ঢাকা ০৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আনোয়ারায় চায়না ইকোনমিক জোন বাংলাদেশের শিল্পায়নে নতুন যুগের সূচনা সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী বিহারের সিওয়ানে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের একে-৪৭ দিয়ে গুলি, কনস্টেবল বরখাস্ত গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে: জ্বালানিমন্ত্রী সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ইরাক থেকে ড্রোন হামলা ঢাবি ছাত্রী হলে সান্ধ্য আইন বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম ৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি তিন শর্তে লাইসেন্স ফিরে পেল মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল আর্মি স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে আলোচনা দল টিকিয়ে রাখার কৌশল: পার্থ

ঘণ্টার হিসেবে ভাড়ায় মিলছে ‘বয়ফ্রেন্ড’, জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন ব্যবসা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ট্যাক্সি, ফিটনেস প্রশিক্ষক বা ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার বুক করার মতোই এখন ঘণ্টা হিসেবে ‘বয়ফ্রেন্ড’ ভাড়া করার সেবা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতেও একটি বাস্তব ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে। একসময় যা কেবল জাপানি নাটকের কল্পকাহিনি বলে মনে হতো, তা এখন ফেসবুক গ্রুপ, ইনস্টাগ্রাম পেজ, সঙ্গী খোঁজার অ্যাপ এবং অনলাইন প্রোফাইলভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব প্ল্যাটফর্মে ‘মুভি পার্টনার’, ‘শপিং বাডি’ এমনকি ‘মেডিক্যাল সাপোর্ট কম্প্যানিয়ন’ হিসেবেও সেবা দেয়ার বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে।

এই ব্যবসার মূল শিকড় ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের জাপানি ‘রেন্টাল পারসন’ অর্থনীতিতে। তখন অর্থের বিনিময়ে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, শ্রোতা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে সঙ্গী ভাড়া করার প্রচলন শুরু হয়। এর মূল ধারণাটি ছিল সহজ—বাস্তব জীবনে কোনো সামাজিক পরিস্থিতি অস্বস্তিকর বা জটিল হয়ে উঠলে কয়েক ঘণ্টার জন্য একজন মানুষকে নির্দিষ্ট একটি সামাজিক ভূমিকায় ভাড়া নেয়া। ২০১০-এর দশকের শুরুতে এটি ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’ ও ‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’ নামে পরিচিতি পায়।

জাপানি সংস্কৃতিতে ভদ্রতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যের ওপর ব্যক্তিগত সমস্যা চাপিয়ে না দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। ফলে অনেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত একটি সম্পর্কের মধ্যে নিজের কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একা বসবাসকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যস্ত কর্মজীবন, শহুরে একাকীত্ব এবং চাপমুক্ত সামাজিক যোগাযোগের চাহিদার কারণে এটি আধুনিক একাকীত্বের একটি বাস্তব সমাধান হিসেবে দেখা শুরু হয়। টোকিওতে একজন রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড বুক করতে সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার ইয়েন (প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপি) খরচ হয়। খাবার, ভ্রমণ ও অন্যান্য কার্যক্রম যুক্ত হলে খরচ আরও বেড়ে যায়।

ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট হিসেবে এই সেবা প্রচার পাওয়ায় এটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। ইউটিউবারদের ভিডিওতে দেখা যায়, ঘণ্টার হিসেবে প্রায় ১০০ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপি) পরিশোধ করে সঙ্গীরা একসঙ্গে ছবি তোলা, হাত ধরে হাঁটা বা দুপুরের খাবার খাওয়ার মতো সেবা দিচ্ছেন। একজন রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড ভাইরাল ভিডিওতে জানান, তিনি প্রতি মাসে প্রায় ১০ জন বা তার বেশি গ্রাহকের সঙ্গে দেখা করেন, যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সদ্য বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারী এবং বিবাহিত নারীরাও রয়েছেন।

তবে এসব সেবায় যৌন কার্যকলাপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অধিকাংশ সংস্থারই কঠোর নিয়ম রয়েছে—কোনো ধরনের যৌন কার্যকলাপ নয়, হোটেল কক্ষে যাওয়া যাবে না, নির্জন স্থানে দেখা করা যাবে না এবং রাতযাপন করা যাবে না। সব সময় ভদ্র আচরণ করতে হবে। এই সেবায় অর্থের বিনিময়ে মূলত সময়, কথোপকথন, মনোযোগ ও সঙ্গ পাওয়া যায়।

