অভিনেত্রী স্নিগ্ধাকে মারধরের মামলায় জামিন পেলেন আশিয়ান গ্রুপের নজরুল

- আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

মডেল ও অভিনেত্রী মোছা. ইসরাত জাহান ওরফে স্নিগ্ধা চৌধুরীর দায়ের করা মারধর ও হত্যাচেষ্টার মামলায় জামিন পেয়েছেন আশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় মেডিকেল রিপোর্ট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তাকে জামিন প্রদান করেন। আসামিপক্ষের হয়ে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আরাফাত মোস্তফা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৪ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে ইমন নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে আশিয়ান গ্রুপের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হওয়ার বিষয়ে ১৬ লাখ টাকার একটি চুক্তি করেন স্নিগ্ধা। ওইদিন রাত ৮টার দিকে খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফুট এলাকায় অবস্থিত আশিয়ান মেডিকেল কলেজে নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে মিটিং করতে যান তিনি। স্নিগ্ধার মা তাকে সেখানে পৌঁছে দিয়ে বাসায় ফিরে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, মা চলে যাওয়ার পর নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোকে আমি ৬ মাস যাবৎ খুঁজতেছি, তুই আমার টাকায় অন্য ব্যাটাকে সঙ্গে নিয়ে বাসার পর্দা কিনেছিস।’ স্নিগ্ধা তাকে ভুল বোঝাবুঝির কথা বলে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে তিনি জেবা টাকিয়া নন, কিন্তু নজরুল ইসলাম তা মানতে নারাজ ছিলেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় ইমন নামে ওই ব্যক্তি স্নিগ্ধাকে ইশারায় নজরুল ইসলামের কথা মেনে নিতে বলেন। এরপর নজরুল ইসলাম একটি শর্টগান বের করে তাকে গুলির হুমকি দেন। এক পর্যায়ে তার হাত-পা বেঁধে সোফার ওপর ফেলে দিয়ে গলা চেপে ধরেন এবং লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫০ থেকে ৬০টি আঘাত করেন। স্নিগ্ধাকে চুল ধরে মেঝেতে টেনে-হেঁচড়া করা হয়। নজরুল ইসলাম তার পিএসকে দিয়ে জোর করে তাকে কফি খাওয়াতে চাইলে স্নিগ্ধা অস্বীকৃতি জানান, যার ফলে গরম কফি তার মুখের ওপর ঢেলে দেওয়া হয়।
নজরুল ইসলাম কাঁচি হাতে নিয়ে তার চেহারা নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং তাকে ‘জেবা টাকিয়া’ বলে সম্বোধন করেন। স্নিগ্ধা বারবার তার পরিচয় স্পষ্ট করার চেষ্টা করলেও নজরুল ইসলাম তাকে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অন্য পুরুষের সঙ্গে সংসার করার অভিযোগ তোলেন। তাকে দুই ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় মারধর করা হয় এবং জোর করে মদের সঙ্গে ওষুধজাতীয় কিছু পান করানো হয়। পরে নজরুল ইসলাম অন্য কক্ষে চলে গেলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্নিগ্ধা ভবনের প্রথম তলার বারান্দা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে বাসায় ফেরেন। ঘটনার পরদিন তিনি অচেতন ছিলেন এবং ২৬ জুলাই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এরপর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।



























