গ্যাস সংকট স্বাভাবিক হতে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে: জ্বালানিমন্ত্রী

- আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে চলমান গ্যাস সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘নেভিগেটিং গ্লোবাল শিফটস: ফস্টারিং এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস) আয়োজিত এই বৈঠকে সরকারি ও বেসরকারি নীতিনির্ধারকেরা অংশ নেন।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মজুত ও পুনঃ গ্যাসীকরণ ইউনিটে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলএনজি খালাস ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে এফএসআরইউ মেরামতের কাজ চলছে। এই বিভ্রাটের কারণে দুটি এলএনজি কার্গো খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাসাবাড়ির রান্নার গ্যাসের চাপ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর।
উল্লেখ্য, মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে, যার একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি এবং অন্যটি সামিট। গত মঙ্গলবার এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে এলএনজি থেকে দিনে ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও বৃহস্পতিবার তা ৫৬ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে এবং রোববার তা ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। বর্তমানে মোট গ্যাস সরবরাহ ২১৫ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এলএনজি ও এলপিজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, যার ব্যয় গত ছয় মাসে প্রায় ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে, যা পরিশোধে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, নতুন নীতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগস্ট মাসের মধ্যেই দর-কষাকষি ও জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
যদিও দিনে ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে এত দিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল।


