ভারতে জাপানের মতো একই মডেল অনুসরণ না করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে। এনডিটিভি তাদের অনুসন্ধানে দেখেছে, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে পুরুষরা নিজেদের ‘রেন্টেড বয়ফ্রেন্ড’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। ‘কো-পার্টনার’ নামের একটি ওয়েবসাইট নিজেদের ‘প্রফেশনাল সোশ্যাল সাপোর্ট সার্ভিস’ হিসেবে পরিচয় দেয়। সেখানে একসঙ্গে সময় কাটানো বা সিনেমা দেখার জন্য ঘণ্টায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ রুপি পর্যন্ত ফি নির্ধারিত রয়েছে। যদিও প্ল্যাটফর্মটি ‘ডেট’ বা ‘বয়ফ্রেন্ড’ শব্দ এড়িয়ে চলে, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলোকে ব্যাপকভাবে ‘রেন্ট-এ-বয়ফ্রেন্ড’ বা ‘রেন্ট-এ-গার্লফ্রেন্ড’ সেবা হিসেবেই প্রচার করা হচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামে ‘রেন্ট ইওর ওন বয়ফ্রেন্ড ইন্ডিয়া’ নামের একটি পেজে ১০ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে, যেখানে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও আকর্ষণীয় ক্যাপশনের মাধ্যমে সেবা প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া কিছু ব্যবহারকারী টিন্ডার প্রোফাইলেও ‘অ্যাভেইলেবল ফর ইভেন্টস’ বা ‘পেইড কোম্পানি অনলি’-এর মতো বাক্য ব্যবহার করছেন। সেবা প্রদানকারীদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা তরুণ পেশাজীবী, যারা অতিরিক্ত আয়ের জন্য এই কাজ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই ঘণ্টার জন্য একজন শপিং সঙ্গী বুক করা মানেই প্রেমের সম্পর্ক খোঁজা নয়; বরং এটি আধুনিক একাকীত্বের একটি গিগ ইকোনমি। বর্তমানে ভারতে এই ব্যবসা এখনও বিচ্ছিন্ন এবং বড় কোনো নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় নেই।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ঘণ্টার হিসেবে ভাড়ায় মিলছে ‘বয়ফ্রেন্ড’, জনপ্রিয় হচ্ছে নতুন ব্যবসা

আপডেট সময় : ০৬:১৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
print news

ট্যাক্সি, ফিটনেস প্রশিক্ষক বা ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার বুক করার মতোই এখন ঘণ্টা হিসেবে ‘বয়ফ্রেন্ড’ ভাড়া করার সেবা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ভারতেও একটি বাস্তব ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে। একসময় যা কেবল জাপানি নাটকের কল্পকাহিনি বলে মনে হতো, তা এখন ফেসবুক গ্রুপ, ইনস্টাগ্রাম পেজ, সঙ্গী খোঁজার অ্যাপ এবং অনলাইন প্রোফাইলভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব প্ল্যাটফর্মে ‘মুভি পার্টনার’, ‘শপিং বাডি’ এমনকি ‘মেডিক্যাল সাপোর্ট কম্প্যানিয়ন’ হিসেবেও সেবা দেয়ার বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে।

এই ব্যবসার মূল শিকড় ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকের জাপানি ‘রেন্টাল পারসন’ অর্থনীতিতে। তখন অর্থের বিনিময়ে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়, শ্রোতা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে সঙ্গী ভাড়া করার প্রচলন শুরু হয়। এর মূল ধারণাটি ছিল সহজ—বাস্তব জীবনে কোনো সামাজিক পরিস্থিতি অস্বস্তিকর বা জটিল হয়ে উঠলে কয়েক ঘণ্টার জন্য একজন মানুষকে নির্দিষ্ট একটি সামাজিক ভূমিকায় ভাড়া নেয়া। ২০১০-এর দশকের শুরুতে এটি ‘রেন্টাল গার্লফ্রেন্ড’ ও ‘রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড’ নামে পরিচিতি পায়।

জাপানি সংস্কৃতিতে ভদ্রতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যের ওপর ব্যক্তিগত সমস্যা চাপিয়ে না দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। ফলে অনেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত একটি সম্পর্কের মধ্যে নিজের কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একা বসবাসকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, ব্যস্ত কর্মজীবন, শহুরে একাকীত্ব এবং চাপমুক্ত সামাজিক যোগাযোগের চাহিদার কারণে এটি আধুনিক একাকীত্বের একটি বাস্তব সমাধান হিসেবে দেখা শুরু হয়। টোকিওতে একজন রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড বুক করতে সাধারণত প্রতি ঘণ্টায় ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার ইয়েন (প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপি) খরচ হয়। খাবার, ভ্রমণ ও অন্যান্য কার্যক্রম যুক্ত হলে খরচ আরও বেড়ে যায়।

ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভ্রমণবিষয়ক কনটেন্ট হিসেবে এই সেবা প্রচার পাওয়ায় এটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায়। ইউটিউবারদের ভিডিওতে দেখা যায়, ঘণ্টার হিসেবে প্রায় ১০০ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫০০ ভারতীয় রুপি) পরিশোধ করে সঙ্গীরা একসঙ্গে ছবি তোলা, হাত ধরে হাঁটা বা দুপুরের খাবার খাওয়ার মতো সেবা দিচ্ছেন। একজন রেন্টাল বয়ফ্রেন্ড ভাইরাল ভিডিওতে জানান, তিনি প্রতি মাসে প্রায় ১০ জন বা তার বেশি গ্রাহকের সঙ্গে দেখা করেন, যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সদ্য বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারী এবং বিবাহিত নারীরাও রয়েছেন।

তবে এসব সেবায় যৌন কার্যকলাপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। অধিকাংশ সংস্থারই কঠোর নিয়ম রয়েছে—কোনো ধরনের যৌন কার্যকলাপ নয়, হোটেল কক্ষে যাওয়া যাবে না, নির্জন স্থানে দেখা করা যাবে না এবং রাতযাপন করা যাবে না। সব সময় ভদ্র আচরণ করতে হবে। এই সেবায় অর্থের বিনিময়ে মূলত সময়, কথোপকথন, মনোযোগ ও সঙ্গ পাওয়া যায়।

ভারতে জাপানের মতো একই মডেল অনুসরণ না করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে এই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে। এনডিটিভি তাদের অনুসন্ধানে দেখেছে, ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে পুরুষরা নিজেদের ‘রেন্টেড বয়ফ্রেন্ড’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। ‘কো-পার্টনার’ নামের একটি ওয়েবসাইট নিজেদের ‘প্রফেশনাল সোশ্যাল সাপোর্ট সার্ভিস’ হিসেবে পরিচয় দেয়। সেখানে একসঙ্গে সময় কাটানো বা সিনেমা দেখার জন্য ঘণ্টায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ রুপি পর্যন্ত ফি নির্ধারিত রয়েছে। যদিও প্ল্যাটফর্মটি ‘ডেট’ বা ‘বয়ফ্রেন্ড’ শব্দ এড়িয়ে চলে, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এগুলোকে ব্যাপকভাবে ‘রেন্ট-এ-বয়ফ্রেন্ড’ বা ‘রেন্ট-এ-গার্লফ্রেন্ড’ সেবা হিসেবেই প্রচার করা হচ্ছে।

ইনস্টাগ্রামে ‘রেন্ট ইওর ওন বয়ফ্রেন্ড ইন্ডিয়া’ নামের একটি পেজে ১০ হাজারের বেশি অনুসারী রয়েছে, যেখানে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও আকর্ষণীয় ক্যাপশনের মাধ্যমে সেবা প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া কিছু ব্যবহারকারী টিন্ডার প্রোফাইলেও ‘অ্যাভেইলেবল ফর ইভেন্টস’ বা ‘পেইড কোম্পানি অনলি’-এর মতো বাক্য ব্যবহার করছেন। সেবা প্রদানকারীদের অধিকাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা তরুণ পেশাজীবী, যারা অতিরিক্ত আয়ের জন্য এই কাজ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই ঘণ্টার জন্য একজন শপিং সঙ্গী বুক করা মানেই প্রেমের সম্পর্ক খোঁজা নয়; বরং এটি আধুনিক একাকীত্বের একটি গিগ ইকোনমি। বর্তমানে ভারতে এই ব্যবসা এখনও বিচ্ছিন্ন এবং বড় কোনো নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় নেই।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin