেবল পণ্য পরিবহনের জন্য নয়, বরং ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা ও রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদানের একটি নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার প্রথম সড়ক সেতু নির্মাণ শেষ পর্যায়ে

আপডেট সময় : ০২:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সড়ক সেতু নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত তুমেন নদীর ওপর নির্মিত ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৭ মিটার চওড়া এই দুই লেনের সেতুটি রাশিয়ার দূর প্রাচ্যের খাসান অঞ্চলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার তুমংগাং শহরকে সরাসরি যুক্ত করেছে। উত্তর কোরিয়া তাদের অংশের নির্মাণ কাজ আগেই শেষ করলেও রাশিয়ার অংশে কাস্টমস ও কোয়ারেন্টাইন তল্লাশি চৌকির কাজ কিছুটা বাকি থাকায় এখনও সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।

বাণিজ্য ও পর্যটন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে প্রায় ১০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। ইউক্রেনীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘ট্রুথ হাউন্ডস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মূলত উপগ্রহের নজরদারি এড়িয়ে গোপনে সামরিক রসদ এবং সেনা স্থানান্তরের কাজে ব্যবহারের জন্য এই সেতুটি তৈরি করা হচ্ছে। ইউক্রেনীয় সংস্থার গবেষক নজর মিহুন জানান, রেলপথে পণ্য পরিবহন করলে উপগ্রহের সাহায্যে ট্রেনের বগি এবং পণ্যের ধরন সহজেই শনাক্ত করা যায়। তবে সাধারণ সড়কপথে ট্রাকে করে দ্রুত ও গোপনে মালামাল ওঠানামা করানো সহজ এবং সামরিক রসদ ঢেকে রাখাও সুবিধাজনক। মূলত স্যাটেলাইট নজরদারি ফাঁকি দিতেই দুই দেশ রেলপথের পাশে এই সড়ক সংযোগ গড়ে তুলেছে।

অবশ্য রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী আন্দ্রে নিকিতিন এই সেতুটিকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে দাবি করেছেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাও এটিকে পর্যটন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুনে ভ্লাদিমির পুতিন ও কিম জং উনের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবেই এই কৌশলগত অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে উত্তর কোরিয়া আরও ৩০,০০০ সৈন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ১৪,০০০-এর বেশি উত্তর কোরীয় সেনা লড়াই করছে, যাদের মধ্যে অন্তত দুই হাজার সেনা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নতুন এই সড়ক সেতুটি কেবল পণ্য পরিবহনের জন্য নয়, বরং ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা ও রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদানের একটি নিরাপদ করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin